• বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

sonargao

দোষ করে সব মাছে নাম হয় পাঙ্গাসের

  মাহবুব নাহিদ

৩০ জুলাই ২০২২, ১৪:০২
মাহবুব নাহিদ 
মাহবুব নাহিদ 

দোষ করে সব মাছে নাম হয় পাঙ্গাসের। আসলে যার উপরে চাপিয়ে দেওয়া যায় এমন একজনকেই আমরা খুঁজে নেই। আমাদের শিল্প সংস্কৃতি সাহিত্য নিয়ে হাসি ঠাট্টা রঙ্গ তামাশা হয় বা করে এমন মানুষের সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যাবে না। টিকটক বলি লাইকি বলি বহু মিডিয়ায় বহুভাবে বলাৎকার করা হয় আমাদের সংস্কৃতিকে। এর বিরুদ্ধে আসলে সঠিকভাবে খুব একটা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

সম্প্রতি হিরো আলম নামের একজন তথাকথিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের নামে আইনি নোটিশের ভিত্তিতে তাকে দিয়ে মুচলেকা দেওয়ানো হয় যে সে আর এসব আলতুফালতু কন্টেন্ট বানাবে না। মূলত সে রবীন্দ্র সংগীত নজরুল সংগীত থেকে শুরু করে বহু দেশি বিদেশি গানকে ব্যঙ্গ করেছে। স্পষ্ট করে আসলে ব্যঙ্গই বলতে হবে৷ এটাকে কন্টেন্ট বলার কোনো সুযোগ নাই। সে যা করেছে সেটা আসলেই কষ্টের এবং লজ্জার। বিশেষ করে আমাদের দুইজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ, আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো কাজ নিয়ে যখন এমন করে তখন রাগ এবং কষ্ট দুটোই তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ ওনারা আমাদের আবেগের জায়গা, সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক। রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে এই তামাশা আসলেই সহ্য করার মতো নয়। অনেকেই বলেন, হিরো আলম কষ্ট করেছে, পরিশ্রম করেছে। সে যা ইচ্ছা করুক না, আমাদের আবেগের জায়গায় কেন আঘাত করতে হবে। এখন তাকে যেভাবে মুচলেকা দেখানো হয়েছে সেটা নিয়ে আইনিভাবে ভেবে দেখা যেতে পারে। সেটার মধ্যে ভুল থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু তাকে যে থামাতেই হতো তার মধ্যে কোনো দ্বিমত বা বিরোধ নাই।

আমার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু অন্য জায়গায়। পৃথিবীটা আসলে শক্তের ভক্ত নরমের যম! হিরো আলম নরম তুলতুলে তো তাই তাকে পেটাতে মজা লাগবে আমাদের। হিরো আলম দেখতে কালো, ফিগার ভালো না, নায়কের মতো লাগে না, সে ডিশ ক্যাবল চালায়, তেমন কোনো ক্ষমতাই নেই তাই আমাদের সকল বিবেক বুদ্ধি প্রতিবাদের তীর হিরো আলমের দিকে ছুটে যাচ্ছে। কিন্তু এমন হিরো আলম যে আমাদের উপরতলায়ও রয়েছে তারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? ধরতে হলে তো হোমরাচোমরাদের আগে ধরতে হবে। তাহলে তো সাধারণ কাউকে ধরার প্রয়োজনই পড়ে না। কিন্তু আমরা ধরব না, আমরা ক্ষমতার পূজারী, সম্পদের পূজারী! ওসব জায়গায় ধরতে গেলে আমাদের জাত চলে যাবে।

তাই হিরো আলমের সময় আমাদের বিবেক জাগ্রত হয়। আমাদের ভেতরটা আন্দোলিত হয়, প্রতিবাদ করে কিন্তু বড়দের দেখলে আমাদের বিবেক খসে পড়ে। বিবেকের তাড়না আমাদের সমান হওয়া উচিত। বিচার আমাদের সকলের ক্ষেত্রেই সমান হওয়া উচিত।

শেষ কথা হচ্ছে, হিরো আলম তো ঘাটের মরা তাই তাকে থামানো যায় কিন্তু কাতল মাছকে না!

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড