• সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মেয়েরাও তো মানুষ! 

  মাহবুব নাহিদ

১৮ জুলাই ২০২২, ১৯:০৯
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

একটা সন্তানের যখন জন্ম হয়। বাবামায়ের প্রথম চিন্তাই হয় ছেলে হয়েছে নাকি মেয়ে হয়েছে। মেয়ে শিশুর জন্ম হলে কপালে চিন্তার ভাজ দেখা অনেকেরই। ছেলে সন্তানের জন্ম হলে মনে হয় যেন বংশের প্রদীপ আর উত্তরাধিকারী। ছেলেরা উপার্জন করবে, পরিবারের দায়িত্ব নেবে এমনটাই ভাবনা থাকে সবার। আর মেয়েরা শুধু শুধু পরিবারের অন্ন ধ্বংস করে। মেয়েরা যেন বাবা মায়ের কাছে অভিশাপ! মেয়েদেরকে বিয়ের যোগ্য করে তোলাই যেন মেয়ে বড়ো করার একমাত্র উদ্দেশ্য! আমাদের দেশে এখনও এই ভাবনা কেউ ভাবতে পারে না মেয়েরাও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারে। মেয়েদেরকে মানুষ হিসেবে না দেখে অনেকেই মেয়ে হিসেবে দেখে। কিন্তু মেয়েরাও তো মানুষ!

একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া মানে মেয়েকে পার করে দেওয়া। ছেলে অমুক করে, বিয়ে দিতেই হবে। বিয়ে না হলে বাবামায়ের দুঃখ। একটা ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার সময় ছেলের বাবা-মা কতকিছু দেখে কতকিছু জানতে চায় কিন্তু মেয়ের বাবা-মা তা চায় না আর চাইলেও পারে না। এমনকি ছেলে ভালো উপার্জন করে সেটা শুনলে দুই একটা দোষ থাকলেও মেনে নিতে বলা হয়। হ্যাঁ, এটা অবশ্যই সত্যি টাকা অনেক বড়ো একটা বিষয়। মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে টাকার প্রয়োজন। কিন্তু টাকাই একমাত্র যোগ্যতা হতে পারে না। আর এমন নয় যে, একটা ছেলেই পৃথিবীর একমাত্র বিবাহযোগ্য পাত্র। এই ছেলেটা হাতছাড়া হয়ে গেলে আর পাওয়া যাবে না এমন মনে করে অনেকেই। আরে, সেই ছেলে তো ক্রাইম এক্টিভিস্ট হতে পারে, মাদক সম্রাট হতে পারে। একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখে না অনেকেই। শুধুমাত্র ভালো চাকরি করে, ব্যবসা করে, টাকা আছে, বাড়ি আছে, ব্যস! আর ছেলে বিদেশ থাকলে তো কথাই নেই।

মাঝে একটা নাটক দেখলাম, ছেলে ডাক্তার, মেয়ের বাপ মায়ের বিয়ে করাতেই হবে। মেয়েকে পড়াশোনা করতে দিবে না, চাকরি করতে দিবে না। শাশুড়ি বলল, বাচ্চা পড়ানো আর রান্না, ঘর গুছানো ছাড়া আর কিছুই করা যাবে না। তার ছেলে অনেক খেতে পছন্দ করে, ছেলের জন্য সারাদিন রান্না করতে হবে, ছেলে বুয়ার হাতের খাবার খাবে না। আর তাদের পরিবারের বাচ্চাকাচ্চা অন্য কারো কাছে পড়বে সেটাও চায় না তারা। তার মানে পুত্রবধু হয়ে যাবে দাসী! কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে মেয়ের বাবা-মা এই সবকিছুই মেনে নিচ্ছে! মেয়ে হলে নাকি এসব করাই লাগবে।

তবুও সেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মেয়ের মায়ের সে কী আহাজারি! যার কারণে ভেঙেছে তাকে আজীবনের জন্য অভিশাপও দিয়ে দিয়েছেন মেয়ের মা! এটাই আসলে বাস্তব ঘটনা।

নিজের চোখে দেখেছি, বিদেশ থাকে, অনেক বড়ো চাকরি করে, বিয়ের পর মেয়েকেও নিয়ে যাবে, কিন্তু বিয়ের পর জানা গেল ক্লিনারের কাজ করে! ক্লিনার খারাপ পেশা না! কাজ অবশ্যই সম্মানের! কিন্তু তিনি বিয়ের সময় তো সেটা লেখেননি! আর অনেকে তো ক্লিনার লিখলেও রাজি হবেন। কিন্তু নিজের দেশের কেউ ক্লিনারের চাকরি করে শুনলে মেয়ের বাবা-মা কি রাজি হবেন? কোনোদিনই হবেন না। একজনকে দেখেছি অমুক বিশবিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড পরিচয়ে বিয়ে করেছে, পরে দেখা গেল ডিগ্রীও পড়েছে, পাশও করেনি!

বিশাল বড়ো চাকরি, কিন্তু আদতে সে বড়ো একজন অপরাধী, বিয়ের পরে স্ত্রীর কাছে চাপ দিতে থাকেন বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য। মেয়েদের গাঙে ভাসিয়ে দেওয়ার আগে অন্তত একটু জেনে দেখুন যে তাতে কুমির আছে কিনা!

এবার আসি মূল পয়েন্টে, নারীদের প্রথম বাঁধা কার থেকে আসে? পুরুষ নাকি নারী? অধিকাংশের উত্তরই ছিল, নারী। কারণ নারীরা ঘরের বাহিরে গেলে না পুরুষদের থেকে বাঁধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু ঘর থেকে যে বাঁধা শুরু হয় তা নারীদের থেকেই আসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। একটা মেয়ে বাহিরে কাজ করতে যাবে, উচ্চ পড়াশোনা করবে এই ব্যাপারে অভিযোগ আসে নিজের ঘরের অন্য মহিলাদের থেকেই। মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না এই বিষয়টা মেয়েটা জানলেও, মেয়ের বাবা-মা না জানলেও পাশের বাসার ভাবী বা আন্টিরা খুব ভালো জানে। মেয়ের মা-বাবার কান ঝালাপালা করে ছেড়ে দেয়! কর্মক্ষেত্রসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় নারীরাই নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়! একটা মেয়েকে জীবন পথে চলতে গিয়ে যদি দশটা বাজে পুরুষের খপ্পরে পড়তে হয় তবে অন্ততপক্ষে পাঁচজন হলেও বাজে নারীর সাথে দেখা হয়, মোকাবেলা করতে হয়, তাদের সাথে লড়াই করতে জিততে হয়।

মাহবুব নাহিদ

লেখক ও কলামিস্ট

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড