• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাস্তায় অটোরিকশা চলার সমাধান কী?

  মাহবুব নাহিদ

০২ জুলাই ২০২২, ১৩:২১
মাহবুব নাহিদ
মাহবুব নাহিদ

আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার খুবই অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এবং এটা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভয়াবহ।এভাবে সড়কে দুর্ঘটনা কোনো জায়গায় হয় না। সড়কে মৃত্যুর মিছিল দেখতে দেখতে আমরা প্রায় ক্লান্ত শ্রান্ত। এই দুর্ঘটনার পিছনে অনেক কারণ আছে। সেই সব কারণ একদিন এক বসায় আলোচনাও সম্ভব না। আমাদের দেশে দুর্ঘটনার একটা বড় অংশ ঘটে মোটরসাইকেলে। অনেকেই বলে মোটরসাইকেল রাস্তার সবচেয়ে বড় সমস্যা কিন্তু আমার কাছে মনে হয় অটোরিকশা।

হ্যাঁ এটা সত্য যে এদের বন্ধ করে দিলে তাদের জীবিকার উপর হাত দেওয়া হবে! কিন্তু এই বাহনগুলো খুবই ক্ষতিকর! আমরা মোটরসাইকেলের যতগুলো দুর্ঘটনা বের করতে পারব এইসব অটোরিকশারও তার চেয়ে কম হবে না খুব একটা।

প্রথমত এদের ব্রেক একদমই বাজে, কোনো এমারজেন্সি সময়ে জায়গায় ব্রেক করে একশো মিটার দূরে গিয়ে এরা দাঁড়ায়! ততক্ষণে সে আর দাঁড়াতে পারে না। কোনো না কোনো বাহনের সাথে ঠিকই লাগিয়ে দেয়। আসলে লাগিয়ে তো সে দেয় না, লাগাতে বাধ্য হয়। এইসব গাড়ির বডি খুবই নাজুক, কোনো ধরনের হালকা বা মাঝারি ধাক্কা বা ঝাকি সহ্য করার ক্ষমতা এদের নাই। বড় কোনো গাড়ির সাথে লাগছে মুহূর্তেই একদম দুমড়েমুচড়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় অটো রিকশা একদম উড়ে গেছে।

আর বড় গাড়ির উপরে বসে ড্রাইভারের কাছে এই গাড়িকে একটা তুলার বস্তা ছাড়া কিছুই মনে হয় না। সম্প্রতি একটা গবেষণায় দেখা যায় ট্রাক ড্রাইভারকে অটোতে বসিয়ে আর অটো ড্রাইভারকে ট্রাকে বসিয়ে, ট্রাকে চড়ার পর অটো ড্রাইভারের মনে হয় আসলেই তো এই গাড়িকে রাস্তায় চলা অবস্থায় গ্রাহ্য করার কথা নয়। এরপর আসা যাক লাইসেন্সের ইস্যুতে, এদের না লাগে গাড়ির লাইসেন্স, না লাগে ড্রাইভিং লাইসেন্স! কয়টা টাকা হলেই হুট করে একটা অটো নিয়ে নেমে যায়, এমনকি শিশু-কিশোররাও! এই জায়গাটা হচ্ছে সবচেয়ে ক্ষতিকর। গাড়ি কিনতে বা চালাতে কোনো ধরনের নিয়মকানুন কিছুই নেই, যে চাইবে সেই পারবে এমন একটা অবস্থা।

এরা জানেনা কোনো সিগন্যাল, বোঝেনা কোনো বাতি টাতি! বোঝে খালি ফুস করে এক জায়গায় ঢুকিয়ে দেওয়া। একটা গাড়ি আসছে, দেখে বুঝেশুনে রাস্তা ক্রস করবে বা ডান বাম করবে তা না! চাইলেই ঘুরাও! কেউ কেউ আবার এন্টিকাটার লাইটও ব্যবহার করে না, কেউ দেখায় হাত, কেউ তো কিছু দেখায়ই না! অনেকে তো আবার শুয়ে-বসে ঘুমিয়ে পারলে চালায় এই গাড়ি। এই কাজটা করে যারা ভ্যানে ইঞ্জিন লাগায় তারা। এদের সুখের শেষ নেই। এরা ড্রাইভারের সিটে বসে না। এরা বসে ভ্যানে, একদম হেলেদুলে চালায় ভ্যান। অটোর ড্রাইভাররা জানে না যে আসলে তাদের গাড়ির ধারণ ক্ষমতা কত। বুঝে না বুঝে যাত্রী চলতে থাকে, এমনিতেই দেখা উল্টে যায় গাড়ি। এই ক্ষেত্রে একটা অন্য দিক আছে। এই দিকটায় অবশ্য অটো চালকদের দোষ নেই। আমাদের দেশের অধিকাংশ রাস্তাগুলো এমনভাবে বানানো হয় যে দুইটা গাড়ি যখন পাশাপাশি যায় তখন রাস্তায় অন্য কোনোকিছুরই অবস্থান করার আর জায়গা থাকে না। তখন নামিয়ে দিতে হয় রাস্তার নীচে। আর অধিকাংশ রাস্তারই সাইডে নাই জায়গা, আবার জায়গা থাকলেও দেখা যায় রাস্তা থেকে মাটির দূরত্ব আকাশ আর পাতালের দূরত্বের সমান। আর এই জায়গাও যদি না থাকে তাহলে নামিয়ে দিতে খালে, ডোবায় বা পুকুরে কিংবা লাগিয়ে দিতে হয় কোনো একটা প্রকাণ্ড গাছের সাথে।

অটো রিকশা থাকার কারণে যারা সাধারণ চালায় তারা পড়ে যায় বিপাকে। তাদের লাইসেন্স আছে কিন্তু গ্রাহক নেই। আপনি যখন নিশ্চিত হবেন যে অন্তত অর্ধেক সময়ে আপনি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন তখন আপনি দুই দশ টাকা বেশি দিতেও রাজি থাকবেন। অনেক সময়ে সাধারণ রিকশা চালকেরা অসহায়ের মতো আকুতি করে ভাড়া নেওয়ার জন্য। অটো রিকশার দৌরাত্ম্যে পায় না ভাড়া।

অটো আমাদের চলাচল সহজ করে, ম্যানুয়াল রিকশায় চালকদের অমানসিক পরিশ্রম হয়! তাই বন্ধ না করে চালকদের প্রশিক্ষণ/লাইসেন্স আর গাড়ির বডিকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে পরিকল্পনা করাই যেতে পারে। অনেক সময়ই দেখি অটো রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করাই কিন্তু সমাধান নয়। মাথাব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেললে তো চলবে না। মাথাব্যথার একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করতে হবে। সেটা করার জন্য বুদ্ধি বের করতে হবে। সেটা নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষ করবে না। আইন যারা বানায় বা প্রয়োগ করে তাদেরকেই এটা করতে হবে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কিংবা অটো ধরে ভেঙেচুরে কিংবা কেড়ে নিয়ে গরীবের পেটে লাথির মারলে নিশ্চয়ই এর সমাধান আসবে না। সমাধান আনতে হলে ভাবতে হবে সকল দিক বিবেচনায়। আর একটা বিষয়, যেহেতু অটো চলার অনুমতিই নেই সেহেতু কীভাবে এটা তৈরি হয়, কীভাবে বাজারজাত হয় সেটা অবশ্যই দেখা উচিত। শুধু শুধু গরীবের পেটে লাথি মেরে কী লাভ? যারা বানায় তাদের ধরুক, যারা বেচে তাদেরকেও ধরুক।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড