• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাংলা সিনেমার হালচাল!

  মাহবুব নাহিদ

১৮ জুলাই ২০২২, ১৮:৫৭
মাহবুব নাহিদ
মাহবুব নাহিদ

বাংলা সিনেমা নিয়ে যতটা না সিনেমার প্রাসঙ্গিক কথা হয় তার চেয়ে বেশিই কথা হয় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে। নায়ক নায়িকা প্রযোজক পরিচালকদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক, বৈবাহিক বিষয়গুলো নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, যতটা সময় সবাই দেয় ততটা সময় সিনেমায় দিলে আমাদের সিনেমা জগত এতদিনে হলিউডও ছাড়িয়ে যেতো মনে করি।

এখানে আসলে সবাই বুদ্ধিজীবী কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ কম, কথা বলার লোক বেশি, কাজ করার লোক খুবই কম।

সিনেমাকে কারা ধ্বংস করেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে কাউকে একা দায়ী করা যাবে না। আসলে যুগ যেভাবে পরিবর্তিত হয়েছে আমরা ঠিক তার উল্টো পথে এসেছি! সিনেমার বাজার এতটাই খারাপ যে এখন একটা সিনেমা আসলে সেই সিনেমার প্রচারণায় বলা হয় এটার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসুক। তার মানে তারা মেনেই নিচ্ছে যে বর্তমান অবস্থা খারাপ। যতদিন না পরিবর্তনের কথা শেষ না হচ্ছে ততদিন কিছুই ঠিক হবে না৷

কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম এফডিসির নির্বাচনের যত রঙ্গ তামাশা। আসলে এসব দেখলে মানুষের এখন হাসিও পায় না। সিনেমার ধারেকাছেও নেই, নির্বাচন নিয়ে বৃথা মাতামাতি, কাঁদা ছোড়াছুড়ি এমনকি মানুষের সাধারণ জীবন অতিষ্ট করে তুলেছিল তারা।

আর এখন তো আমাদের দেশে কোনো সুপারস্টার নাই। যাদেরকে আমরা বলি মেগাস্টার, যারা আকাশের চাঁদের মতো, ধরা ছোঁয়া যায়না। কিন্তু এখনকার নায়ক নায়িকারা তো পারলে সুন্নাতে খাৎনার অনুষ্ঠানেও ভাড়ায় নাচ গান করতে চলে যায়। নিজেদেরকেই নিজেরা নামিয়ে ফেলেছে অনেক নীচে! আর ব্যক্তিগত জীবনে তো অধিকাংশের অবস্থা খুবই খারাপ, বহু বিয়ে ছাড়াছাড়ি এই ভিডিও ওই ক্লিপ এসব দেখতে দেখতে মানুষেরও এদের প্রতি সম্মান মোটেও নেই, না থাকাটাই বরং স্বাভাবিক। এর পিছনে অবশ্য মিডিয়াও কিছুটা দায়ী আছে। শুধুমাত্র পত্রিকায় কিংবা অনলাইনে কাটতি বাড়ানোর জন্য তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে।

সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বেশ কয়েকটি ছবি বের হয়েছে৷ সেই ছবিগুলো নিয়ে বেশ আলোচনাও হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আলোচনা তো করবে দর্শকরা। দর্শকরা আলোচনা না করলেও সিনেমার কলাকুশলীরা একে অপরকে যেভাবে আক্রমণ করা শুরু করেছে তা জঘন্য। এরা অনেকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু। কে কী করেছে, কে কী করেনি! কার ছবি টাকার কার ছবি ভালো ইত্যাদি! এগুলো বিচার করার মালিক দর্শক, আপনারা না।

একটা জিনিস যে এরা কেন বোঝে না, যখন সিনেমা ভালো হতে শুরু করবে তখন সবাই মিলে ওঠা সম্ভব। জগতটা কারো একার না, একা ভালো করে বেশিদূর যাওয়া যায় না। যখন ইন্ডাস্ট্রি আবার দাঁড়াবে তখন তো সবাই তার ফল ভোগ করবে! তাহলে বৃথা কেন কাঁদা ছুড়ছে সবাই কে জানে!

এই বিষয়টা অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এখন। বইমেলা আসলে দেখি, অনেক লেখক নিজের লেখার দিকে মনোযোগ না দিয়ে অন্যরা কে কী করছে তা নিয়ে পড়ে থাকে! আরে নিজে ভালো তো জগত ভালো!

সমস্যাটা অনন্ত জলিল, অনন্য মামুন আর রায়হান রাফিকে নিয়ে। এরা একে অপরকে চেনে, এদের কার ছবি ভালো হয়েছে সেটা আমরা দর্শক বিচার করব। তারা বিচার করে দিচ্ছে, একে অপরকে যাচ্ছেতাই কথা বলে যাচ্ছে। সাংবাদিকরা কীভাবে নিউজ করবে তাও বলে দিচ্ছে। এতসব করার তো কোনো মানে হয়। এরা সকলেই ভালো কাজ করে নিঃসন্দেহে। এরা সবাই চলচ্চিত্র জগতকে দিয়েছে, আরো দেওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু এভাবে নয়। আর হ্যাঁ, হল নাকু হাউজফুল এটা নিয়েও লেগেছে মহাযন্ত্রণা। হল হাউজফুল থাকলে সেটা হল কর্তৃপক্ষই বলবে। কিন্তু হাউজফুল থাকা নিয়েও চলছে নাটক। কেউ কারো তার ছবি হাউজফুল থাকছে, কেউ বলছে টিকেট পাচ্ছে না, অন্যরা অভিযোগ করছে নিজের লোক এনে হল ভরাচ্ছে, রিভিউ দিচ্ছে! এগুলো আসলে নিজেদের জন্যই ক্ষতির।

আর একটা বিষয় লক্ষণীয় যে অনন্ত জলিলের কিছু কথা নিয়ে অনেক ট্রল হচ্ছে। প্রথমত উনি অনন্য মামুনকে নিয়ে যা বলেছেন সেটা যথেষ্ট অন্যায় হয়েছে। এর জন্য তার অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত। এত বড় স্থানের একটা মানুষ জনসমক্ষে এভাবে বলতে পারেন না।

কিন্তু তিনি বগুড়াকে দুবাই বলেছেন এটা নিয়ে যে কেন ট্রল হচ্ছে তা বোধগম্য হলো না। আসলে কিছু মানুষ অবশ্য আছেই ট্রল করার জন্য। নিজেরা কিছুই করতে পারবে না, কেউ করলেও ট্রল করবে। পরিশেষে, চলচ্চিত্র সমিতি নামে যে বহুনাটকীয় সমিতি আছে আমরা তাদের কার্যক্রম দেখতে চাই। শুধু মাসে বছরে একবার করে এসে নির্বাচন নামক রঙ্গ তামাশা দেখতে আমরা চাই না। আমরা চাই তারা চলচ্চিত্র উন্নয়ন নিয়ে কাজ করুক।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড