• শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জাতীয় কবি নজরুলের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সময়ের দাবি

  শাহ্ মোঃ সফিনূর

২৭ আগস্ট ২০২৩, ১৭:৪১
ইউএস- বাংলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম

“আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে “, শোষিত-নিপীড়িত মানুষের বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীপ্ত শিখার মতো ক্ষোভ জ্বলে উঠতো জাতীয় কবি নজরুলের কণ্ঠ। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সোচ্চার। তার লেখনী কাঁপিয়ে দিত শাসকের চেয়ার। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ তথা বাঙালি ভাষাভাষী সকলের জন্য অমূল্য সম্পদ।

জাতীয় কবিকে নিয়ে যখন আমি একটু তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করি, নিজেই স্তম্ভিত হয়ে যাই! কাজী নজরুল ইসলামকে মৌখিকভাবে জাতীয় কবি হিসেবে রাখা হয়েছে । শতকরা ৯০% বাঙালি জানে না যে, কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে গেজেট পাশ করা হয়নি। একটি জরীপে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও জানেন না কাজী নজরুল ইসলাম মৌখিক ভাবেই জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত। ১৯২৯ সালে ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কবিকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষনা দেন। ২০২২ সালে ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের দশজন আইনজীবী কবি'র গেজেট নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন অদ‍্যবধি সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ‍্যমান কোন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশের সম্মানিত রাষ্ট্রপতি , প্রধানমন্ত্রী মহোদয় যুগেযুগে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন - মৃত্যু বার্ষিকীতে কবিকে " জাতীয় কবি " হিসেবে বাণী দিয়েছেন। সুতরাং কাজী নজরুল ইসলামকে গেজেট প্রকাশ করে জাতীয় কবির স্বীকৃতি প্রদান করা অত্যন্ত জরুরী। মানুষের কবি, বিদ্রোহী কবি , সাম‍্যের কবি ' কে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সম্মান দেখাতে হবে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারত হতে কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসেন কিন্তু দুঃখের বিষয় পরবর্তী সময়ে গেজেট পাশ করার কোন অগ্রগতি হয়নি। একটি দলিল থাকা একান্ত দরকার । অলিখিত ইতিহাস ও তথ‍্য সময়ের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যায় । তাছাড়া বিভিন্ন দেশের কবি-সাহিত্যিক যখন বাংলাদেশে সফরে আসবেন অথবা সফরে আসার পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘর অথবা নজরুল ইনস্টিটিউটে যাবেন, তখন দেখতে চান যদি বলেন কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির সম্মাননা দলিল, আমরা কীভাবে বলবো এই পর্যটককে? আমরা কী বলবো মৌখিকভাবে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম!

'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ' মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় ও আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কালজয়ী গান। এই গানটি বাঙালি মুসলমানের ঈদ উৎসবের আবশ্যকীয় একটি অংশ। এই কালজয়ী গান ঈদের দিন মুসলমানের ঘরে ঘরে সকলের কন্ঠে বেজে উঠে ঈদের আনন্দমাত্রা বাড়িয়ে দেয় । সনাতনী আধ্যাত্মিক কৃষ্টি সমুন্নত সৃষ্টিসহ কবির কলমে বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' লেখা হয় এই কবিকে আমরা মৌখিকভাবে জাতীয় কবি না বলে গেজেট প্রকাশ করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি । কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি রচনা করেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী'সহ বন্দিদশায় তাঁর হাতে সৃষ্টি হয়েছে গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ অসংখ্য লেখা। কবি ২৩ বছরে শিল্প-সাহিত্যকে যা দিয়েছেন বাঙালি জাতির জন্য অমূল্য সম্পদ । কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিতাড়িত করার জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁর লেখনীয় শক্তি দ্বারা ।বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং আমাদের জাতীয় কবিকে গেজেট হিসেবে জাতীয় কবির স্বীকৃতি প্রদান করার জন‍্য সরকারি দপ্তরে কবি সংগঠনের পক্ষ থেকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি ।

লেখক: কবি ও প্রতিষ্ঠাতা ইউএস- বাংলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড