• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণবঙ্গের না, পুরো দেশের

  মাহবুব নাহিদ

৩০ জুন ২০২২, ১৩:২৪
মাহবুব নাহিদ 
মাহবুব নাহিদ 

দল মত নির্বিশেষে সবাইকে এই কথাটা স্বীকার করতেই হবে যে পদ্মা সেতু অবশ্যই এক বিশাল মুক্তির সনদ! এক ইতিহাস! এক নতুন অধ্যায়! সেতুটা হয়েছে এটা আমাদের জন্য আনন্দের! এতে কোনো ব্যত্যয় থাকবে না যে সেতুর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিনম্র শ্রদ্ধা! সমালোচনা করার অন্য অনেক জায়গা থাকতে পারে সেগুলো নিয়ে হোক সমালোচনা সমস্যা নেই কিন্তু আমাদের মত যারা পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে বুকে পাথর চেপে কলিজা হাতে লঞ্চে কিংবা স্পিডবোটে পদ্মা পার হয়েছি তারাই জানি যে এই সেতু কতটা গুরুত্বপূর্ণ!

সেতুর খরচ নিয়ে অনেকেই কথা বলেছে। আদার ব্যাপারী আসলে জাহাজের খবর নিয়ে লাভ নেই। আমি একটা মুখস্থ কথা বলে দিলাম আর হয়ে গেল না! আমাকে জানতে হবে আসলে সেতুতে কত টন রড লেগেছে, কতটুকু সিমেন্ট লেগেছে, বাকি কী কী লেগেছে, কত মেশিন কাজ করেছে, কত মানুষ কাজ করেছে, কতটুকু নদীশাসন করেছে! এখানে নানান হিসাব। তাই না জেনে কাউকে দোষারোপ করলে আল্লাহ্ ক্ষমা করবেন না। যদি কোনো তদন্ত হয়, কোনো অডিট হয় তখন নাহয় এটা নিয়ে কথা বলা যাবে।

উদযাপন নিয়ে কথা! উদযাপন বেশি হয়েছে কিনা সেটা বলতে পারব না কারণ এর আগে তো এত বড় অর্জন আমরা পাইনি! তাই এটা বলা কঠিন। তবে সিলেটে বন্যা চলাকালীন এই উৎসব ঠিক আছে কিনা সেটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন! আমার মনে হয় এই বিষয়টা হয়তো আয়োজকরা ভেবে দেখতে পারতেন। হয়তো উদযাপন কমিয়ে সেখানে সাহায্য করলে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ইতিহাস হয়ে থাকতো! কিন্তু সেটা করেনি বলে বড় অপরাধ হয়েছে তাও বলব না কারণ ত্রাণ আর সেতুর বাজেট আলাদা থাকার কথা। সেতু উদযাপন হোক, ত্রাণও বেশি করে দেওয়া হোক, তাহলেই তো হলো। আমাদের নিশ্চয়ই ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভাব থাকার কথা না।

এবার আসি সেতুতে কী কী করা যাবে বিষয়টাতে! আরে ভাই এটা তো প্রমোদউদ্যান না, একটা সেতু। অনেক সেতুতে পাশে জায়গা রাখা হয়, সেখান দিয়ে মানুষ হাটতে পারে, রিকশা অটো অনেক কিছুই চলতে পারে! পদ্মা সেতুতে যেহেতু সেই অপশন নেই সেহেতু ওখানে গিয়ে বৃথা হাঙ্গামা না করাই শ্রেয় বলে মনে করি।

নামাজের প্রসঙ্গটা ক্লিয়ার করি-প্রথম কথা হচ্ছে অনেকেই বলছেন নামাজের জায়গা নাকি শুধু মসজিদ! তারা একদমই না জেনে কথা বলছেন। নামাজ যখনই পড়ার সময় হবে তখনই পড়তে হবে, তাতে আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন! এখন কথা হচ্ছে যারা নামাজ পড়েছেন তারা আসলে কী উদ্দেশ্যে, কোন কারণে পড়েছেন, কখন পড়েছেন সেটা না জেনে নামাজের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলার আস্পর্ধা একজন মুসলমান হিসেবে আমার নেই। কিন্তু যদি এমনটা হয়ে থাকে যে যারা নামাজ পড়েছেন তারা একদম জায়গা খালি থাকা অবস্থায় পড়েছেন এবং তারা নিজেরা ছবি তোলেননি তাহলে হিসাব আলাদা। আর যদি তারা ছবি তুলে ভাইরাল হবার জন্য করে থাকেন তাহলেও আমার কিছুই বলার নেই। নামাজ আমরা আল্লাহ্ তায়ালার হুকুম হিসেবেই পড়ি। যদি কেউ মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তায়ালাই তার শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। তবে রাষ্ট্রীয় বিধানে সেখানে নামাজ পড়ার জন্য কোনো শাস্তি থাকে তা রাষ্ট্র বুঝবে।

যে মানুষটা প্রসাব করেছে সেটার বিষয়ে বলি। আমি জানি না ছবিটা সত্য কিনা কিন্তু যদি এটা সত্য হয়ে থাকে সে আসলেই মানুষের পর্যায়ে পড়বে না। একে সনাক্ত করে নিশ্চয়ই শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

নাট খোলার বিষয়ে আসি। প্রথম কথাই হচ্ছে যে নাট খুলেছে সে যেভাবেই খুলুক ভুল সে করেছেই। এটা কোনো ভাবেই মানানো যাবে না যে সে ঠিক করেছে। যদি সে প্রশাসনের লোক হতো সে সরাসরি একশনে যেতে পারতো, যদি সে সাংবাদিক হতো তাহলে সে এটা নিয়ে রিপোর্ট করতে পারতো কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে সে ওটা খুলতে পারে না। তার উচিত ছিল কর্তৃপক্ষকে জানানো। আর একটা বিষয় হচ্ছে নাট কেন টাইট না! এটা নিয়ে আমরাও ধোয়াশার মধ্যে আছি। তিন ধরনের বক্তব্য পাচ্ছি। যদি ইঞ্জিনিয়ারিং কারণে লুজ রাখা হয়ে থাকে সেটা বলতে হবে, যদি কাজ বাকি আছে বলে রেখে দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই কাজের দায়িত্বে যারা আছে তাদেরকে প্রশ্নের সম্মুখীন করতে হবে। এত বড় একটা কাজে এমন গাফেলতি করা সমীচীন নয়। অনেক আগেই তো ঘোষণা হয়েছে যে সেতু প্রস্তুত তাহলে কেন এমন হলো? আর তিন ধরনের বক্তব্য কেন আসবে? আমি নিশ্চয়ই ধরে নিব যে এত টাকা খরচ হয়েছে সেখানে এই সামান্য কাজটা না করার পিছনে কোনো যুক্তি নেই। কিন্তু এই যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সেতুর কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই কাজ করে থাকে তাকেও খুঁজে বের করতে হবে।

টিকটক বা ভিডিও প্রসঙ্গে আসি। এরা আসলে সব কিছুর মাঝেই কন্টেন্ট খুঁজে পায়। মানুষের সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনা যাই হোক না কেন তারা দেখে কন্টেন্ট। আমার মনে হয় এটা বন্ধ করতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। প্রশাসন চাইলেই এটা বন্ধ করতে পারবে। আর আমাদের নিজেদেরও বোধ বুদ্ধির বিষয় এটি। যেহেতু অনেক ভালো রাস্তা আর ওয়ান সাইডেড গাড়ি চলবে, অপর পাশ দিয়ে গাড়ি আসার দুশ্চিন্তা নাই তাহলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়ে সতর্ক নিজেদেরই হতে হবে।

মোটরসাইকেল বন্ধ প্রসঙ্গে আসি। মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ বিষয়টা আসলে মাথাব্যাথার কারণে মাথা কেটে দেওয়ার মতো মনে হয়েছে। এখানে অবশ্যই মোটরসাইকেল চালকদেরও দায় আছে। তারা তো মাথায় ক্যামেরা এঁটে বাইকের স্পিড মানুষকে দেখানোর জন্য উতালা হয়ে যায়। এটা তো কাম্য নয়। আর অনেকেই আসলে বাইক চালাতেও জানে না। কোনো প্রশিক্ষণ নেই, নেই লাইসেন্স পাওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা। কারো কাছে লাইসেন্স আছে মানেই যে সে বাইক চালাতে পারে এটা বোঝার কোনো উপায় নেই কারণ আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স আর ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার পদ্ধতিটা খুব ভালো করেই জানি। এটা পুরো জাতির জন্য একটা ব্যর্থতা। এভাবে প্রথম দিনেই দুইজন মারা যাওয়ার ব্যাপারটা খুবই হতাশাজনক। এই সমস্যা সমাধান করাও কঠিন নয়। সেতুতে বিভিন্ন জায়গায় স্পিড ট্রাকার লাগিয়ে একটা নির্দিষ্ট গতির সীমা দিয়ে শাস্তির আওতায় আনা শুরু করলেই ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। কিন্তু মোটরসাইকেল চলা বন্ধ করা সমাধান নয় বলেও মনে করি।

মোদ্দা কথা হচ্ছে সেতু সরকারের সম্পদ না এটা দেশের সম্পদ, জনগণের সম্পদ, এটা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরও। পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণবঙ্গের নয় হয়ে উঠুক সারা বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন এক ভীত।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড