• বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ব্যবসায়ীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বনাম মুনাফালোভী চরিত্র 

  মাহবুব আলম প্রিয়

১১ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৫
ব্যবসা

ব্যবসা হচ্ছে ধর্মে ও কর্মে জীবিকা নির্ধারণের হালাল পন্থা। এ হালাল পন্থায় যেমন জীবিকা অর্জন হয় তেমনি হয় মানবিক সেবা। ব্যবসা যেমন ব্যবসায়ীর জীবিকা অর্জনের উত্তম পথ। তেমনি এটি জনসেবা। মানবসেবা বটে। বাস্তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীদের মাঝে অতি মুনাফার লোভ,মজুদদারী চিন্তা, সিন্ডিকেট গড়া, আর বাজার দখলের মতো জঘন্য অপরাধ দেখি। আবার অতি মুনাফার লোভে পণ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে সমাজকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়। তারা মুনাফার লোভে নিজের ব্যাংক ব্যালেঞ্ছ বাড়ানোর তাগিদে অন্যকে ছেড়ে দেয় জমদূতের কাছে। আবার পণ্য মজুদ করে তাদের সুবিধামতো সময়ে বাজারজাত করে লুফে নেয় রক্তচোষা মুনাফা। এতো নোংরা চরিত্রের সাথে মিশে আছে আমাদের সমাজের একশ্রেণির পূঁজিবাদি, জুলুমকারী ব্যবসায়ী। যাদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে পুরো দেশ। তারা মধ্যরাতে সিন্ডিকেট গড়ে মনগড়া মূল্য বাড়ায়। বিপাকে পড়ে দেশের নিম্ম আয়ের জনসাধারণ। এমন পণ্যের তালিকায় রয়েছে খাদ্য, চিকিৎসা, বস্ত্র ও নিত্য ব্যবহার্য্য সামগ্রী। যা না হলে প্রভাবপড়ে পুরো দেশে।

এর ব্যতিক্রম চিত্রও আছে আমাদের সমাজে। বহু ব্যবসায়ীরা তাদের মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক সেবা করেন। প্রশংসিত হয় সমাজে। লাভবান হয় জনসাধারণ। সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়তে থাকে তাকে সক্রিয় ভূমিকা। এমন উদাহরণ খুঁজতে গিয়ে পাই মানবিক ব্যবসায়ীদের। বহু ব্যবসায়ী তাদের পণ্যের মান ঠিক রাখার পাশাপাশি করছেন সেবা।

করোনাকালীন এক ভয়াবহ মহামারী পরিস্থিতিতে হাজারো দরিদ্রের বাড়িতে খাদ্য পণ্য পৌঁছে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী। তাদের অন্যতম কুলিয়াদির আলহাজ্ব মোঃ মহিউদ্দিন ভুঁইয়া। তিনি পণ্য উৎপাদক ও সরবরাহকারী হিসেবে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয়, রয়েছে একাধিক পণ্য বিপনন কেন্দ্র। তার পিতা মরহুম মুছলেহ উদ্দীন ভুঁইয়াও ছিলেন ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি ওই ব্যবসায়ী পরিবার শুধু তাদের ব্যবসার কথা চিন্তা করেননি। করেছেন সমাজ চিন্তাও। সম্প্রতি করোনার ভয়াবহ সময়ে আশপাশের ৫ গ্রামের ৩ হাজার নিন্ম আয়ের মানুষকে দিয়েছেন খাদ্য পণ্য ও আর্থিক সহযোগিতা। করেছেন ৪ কিলোমিটার আধাপাকা সড়ক। ৫টি মসজিদের ও ৩ টি প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য। শিক্ষাক্ষেত্রে গড়েছেন কুলিয়াদি আইয়য়াল জুনিয়র হাই স্কুল, আবার শামসুন্নাহার হিফজুল কুরআন মাদরাসা ও দশাল হাজী মুছলেহ উদ্দিন মদিনাতুল উলুম মাদরাসাও রয়েছের তার পরিচালনায়। রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলার প্রায় ১৫টি পরিবারকে ঘর করে দিয়ে পুনর্বাসন করেছেন তিনি। তাদের ৪০ বছরের ব্যবসায়ী জীবনে কোনো প্রকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। বিনোদন ক্ষেত্রেও রেখেছেন বিশেষ অবদান। বাড়ির পাশেই গড়ে তুলেছেন একটি বেসরকারি পার্ক। এভাবে সরাসরি সমাজসেবায় যুক্ত থাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। ব্যবসায়ীদের মাঝে এমন চিন্তা চেতনা সমাজ বদলে যাওয়ার চিত্র বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

এমন চিত্র দেশে কম নয়। ব্যবসার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, দেশের জনকল্যাণমুখী চিন্তায় বহু ব্যবসায়ীদের রয়েছে সম্পৃক্ততা। তাদের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভীত মজবুত হচ্ছে৷ অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা অপরিসীম।

ব্যবসায়ীদের মন-মানসিকতায় সমাজকে প্রাধান্য দেওয়া হলো সামাজিক পরিবেশের উন্নয়ন সহায়ক। পাশাপাশি মানবসভ্যতায় সহায়ক ভূমিকা রাখেন তারা। দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিংবা বিপনি বিতান উভয় স্থলে সৃষ্টি হয় বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা সহায়ক কর্মসংস্থান। যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আফসোসের বিষয় হলো, দেশের এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা তাদের চিন্তায় রেখেছেন শুধুমাত্র মুনাফা। তাদের দ্বারা সমাজ উপকৃত হওয়ার বিপরীতে হয় ক্ষতিগ্রস্থ। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ওই ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাদের পণ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে, ওই অর্থ পাচার করে বাইরের কোন রাষ্ট্রে। তারা প্রচুর সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে আশ্রয় নেয় পণ্য ও মানবসম্পদ পাচারকাজে। কর ফাঁকি, অপ্রদর্শিত আয়, চোরাকারবারিতে জড়িয়ে যায়। ব্যবসার নাম দিয়ে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে দেশ ও দশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে গড়ে তুলে বিলাসী নেটওয়ার্ক। তৈরী হয় মাফিয়া ডনের মতো প্রভাবশালী হিসেবে। মোড়লীপনার নিজেকে জড়িয়ে পুরো দেশ কব্জায় নেয়ার অপচেষ্টা চালায়। আবার ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নাম লেখায়৷ হয়ে ওঠেন দেশের হর্তা কর্তা। তবে তাদের মাঝে সেবার মনমানসিকতা থাকলে আপত্তি নেই। কিন্তু শুধুমাত্র নিজের ভালো করতে আসা এমন ব্যবসায়ীরা দেশের উন্নতির অন্তরায়।

তাহলে উপায় কী? উপায় হলো নাগরিক সমাজকে সচেতন হওয়ার। তাদের সৎ ব্যবসায়ী ও অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করণের শক্তি প্রয়োজন। সৎ ব্যবসায়ীদের পণ্য গ্রহণ ও অসৎ ব্যবসায়ীদের পণ্য বর্জন করাই হতে পারে নাগরিকদের উত্তম কাজ। এতে ভেজাল, নিন্মমানের ও ক্ষতিকারক পণ্য ক্রয় থেকে রক্ষা পাবে দেশ ও জাতি। একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ব্যবসায়ীরাই নিতে পারেন বিশেষ উদ্যোগ। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সমাজবিনাশী চিন্তায় কুঠারাঘাত করতে সরকারের বিশেষ সংস্থাকে প্রস্তুত রাখাও জরুরী৷

লেখক- সাংবাদিক E-mail: [email protected]

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড