• সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ইদ

  রহমান মৃধা

০৩ মে ২০২২, ১০:৩৭
রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ইদ
ইদ উদযাপন করা হচ্ছে ও ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

রোজা রাখো, ক্ষমা চাও, খুলে আছে দ্বার, তাকাও দুচোখ মেলে দ্যাখো রাইয়ান, কান পেতে শোনো গায় সাত আসমান, খোশ আমদেদ এলো মাহে রমাদান!

পবিত্র মাহে রমজান শেষ হয়ে আসছে। সামনে পবিত্র ইদ। গোটা বিশ্বের মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ এক মহা আনন্দের দিন। ইদ মানে খুশি, ইদ মানেই আনন্দ। রমজান মাস ত্যাগের মাস। ত্যাগ করা এবং দিতে শেখার মাস। আত্মত্যাগের মাস।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহ পাকের নির্দেশে সব ধরণের পানাহার থেকে মুক্ত থাকা। এভাবে একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে ইদ। প্রতি বছর ইদের এই আসা যাওয়ার মাঝে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক কিছু শুনেছি, অনেক কিছু ভেবেছি, অনেক কিছু উপলব্ধি করেছি। শুধু প্রশ্ন করিনি ‘কেন’? কেন এই ঈদ এবং কী কারণ থাকতে পারে এর পেছনে?

কেন বা কী কারণ এ বিশ্লেষণ যদি সঠিকভাবে না জানা যায় তবে তৃপ্তি বা আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে না, গড়ে ওঠে না বোধ। ভালোবাসার বোধ, ভ্রাতৃত্বের বোধ, ক্ষমার বোধ, ত্যাগের বোধ, বিবেকের বোধ, নৈতিকতার বোধ।

তাইতো প্রশ্ন জেগেছে মনের মাঝে কবে হবে বোধগম্য? আমার প্রচুর আছে কিন্তু তার কিছুই নেই এটা আমার বোধগম্যে এসেছে, কিন্তু আমি কী ভাবছি যার কিছু নেই তার জন্য কিছু করতে? উত্তর হ্যাঁ বা না হতে পারে। কিন্তু বোধগম্যতা যদি সেই ‘কী ভাবছি’ অনুভূতির মূল্যায়ন না দিতে পারে তখন হ্যাঁ বা না উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন।

সুইডেনের সমাজে যারা প্রভূত অর্থ সম্পদের মালিক তাদের অনেকেই স্ব-অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কাজ করে। কিন্তু যাদের সম্পদ কম তারা এলাকায় কোনো মসজিদ, মন্দির, ক্লাব, বা পাঠাগার গড়ার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

এ ধরনের সমাজসেবা হলো নিজের খেয়ে সমাজের জন্য কাজ করা। এদের প্রাপ্তি বলতে মানুষের জন্য কাজ করার আনন্দ বৈ আর কিছু না। এসব কাজ সুইডেনে সব সময় হয়ে থাকে। বাংলাদেশে রমজান মাসে আমরা অনেকেই এ ধরনের কাজ করে থাকি যাকাতের একটি অংশ হিসাবে।

আরও পড়ুন : স্বৈরাচারীদের কাছে হেরে যাচ্ছে গণতন্ত্র

সুইডিশদের মধ্যেও ভালো-মন্দ আছে তা সত্ত্বেও কেন যেন মনে হয় সমাজ ব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের অনেক রীতিনীতির সাথে বেশ মিল খুঁজে পাই। যেমন এরা বেতনের এক তৃতীয়াংশ ট্যাক্স দেয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ইদানীং সুইডেনেও ইউরোপের অনেক দেশের মতো মসজিদ তৈরি এবং কমিটি নির্বাচনে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে।

ইসলাম ধর্মকে সুইডেন এবং ইউরোপে আগের তুলনায় উদারভাবে দেখা হচ্ছে। যদিও মাঝে মধ্যে নানা সমস্যা দেখা যায়। ইউরোপ খ্রিস্টান প্রধান হলেও এখানে মুসলমানের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

আমার মনে হয় এজন্যই রমজান মাসের আবির্ভাব হয়েছে। আল্লাহ পাকের হুকুম পালন করা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার জন্য রমজান মাসে রোজা থাকার তাৎপর্যের গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার বোধ যদি হৃদয়ে না আসে তবে সে জীবনে সুখ আসবে বলে মনে হয় কি? আমি জানি না, আছে কি কেও যে জানে? বড় সাধ জাগে একবার তাকে দেখার।

এতক্ষণ অনেক কথাই জানালাম এখন বলি আমার অনুভূতি ‘ইদ তখন’ প্রথমেই মনে পড়ে গেলো সেই ‘ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ইদ’ কথাটি।

ছোটবেলায় আমার কাছে ইদের আগের রাতেই ইদ মনে হতো। সে যে কী আনন্দ যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ইদের আগের দিন রাতে শত চেষ্টা করে দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি। কেন জানি ঘুমের ক্নান্তি শরীরে স্পর্শ করেনি। বিছানায় এ দিক সে দিক গড়াগড়ি করতে করতে হঠাৎ সকাল হয়েছে।

ইদের খুশিতে সবকিছু উলোট-পালোট হয়ে যেত। তবুও সব কিছুতে দ্বিগুণ আনন্দের অনুভূতি ইদকে ঘিরে। রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইদ নিয়ে যত সব করণীয় পরিকল্পনা বেড়ে যেত। বিশেষ করে বাসাবাড়ির চাকচিক্য করা এবং নতুন পোশাক সবার জন্য যার ছিল ব্যাপক চাহিদা।

মনে পড়ে প্রায় চল্লিশ বছর আগের স্মৃতি ইদের নামাজের পূর্বে মিষ্টিমুখ অর্থাৎ সেমাই খেয়ে নামাজে যাওয়া যেন একটা সামাজিক রেওয়াজ। না খেলেও জোরপূর্বক খাওয়াতেন মা। এরপর নতুন পোশাক পরে সালামি নিতে অপেক্ষায় থাকতাম। বাবা মা আত্মীয় পরিবার পরিজন বড় সবাইকে সম্মান করলে টাকা হাতে তুলে দিতেন। সেই টাকা দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যেতাম বন্ধুদের নিয়ে।

পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াতাম। সবার বাসায় গিয়ে খির, সেমাই খেতে খেতে একটা সময় আর খাওয়ার কোন রুচি থাকত না। সব মিলে ছেলে বেলার ইদ ছিল পরিপূর্ণ বিনোদনে ভরা। যা এখন শুধু স্মৃতি, তবুও মুছে যাওয়া দিনগুলো আমায় যে পিছু ডাকে, স্মৃতি যেন আমার এ হৃদয়ে বেদনার রঙ্গে রঙ্গে ছবি আঁকে। সেই আগের মতো আনন্দ এখন আর হবে না, হবে কী করে বাবা-মা নেই, কোথাও কেউ নেই সেই ছোটবেলার মতো। তিন যুগেরও বেশি প্রবাসে ইদ করছি। বিদেশে অর্থের পিছুটান না থাকলেও আনন্দ উল্লাসের অনেক ঘাটতি রয়েছে যা কোনোভাবেই পূরণীয় নয়।

আরও পড়ুন : আজ আর কাল নেই

দেশের টানে, নাড়ির টানে মন ছুটে চলে সব সময় দেশের পানে। বিশেষ করে বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে দেশকে অনেক বেশি মনে পড়ে। কারণ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ফলে বোধগম্য হয় ইদ হচ্ছে। তবু সব কিছু মেনেই চলতে হয়। দুঃখ আর বেদনার আরেক নাম প্রবাসীদের ইদ উদযাপন।

পবিত্র ইদের খুশি ধনী, গরীব সবার জীবনে নিয়ে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। এবারের ইদে আমাদের মধ্যে কি বোধগম্য আসতে পারে না? যে বোধগম্য দিতে পারে সমাধান, জীবনের সমাধান! যার প্রচুর আছে এবং যার কিছু নেই এরা কি পারে না বন্ধু হতে? যার কিছু নেই এবং যার সব আছে এদের মধ্যে কি মিলন ঘটানো সম্ভব?

ইদ আমাদের জীবনের শূন্যতাকে পূর্ণ করুক। এবারের ইদ উদযাপন বয়ে আনুক দেওয়া নেওয়ার অঙ্গীকার। ইদ পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানের হৃদয়ের মানবতার দ্বার খুলে দিক তেমনটি কামনা করছি।

কেন বা কী কারণ এ বিশ্লেষণ যদি সঠিক ভাবে না জানা যায় তবে তৃপ্তি বা আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে না, গড়ে ওঠে না বোধ- ভালোবাসার বোধ, ভাতৃত্ববোধ, ক্ষমাবোধ, ত্যাগের বোধ, বিবেকের বোধ।

এতোটা বছর পার হয়ে গেল অথচ তারে (বোধ) আমি চিনতে পারিনি আজও। আলো বা অন্ধকারে মাথার ভেতরে হাজার বার যে জিনিষটি কাজ করে সে স্বপ্ন নয়, শান্তি নয় এমনকি ভালোবাসাও নয়। হৃদয়ের মাঝে জন্ম নিয়েছে বোধ তারে এড়াতে পারা বড্ড কঠিন।

তাইতো প্রশ্ন জেগেছে মনের মাঝে কবে হবে বোধগম্য? আমার প্রচুর আছে কিন্তু তার কিছুই নেই এটা আমার বোধগম্যে এসেছে, কিন্তু আমি কী ভাবছি যার কিছু নেই তার জন্য কিছু করতে? উত্তর হ্যাঁ বা না হতে পারে। কিন্তু বোধগম্যে যদি সেই ‘কি ভাবছি’ অনুভূতির মূল্যায়ন না দিতে পারে তখন হ্যাঁ বা না উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন।

এবারের ইদে আমাদের মধ্যে কি বোধগম্য আসতে পারে না? যে বোধগম্য দিতে পারে সমাধান- জীবনের সমাধান! যার প্রচুর আছে এবং যার কিছু নেই এরা কি পারে না বন্ধু হতে? যার কিছু নেই এবং যার সব আছে এদের মধ্যে কি মিলন ঘটানো সম্ভব?

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

ইদ আমাদের জীবনের শূন্যতাকে পূর্ণ করুক। এবারের ইদ উদযাপন বয়ে আনুক দেওয়া নেওয়ার অঙ্গীকার। ইদ পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানদের হৃদয়ের মানবতার দ্বার খুলে দিক তেমনটি আশা কামনা করছি।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড