• বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আমার পরানে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো

  রহমান মৃধা

০৬ আগস্ট ২০২২, ১৬:৫৮
আমার পরানে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

প্রায় চল্লিশ বছর বিদেশে কর্মজীবনে। তাও হাই টেকনোলোজির সঙ্গে জড়িত থেকে, একজন ইন্ডাস্ট্রি প্রভাইডার এবং পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি, দিক নির্দেশনা দিয়েছি। তা সত্ত্বেও গার্ডেনিং এবং কৃষিকাজ আমাকে মুগ্ধ করে চলেছে, এটা আমার নিজের কাছেও অবাক লাগছে।

কী যাদু আর কী মধু রয়েছে এই কৃষিকাজে যা অন্য কিছুতে নেই! মনে হচ্ছে এত বছর যা কিছু করেছি, আর এখন যা করছি তার মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য।

কৃষিকাজের মধ্যে মজাই আলাদা। বীজ বপন এবং ফল রোপণ থেকে শুরু করে ফুল এবং ফল ফলানো এবং সেগুলোকে নিজ হাতে যত্ন করে উৎপাদন করা, তুলে খাওয়া —What a excellent and wonderful excitement! এ সত্যি এক চমৎকার অনুভূতি যা শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করার মতো।

যদিও পাইলট প্লান্ট প্রজেক্টে তারপর বাংলাদেশের শাকসবজির চাষ সুইডেনের মতো শীতের দেশে এটাই চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা এবং তাকে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা, কখনো একা কখনো সহধর্মিণীর সঙ্গে কখনো আবার সুইডিশদের সঙ্গে; সে যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি।

সর্বোপরি সেই ছোটবেলা বাংলাদেশে থাকাকালীন সময় ভেজালমুক্ত শাকসবজির স্বাদ নতুন করে ফিরে পাওয়া দূরপরবাসে, ভাবতেই গা শিউরে উঠার কথা, কিন্তু না ভাবনা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

লালশাক, পালংশাক, লাউয়ের আগা, লাউয়ের ডোগা, লাউয়ের পাতা এবং ধরছে শত শত লাউ —এ অনুভূতি শুধু অনুভবে হৃদয় বুঝবে, হয়তো বাংলাদেশে বসবাসরত অনেকের কাছে মনে হবে এটা একটা ঘটনা হলো? কিন্তু ভাবুন চল্লিশ বছর দেশের বাইরে, সবকিছু থেকে বঞ্চিত, হঠাৎ সেই অতীতের স্মৃতি সাথে সেই প্রিয় খাবারে অংশ বিশেষ নিজের হাতে উৎপাদন করা এবং রান্না করে খাওয়া একটু ভাবুন প্লিজ!

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি সুইডিশদের বাংলা খাবার খাওয়ানো শেখাচ্ছি বাংলা কায়দায়। সরাসরি হাত দিয়ে খাওয়া এটা যেমন নিজের দেশকে তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ তারপর নানা ধরনের সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা বাইরের পরিবেশে বাংলা কাইদায় সুইডেনের মাটিতে, কী মনে হয়? আর কিছু না হোক যদি কখনো কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে এদের নতুন পরিচয় হয় চাকরি থেকে শুরু করে অন্য কোনো দরকারে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কৃপণতা করবে না এরা, যাদের সঙ্গে এত বছর সময় কাটালাম।

এরা মনে করবে আমাকে, আমার জন্মভূমিকে, জন্মভূমির অতিথিপরায়ণতাকে, সে বিশ্বাস আমার আছে। আমি মনে করি আমরা যারা দেশের বাইরে আছি, আমরা যেন সব সময় নানা ভাবে ভালো কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরি এতে করে নতুন প্রজন্ম যখন উচ্চশিক্ষার্থে, চাকরির সুবাদে বিদেশে আসবে, তারা সব সময় একটি পজিটিভ ফিডব্যাক শুরু থেকে পাবে।

আমি নিজেকে গর্বিত বাংলাদেশি মনে করি। কারণ আমি পরের দেশে এসে, পরকে আপন করে নিতে পেরেছি আমার কর্মের মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলি—ভালোবেসে,সখী, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো --তোমার মনের মন্দিরে।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড