• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা শুধু জনগণের কাছেই থাকার কথা

  রহমান মৃধা

০৫ মে ২০২২, ১৬:০৯
রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা শুধু জনগণের কাছেই থাকার কথা
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধার ‘আমার বাংলাদেশ’ ও ‘জাগো বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশে জনগণের ভোট সরকারের পক্ষে যাবে না বলেই সরকার জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। কারণ সরকার সত্য জানতে ভয় পায় আর সেই জন্যেই জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। যে দেশে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই, সেদেশে গণতন্ত্র থাকে কিভাবে? কিন্তু এর জবাবদিহিতা নেই বলে জনগণ সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত। যে সরকার জনগণের মনের ভাষা বুঝে না, সে সরকার জনগণের সরকার হয় কীভাবে?

এ যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর দোহাই লাগে ভয় এবং আতঙ্ক দেখিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকুন। ভয় নয় ভালোবাসা হোক আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমিনকে স্মরণ করার মূলমন্ত্র। আলো, বাতাস, চন্দ্র-তারা, সূর্য থেকে শুরু করে সবকিছু অসীম শূন্যে বিরাজমান। রবি হতে গ্রহে ঝরছে তার করুণা এবং ভালোবাসা। সেগুলোকে ভালোবাসা দিয়েই শুধু অনুভব করতে হবে, কারণ ভালোবাসায় রয়েছে শুধু ভালোবাসা।

এ ছিল কিছু অপ্রিয় সত্য তথ্য যা উপরে তুলে ধরেছি, বুঝতে সহজ হবে কেন হেডিংয়ে লিখেছি- ‘রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা শুধু জনগণের কাছেই থাকার কথা।’

আসুন জেনে নেই- কেন জনগণের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা? সে প্রসঙ্গে-

দেশের আইনে ফাঁক থাকায় বেআইনই আইনের হাত ধরে চলছে, তারপরও কিছু বলা বা লেখা যাবে না। কিছুদিন আগে দেখলাম সংসদে আইনমন্ত্রী ঠিক মতো কথা বলতে পারছেন না, পরে বললেন তাকে পানি খাইয়ে দিয়েছে। সংসদে এ ধরণের ঘটনা অথচ কিছু বলা যাবে না! পুলিশ এবং প্রতিরক্ষা প্রশাসনে চলছে অনিয়ম। কিছু বলা বা লেখা যাবে না।

অপ্রিয় সত্যকে তুলে ধরা যাবে না। দুর্নীতি হবে কিন্তু কিছু বলা যাবে না। অন্য দিকে মৌলভীদের ধর্মের উপর নানা ধরণের বিশ্লেষণ এবং দ্বিমত সত্ত্বেও কিছু বলা যাবে না। সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। সংবাদপত্রগুলো সত্য খবর প্রকাশ করতে পারবে না। করলে প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাবে। মৌলভীদের সম্পর্কে কিছু বললে ধর্মচ্যুত করা হবে ইত্যাদি।

অথচ রাষ্ট্র সংবিধানে লিখে রেখেছে জনগণের বাঁক স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের কথা, গণতন্ত্রের কথা, ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ সত্ত্বেও রাষ্ট্র চলছে তার নিজের গতিতে। লেখা থাকা সত্ত্বেও সেটা পালন করা হচ্ছে না, কারণ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা হয়নি, হলে অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকত। একই ভাবে ধর্মে পরিষ্কার বলা হয়েছে- অন্যায় করা মহাপাপ, দুর্নীতি করা যাবে না, মিথ্যা কথা বলা যাবে না অথচ সবই দেধারছে করা হচ্ছে। তার মানে সংবিধান এবং ধর্মগ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো মেনে কাজ করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : শিক্ষার মূল রহস্য হোক অনুরাগ সৃষ্টি

রাষ্ট্র অন্য দিকে বিদেশিদের কাছে জবাবদিহিতা দিতে বাধ্য যা আমাকে জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে ছোট করেছে। আমি লজ্জিত আমি ঘৃণিত সরকারের এ কাজের জন্য।

যদি একটু জোরালোভাবে গোটা বিশ্বের গণতন্ত্রের পরিকাঠামোর দিকে তাকায় তবে যে জিনিষটা প্রথমে লক্ষণীয় হবে সেটা হলো জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের মতো কিছু দেশ রয়েছে তাদের জবাবদিহিতা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যেমন আমেরিকার কাছে। তার প্রমাণ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বক্তব্যে যা তিনি গত রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

সত্যি কথা বলতে কি; আজ যদি সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় থাকত তবে অবশ্যই বহির্বিশ্বের এমন কোনো শক্তি নেই যে বলতে পারত জবাবদিহিতা ছাড়া র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র কথা বলেছে যেমন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা ছাড়া র‍্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। তাতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের দেশের মালিক। আমাদের অবস্থান কোথায় দাঁড়াল তাহলে?

যুক্তরাষ্ট্র চায়, র‍্যাব এমন একটি বাহিনী হবে যেটি সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যেমন কঠোর থাকবে তেমনি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় তাই পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে হবে, দেশের জনগণ যেমন ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায় সে দিকে কারো খেয়াল নেই অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কি চাই সেটার দিকে সবার নজর!

তবে হ্যাঁ একটি জিনিস পরিষ্কার সেটা হচ্ছে আমি যেমন সুইডেনে বসবাস করি এখানে আমরা অর্থাৎ জনগণ, সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মতো বলে থাকি রাষ্ট্র বা সরকার কি করবে বা করবে না।

আমি বাংলাদেশি হিসাবে গর্ব অনুভব করব যদি বাংলার জনগণ এধরনের কথা বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বর্ধিত সহযোগিতা ও অগ্রসর অংশীদারিত্ব শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আমার প্রশ্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন?

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে র‍্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন পিটার ডি হাস। শেষে তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাব। এসব জানার পর আমার ভাবনা আর কতদিন চলবে এভাবে! আমার কেন যেন গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লিখা গানের কিছু লাইন মনে পড়ছে, ‘আমরা অপমান সইব না ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইব না, আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝরতে জানি।’ আমরা বাকিরা সবাই নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও নির্লজ্জ অলস হয়ে চুপচাপ সব সহ্য করছি কী কারণে?

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

(মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা একান্ত লেখকের মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।)

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড