• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভেজাল পণ্যের রমরমা সিন্ডিকেট ভেঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তায় আমাদের করণীয়

  মাহবুব আলম প্রিয়

০২ আগস্ট ২০২২, ২০:৩৩
ভেজাল

ভেজাল যার মনে। কাজেও ভেজাল তার সনে। এ দেশের ব্যবসায়ীরা যেমন ভেজাল পণ্যের বাজারজাতকরণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তেমনি আমরা ভোক্তারা প্রায় অভ্যস্থ হয়ে আছি। দুঃখজনক যে, এ দেশে এমন কোন পণ্য বা খাদ্য নেই, যাতে ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘কচু ছাড়া সবকিছুতেই ফরমালিন। নির্ভেজাল খাবার পাওয়া এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। খাদ্যে ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। কিছু মানুষ দানব হয়ে যাচ্ছে’।

হুম, মহামান্য রাষ্ট্রপতির দানব আখ্যা যথার্থ। ফলে দেশের সর্বোচ্চ অভিভাবকের এমন বক্তব্যের পর আর কিছু লেখার অপেক্ষা থাকে না। সূত্রমতে, দেশের মোট খাদ্যের ৩০ শতাংশে ভেজাল রয়েছে বলে দাবি করে আসছেন দায়িত্বশীল যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান। ভেজাল পণ্যের বাজারে পাওয়া সয়াবিন তেল, চিনি, মসলা, নুডুলস, সেমাই, বিস্কুট, পাউরুটি, দুধ, শিশুখাদ্য, ঘি, মিষ্টি, মধু, পানীয়, ফলমূল, ঔষধ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রায় সবকিছুতেই ভেজাল দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এস কে রয় এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন, মিষ্টি, সন্দেশ, দই, ঘি, ছানা, সস, ডালডা, সয়াবিন, আইসক্রীমসহ কিছু পণ্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৭৬ দশমিক ৩২ শতাংশ খাবারেই ভেজাল। এছাড়াও খাবারে প্রায় ২০০ ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় সব ফলেই ফরমালিন, কার্বাইড অথবা অন্য কোন রাসায়নিক স্প্রে করা হয়।

এদিকে পুষ্টিবিদদের দাবি হলো, কার্বাইডের অপর নাম ক্যান্সার। আর ক্যান্সারের পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু। এসব ভেজাল খাবার খেয়ে আমরা নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। প্রশ্ন হলো, ভেজাল প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি করছেন? জবাব হলো, তারাও বসে নেই। জরিমানা আদায়, প্রতিষ্ঠান সিলগালা, মামলা ও জেল হাজতে ভেজালকারীদের পাঠাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও কি ভেজাল কমেছে? কমেনি। তবে কেন কমেনি?

পত্রিকায় প্রকাশিত এক তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে ভেজাল খাবার খাওয়ার কারণে। কারণ ভেজাল খাবার খাওয়ার কারণে নানা রোগ হচ্ছে। আর এসব রোগ নিরাময়ের জন্য ঔষধের পেছনে এ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ভেজালকারীরা সব ধরনের পণ্যে ই নানা অপকৌশল প্রয়োগ করছেন। এ সবের মাঝে শিশুখাদ্য দুধে ভেজাল পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি। বিগত সময়ে গুঁড়ো দুধে মেলামাইনের অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি গোটা বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। মেলামাইন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ দুধে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি দেখানোর জন্যই মেশানো হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত ইয়াশলি-১, ইয়াশলি-২ ও সুইট বেবী নামক তিনটি ব্র্যান্ডের গুঁড়োদুধে মেলামাইনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়াই তা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মূলত, মেলামাইন কার্বন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেনের সম্বন্বয়ে গঠিত এক ধরনের জৈব যৌগ। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সূত্রমতে, সম্প্রতি ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও তার গবেষকদল দুধের ১০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০টিতেই ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন। আবার ভেজাল খেয়ে অসুস্থ হলে আমরা দারস্থ চিকিৎসকের কাছে। পরে ঔষধ পথ্য হিসেবে পরামর্শ দেন। কিন্তু সে ঔষুধেও যখন ভেজাল হয় তখন এ জাতির জন্য এর চেয়ে ভয়ংকর ও হতাশ পরিবেশ কি হতে পারে? অথচ বাজারে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের ছড়াছড়িতে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দেশে বর্তমানে ২৫৮টি এলোপ্যাথী, ২২৪টি আয়ুর্বেদী, ২৯৫টি ইউনানী ও ৭৭টি হোমিওপ্যাথিসহ মোট ৮৫৪টি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঔষধ কোম্পানীগুলোর মধ্যে বড় জোর ৪০টি ছাড়া বাকী প্রতিষ্ঠানগুলো নকল ও নিম্নমানের ঔষধ তৈরী করে বলে অভিযোগ পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি দুইটি ঔষুধে ইয়াবার উপাদান পাওয়ার খবর মিলেছে৷

এবার আসি মসলার কথায়৷ একটি চক্র হলুদের গুঁড়ায় ভেজাল করে ভিন্ন উপায়ে। স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক গবেষণায় হলুদে সীসা শনাক্ত করেছিলেন। যা মানবদেহের ক্ষতি করে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও তার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

আবার কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে একশ্রেণীর অসাধু খামারী নিষিদ্ধ ঔষধ প্রয়োগ করে। তারা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করে। তারা স্টেরয়েড গ্রুপের ঔষধ যেমন ডেকাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন ইত্যাদি সেবন করিয়ে অথবা ডেকাসন, ওরাডেক্সন স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করে। এছাড়া হরমোন প্রয়োগ (যেমন ট্রেনবোলন, প্রোজেস্টিন, টেস্টোস্টেরন) করেও গরুকে মোটাতাজা করা হয়। স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গবাদিপশুর গোশত মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ জাতীয় ঔষধ অতিরিক্ত মাত্রায় দিলে গরুর কিডনি ও যকৃৎ অকার্যকর হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটাতাজাকরণের এসব ঔষধের কার্যকারিতা নষ্ট হয় না। গরুর দেহের গোশতে থেকে যায়। এসব গোশত যখন মানুষ খায়, তখন ঔষধের প্রতিক্রিয়া মানুষের শরীরেও দেখা দেয়। স্টেরয়েড ঔষধ মানবদেহের কিডনি, ফুসফুস, লিভার, হৃৎপিন্ডকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ভেজাল প্রতিরোধে নেয়া কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ পর্যাপ্ত কার্যকর নয়। তবে মাঝে মাঝে জনসাধারন বিক্ষুদ্ধ হলেও কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন না। যদিও দু-একজন আইনজীবি স্বপ্রনোদিত হয়ে, দেশের জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য মহামান্য আদালতে রিট করে থাকেন। এমন এক রিটের শুনানির পর সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় তদন্তে ভেজাল প্রমাণিত হয়। সে সময় দেশের নামকরা এক বড় প্রতিষ্ঠানের হলুদ গুঁড়া, পাউডার ও লাচ্ছা সেমাইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এটাই কি সমাধান? রিট করবে। বিচারবিভাগ ব্যবস্থা নিবে তারপর আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা আসবে? তাহলে এমন ভেজাল থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয় কী?

এ নিয়ে গভীরে ভাবলে যা বুঝি তা হলো, অর্থনীতিতে ইসলামী একটি পরিভাষা রয়েছে। তা হলো, সুনীতির প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অর্থনীতিতে সুনীতি প্রতিষ্ঠার অর্থ হচ্ছে যাবতীয় উপায়ে ইনছাফভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। আর দুর্নীতি প্রতিরোধের অর্থ হচ্ছে সব ধরনের অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও শোষণের পথ রুদ্ধ করা। এলক্ষ্যে রাষ্ট্র যে কোন ধরনের আইন রচনা করতে পারে। আর সেই আইন প্রয়োগ করে ভেজাল প্রতিরোধ করতে পারে দৃঢ়হস্তে। এটি হলো ধর্মীয় বিধানের একটি পথ। অপরটি হলো,খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশ্রণ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যসামগ্রী বিপণন রোধে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’-কে সক্রিয় ও কার্যকর করা জরুরী। আইনে থাকা খাদ্যে ভেজালে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ৩ বছর কারাদন্ডের বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি ভেজাল প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডও দেয়া যেতে পারে।

গোটা বিশ্বে অন্যান্য দেশে শিশু-খাদ্যে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। সুতরাং শিশুরা যেহেতু জাতির ভবিষ্যত সেহেতু তাদের খাদ্যে ভেজাল প্রদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং তা প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর ভেজাল খাবার খেয়ে দেশের ১০ শতাংশ শিশু মারা যায়।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন’ (বিএসটিআই)-এর দায়িত্ব হচ্ছে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ। খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যে ভেজাল রোধের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজিয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল দিয়ে একে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। শুধু দেশে উৎপাদিত পণ্য নয়, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্য স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত কি-না তা পরীক্ষা করার জন্য উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় আমদানীকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান পণ্যে ভেজাল প্রদান করছে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ বা সীল করে দিতে হবে। সাথে সাথে তা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে সতর্ক হতে হবে। গুণগত মান যাচাই-বাছাই না করে বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করতে হবে। ক্রেতারা যাতে ভেজাল পণ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারে সেজন্য একটি ‘ইনফরমেশন সেল’ গঠন করা যায়।

ঔষুধে ভেজালের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা আরও জরুরি। কোনক্রমেই যেন ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বা প্রয়োজনে ভেজাল ও নকল ঔষধ তৈরীকারী কোম্পানী বন্ধ করে দিতে হবে। মোবাইল কোর্ট’ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এর কার্যক্রম সবসময় চালু রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। রাজধানী থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।

প্যাকেটজাত তেল, ঘি, চিনি, আটা, ময়দা, মসলা, বোতলজাত পানীয় ইত্যাদিতে ভেজালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান ও বিপণী কেন্দ্রগুলোর মালিকদের বদলে পণ্য উৎপাদককে শাস্তি দিতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান, উৎপাদক, পরিবেশক যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনগণ ‘ভেজাল প্রতিরোধ কমিটি গঠন’ করে ভেজালের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষ ভেজালের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেই ভেজাল প্রদানকারীরা ভেজাল পণ্য বিপণন করতে সাহস পাবে না।

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভেজাল সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি পাঠ্যসূচীভুক্ত করা যেতে পারে। তাছাড়া সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ, জুম‘আর খুৎবা ও ওয়াজ -মাহফিলে এ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মসূচীতে ভেজাল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার কর্মসূচী অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। ভেজালমুক্ত পণ্য উৎপাদক ও পরিবেশকদেরকে বছরান্তে সরকারীভাবে পুরষ্কৃত করতে হবে এবং মিডিয়ায় তা ফলাও করে প্রচার করতে হবে।

দেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যা বিষ মুক্তভাবে শস্য ও ফলমূল সংরক্ষণে সহায়ক হয়। সর্বোপরি সাধারণ ভোক্তা বা জনগণকে সাধ্যপক্ষে ভেজাল খাদ্য ও পণ্য বর্জন করতে হবে, তাহলে ভেজালের কবল থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পেতে পারে।

মুনাফাখোরী, মজুদদারী, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভেজাল অক্টোপাসের ন্যায় আমাদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। মজুদদার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া ছুটছে তো ছুটছেই। অন্যদিকে ভেজালের জয়জয়কার চলছে সর্বত্র। এমন কোন খাদ্য নেই যাতে ভেজাল দেয়া হচ্ছে না। ভেজালের সমুদ্রে যেন আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। ইসলামে এ ধরনের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ হলেও একশ্রেণীর দুনিয়াদার মুনাফাখোর ব্যবসায়ী অত্যধিক মুনাফার নেশায় বুঁদ হয়ে তা করে যাচ্ছে দিব্যি।

সুতরাং ব্যবসায়ীদের মাঝে আল্লাহভীতি ও পরকালে প্রবল প্রতাপান্বিত প্রভুর কাছে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না উঠলে এসব অর্থনৈতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সুদূরপরাহত।

তারপরও প্রশ্ন থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় কি? এর উত্তরে আপাতত পাই,বিগত বছরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) এর পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় ৫২টি খাদ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ৫২ পণ্য বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় পুনরায় উত্তীর্ণ না হচ্ছে, ততক্ষণ এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে এমন ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে সূত্রে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা ক্রয় করে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৩টি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫২টি পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এভাবে কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু তা সমুলে ভেজাল নিধন হচ্ছে না। এতে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ। জীবননাশের চরম ঝুঁকিতে আমাদের খাদ্য অভ্যাস তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আমরা রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছি। মরছে স্বজন। এমন পথযাত্রী আমরা সবাই। তবু আশার কথা হিসেবে সরকার ও জনসাধারণের সম্মিলিত পদক্ষেপে খাদ্যে ভেজাল মুক্ত করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। এতে প্রয়োজন নীতি নৈতিকতা ও মানবিক গুনাবলি রপ্ত করা। অধিক মুনাফার লোভ ত্যাগ করে জনকল্যাণহীন সব কর্মকাণ্ড পরিহার করা।

লেখক- সাংবাদিক

E-mail: [email protected]

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড