• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আর কত সহ্য করতে হবে?

  রহমান মৃধা

১৭ মে ২০২২, ১৭:০৩
আর কত সহ্য করতে হবে?
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধার ‘আমার বাংলাদেশ’ ও ‘জাগো বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ (ছবি : সংগৃহীত)

ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে হয়েছে কামে হয়নি। যদি শুধু ঢাকা শহর নিয়ে কথা বলি তাহলে সময় শেষ হবে কথা শেষ হবে না। দুইজন মেয়র ঢাকার দায়িত্ব নিয়েছেন- রাস্তা, ঘাট, বস্তি এবং ডাস্টবিনের অবনতি ছাড়া কোন উন্নতি হয়নি, বাড়েনি জনসাধারণেরও সচেতনতা, শুধু বেড়েছে জনসংখ্যা, হাহাকার আর দুর্নীতি।

আজ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনের তিনটি বিষয় আমাকে বেশ যন্ত্রণা দিয়েছে; যার ফলে এখন লিখতে বসেছি। ধর্য্য বা সহ্য কিছুই বাকি রইল না। দেশে দেদারছে চলছে দুর্নীতি। অনীতি হচ্ছে স্বাধীনভাবে অথচ সত্যকে তুলে ধরার হিম্মত, অধিকার বা সাহস কারো নেই? নাকি ইচ্ছে নেই? সব সত্য কী তাহলে পরাজিত হয়ে যাবে মিথ্যার কাছে!

১) জানালার পাশে বসায় এক সিনিয়র ভাই হাতে কলার খোসা ধরিয়ে দিয়ে ফেলে দিতে বললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ভাই, রাস্তায় ফেলা কী উচিত হবে?’ ভাই বললেন, ‘বাসে তো ফেলার জায়গা নেই। বাইরেই ফেলে দাও, বাংলাদেশটাই তো ডাস্টবিন।’ তবে বাসে ঝুড়ি বা ডাস্টবিন থাকলে হয়তো কলার খোসাটি বাইরে ফেলতে বলত না।

বাংলাদেশে দূরপাল্লায় যাতায়াতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম বাস ও ট্রেন। দেশের সিংহভাগ মানুষ এই দুই যানই ব্যবহার করে থাকেন। বাসে বা ট্রেনে যাওয়ার সময় অনেকেই শুকনা খাবার, চিপস, বিস্কুট, পানীয়সহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনেন। এছাড়া বাস বা ট্রেনে হকার, ঝালমুড়ি, বাদাম, পেয়ারা, পানীয়সহ বিভিন্ন বিক্রেতা উঠে পড়েন।

যাত্রীরা তাদের থেকে খাবার কেনার সময় তারা পলিথিন কিংবা কাগজের ঠোঙ্গা দিয়ে থাকেন। যাত্রীরা খাবার খাওয়ার পর পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট, ঠোঙ্গাসহ বিভিন্ন আবর্জনা বাসে বা ট্রেনের ভেতরে ফেলেন। এতে সেগুলো অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

এছাড়া কিছু বাস ও ট্রেনে আবর্জনা ভেতরে ফেলতে নিষেধ করা হয়। ফলে আবর্জনা অনেকেই জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন। এতে রাস্তাঘাট নোংরাসহ পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। তাই এসব যানবাহনে আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন বা ঝুড়ি স্থাপন করা অপরিহার্য। এতে যেমন যানবাহনগুলো পরিচ্ছন্ন থাকবে তেমনি পরিবেশও কিছুটা হলেও দূষণ মুক্ত হবে। বিষয়টি আমলে নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

— নাগরিকের পক্ষ থেকে সমস্যা এবং তার সমাধানের জন্য একটি অনুরোধ প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র কী কিছু করবে?

২) গলি দিয়ে ঢুকতে দুই সারিতে ছোট ছোট ঘর। নম্বরযুক্ত ও নম্বরহীন ‘আলগা’ ঘর। ফাঁকে ফাঁকে টয়লেট, গোসলখানা, রান্নাঘর। কোনো গোসলখানার চারপাশ ঘেরা থাকলেও ছাদ নেই, কোনোটি একেবারেই উন্মুক্ত। তেমন একটি উঁচু পাটাতনের উন্মুক্ত গোসলখানায় কুয়া থেকে পানি তুলে পাশাপাশি গোসল করছিলেন নারী ও পুরুষ।

গা-ধোয়া পানি গড়িয়ে আবার কুয়াতেই ফিরে যাচ্ছিল। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা কোনো বন্দোবস্ত নেই। গোসল, কাপড়-ধোয়া, থালাবাসন ধোয়া, মাছ-মাংস ধোয়া—সবই এখানে করতে হয়।

এভাবে খোলা জায়গায় গোসল করাটা খুব অস্বস্তিকর। কিন্তু উপায় কী?

বস্তিতে মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো গোসলখানা নেই। ঋতুস্রাবের সময় মেয়েরা অবর্ণনীয় অস্বস্তির মধ্যদিয়ে সময় পার করেন। মাসিকের ব্যবহৃত কাপড় তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কারের সুযোগ পান না। ব্যবহৃত কাপড় জমিয়ে রেখে সন্ধ্যার পর গোসলখানা নিরিবিলি হলে পরিষ্কার করতে যান। আরেক শঙ্কা, গোসলের দৃশ্য কেউ ভিডিয়ো করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয় কি-না।

ঢাকায় বস্তিতে থাকে আনুমানিক ৬১ লাখ মানুষ। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০২০ সালের তথ্য অনুসারে, ঢাকার লোকসংখ্যা এক কোটি ৮৪ লাখ।

আরও পড়ুন : আমরা কী সত্যিই দুর্নীতি দূর করতে চাই?

জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ গ্রাম থেকে নগরে আসছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বস্তির সংখ্যা। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার অভাবে বস্তিগুলো নারী ও শিশু বাসিন্দাদের জন্য কঠিন ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ন্যূনতম মৌলিক সেবা পাওয়া কঠিন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে নিরাপদ গোসলখানা।

মাসিকের সময় অস্বস্তি আরও বেশি। মাসিকের সময় তিনি ন্যাকড়া ব্যবহার করেন। দিনের বেলা গোসলখানায় পুরুষদের আনাগোনা বেশি। আর অপেক্ষমাণ সারিও লম্বা। এ কারণে মাসিকের সময় তাৎক্ষণিকভাবে ন্যাকড়া পরিষ্কার করতে পারেন না। ঘরের এক কোনায় জমিয়ে রাখেন। সন্ধ্যার পর গোসলখানা নিরিবিলি থাকে, তখন এসে ন্যাকড়া পরিষ্কার করেন। ঘরের ভেতর শুকাতে দেন।

নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী জানাল, সে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে। তবে তার মা ন্যাকড়া ব্যবহার করেন। মাকেও একই সমস্যায় পড়তে হয়।

— ঘটনাটি জানার পর রাষ্ট্র কী করবে? জাতির এই চরম দুর্দিনে যখন দরকার প্রকৌশলীদের যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে দেশের পরিকাঠামো নির্মাণে, ঠিক তেমন একটি সময়;

৩) বাংলাদেশে আর্থিক খাতে কেলেঙ্কারি, আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

— আর কত সহ্য করতে হবে?

দিন যাচ্ছে আর নতুন নতুন ভিলকি বাজির উদয় হচ্ছে। এতদিন ধরে শুনে আসছি দেশের মানুষ বিদেশে টাকা পাচার করেছে। সরকার মাঝে মধ্যে জনগণকে আশ্বাস দিচ্ছে যারা বিদেশে টাকা পাচার করছে তাদের টাকা দেশে ফেরত আনা হবে। টাকা এবং পাচারকারীর কেউ ফিরে আসেনি আজ অবধি। এবার শুনলাম নতুন কাহিনী সেটা হচ্ছে ভারত থেকে টাকা পাচার করে বাংলাদেশে ইনভেস্ট। এতদিন দেশের টাকা বাইরে গেছে একভাবে, এবারের নতুন খেলায় বুয়েটের মেধাবী প্রকৌশলীর প্রশংসা করতেই হয়।

বাহ, কি চমৎকার! মেহনতি মানুষের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এসব গুনিধারী রত্নদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়েছে, দেশকে সোনার বাংলা করতে সাহায্য করবে অথচ এসব কুলাঙ্গার আমাদের নিচেই বাঁশ এবং হাতে হারিকেন ধরায় দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। দেশের টাকা ভারতে পাচার করেছে সেটাকে প্রকৌশলী কায়দায় এখন বলছে ভারতের টাকা বাংলাদেশে এসেছে।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তার ১১টি বাড়ি, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেয়েছে ইডি। তার আরও সম্পদ পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন : আল্লাহর নির্দেশনা শুধু কুরআনেই

জেরায় পি কে হালদার নাকি কবুল করেছেন তার বাংলাদেশে বিপুল সম্পদের কথা। এর মধ্যে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে দুশো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হোটেল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিঘার পর বিঘা জমি, ময়মনসিংহে চার একর জমি, ঢাকার পূর্বাচলে ষাট বিঘা জমি, ১১তলা একটি মার্কেট প্লাজা, রাঙামাটিতে তিনশো কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত রিসোর্ট, কয়েকটি ফ্ল্যাট যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। এছাড়াও ব্যাংকে একশো কোটি টাকা থাকার কথা নাকি জেরায় জানিয়েছেন পি কে হালদার।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আটজন ইডি অফিসার পালা করে জেরা করছেন পি কে হালদারদের। কখনও একা, কখনও দুজনকে একসঙ্গে বসিয়ে অথবা মিলিতভাবে। কিন্তু কীভাবে ভারতে ভুয়া সব পরিচয়পত্র করিয়েছিলেন পি কে হালদার তার হদিস এখনো মেলেনি।

বাংলাদেশ অতীতে পারেনি ফিরিয়ে আনতে পাচার করা টাকা। তবে ভারত এখন নতুন সুযোগ পেলো, দেশের যে রেমিট্যান্সগুলো জমা হয়েছে সেগুলো লুটপাট করে নেবার। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি এবং শুনেছি রাতের আঁধারে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা সব কিছু বিক্রি করে টাকা, সোনা সব ভারতে পাচার করেছে, এসব পাচার করেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। এবার ভারত সরকারের হাতে হাত মিলিয়ে দেশের সব লুট করার ফান্দা।

ভাবছি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের দায়িত্ব কর্তব্যের কথা! এদের না বেতন দেওয়া হয় দেশের সীমান্ত রক্ষার্থে? এদের না দেশের মালামাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব? যত দোষ শুধু পুলিশের এ যাবত ধরে শুনে আসছি, এখন দেখছি প্রতিরক্ষা বাহিনীও এ কাজে লেগেছে। দেশ তো অতি সত্তর ভারতের দায়িত্বে চলে যাবে যদি এভাবে চলতে থাকে?

দিন মজুরের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বুয়েটে যে সব কুলাঙ্গারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে আজ তারাই দেশটাকে শেষ করতে উঠে পড়ে লেগেছে? এরা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে চাকরি নিয়েছে বিভিন্ন প্রশাসনে, কেউ হয়েছে কূটনৈতিক এবং শেষে যার যা খুশি তাই করছে। এসব শিক্ষা প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হোক, কী হবে এদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে? একের পর এক এরা দেশকে ধ্বংস করে চলছে।

আমরা কি এই জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলাম? কই লাখ লাখ মুসলমান ভারতে রয়েছে তারাও তো সংখ্যা লঘু, কেও তো ভারত থেকে সম্পদ এনে বাংলাদেশে মজুত করছে না? অথচ সব সময় আমাদের দেশের হিন্দুরা কিছু হলেই ভারতে সব নিয়ে দৌড় দেয় কিন্তু কেন? এ দেশটি তো তাদেরও? সরকার কী সত্যিই অচল, অধম এবং অপর হয়ে গেছে যে ভারত ছাড়া অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না?

দেশ চালাতে না পারলে ছেড়ে দিন কিন্তু দেশকে ভারতের কাছে ন্যস্ত করবেন না দয়া করে।

পিকে হালদারকে দিয়ে ভারতের এই নতুন নাটক শুধুমাত্র দেশের অর্থ আত্মসাৎ করার নতুন পলিসি। দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী কী কারণে রয়েছে এ প্রশ্নটিও করে রাখলাম সেই সাথে।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

জবাবদিহিতা নেই ঠিকই তবে অতি সত্তর সেটা দেবার জন্য প্রস্তুত হবার সময় এসেছে। কারণ সীমা লঙ্ঘন করার হিম্মত কাউকে দেওয়া হয়নি, মাইন্ড ইট। বাংলাদেশ কারো বাবার ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের ভালোবাসা, তাকে রক্ষা করতে যে কোন সময় জীবন দিতে প্রস্তুত। আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি, কথা বিক্রি করে নয়, দরকারে নতুন করে আবারও রক্ত দেবো তবু দেশকে রসাতলে যেতে দেব না, ইনশাআল্লাহ।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

(মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা একান্ত লেখকের মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।)

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড