• সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্বৈরাচারীদের কাছে হেরে যাচ্ছে গণতন্ত্র

  রহমান মৃধা

০২ মে ২০২২, ১৩:২৪
স্বৈরাচারীদের কাছে হেরে যাচ্ছে গণতন্ত্র
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা এবং গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের সাইনবোর্ড (ছবি : সংগৃহীত)

সকাল পাঁচটা ত্রিশ মিনিটে ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছি কিন্তু ঘুম তার আগেই ভেঙ্গে গেছে। উঠেই রেডি হয়ে গেলাম আরলান্ডা বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে। Eurowings-এ করে Hamburg-এর পথে আমি আর মারিয়া (আমার স্ত্রী)। জার্মান প্লেনে বেশ জায়গা নিয়ে বসার ব্যবস্থা থাকায় স্বল্প সময়ে অল্প ঝামেলার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম হ্যামবুর্গে।

জার্মান জাতির ডিসিপ্লিন এবং এদের সর্বাঙ্গীণ পরিকাঠামো আমাকে আগাগোড়াই মুগ্ধ করে আসছে। ট্রানজিটে বসে অনেক কিছু স্মৃতিচারণ করলাম এবং এর সাথে কিছু কথা ভিডিয়ো করে ফেসবুকে ছেড়েও দিয়েছি। বর্তমানে গোটা বিশ্বই কম বেশি ঝামেলার মধ্যে রয়েছে। শেয়ার মার্কেটের অবস্থা ভালো না চীন, ইউরোপ এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের অসচেতনতার কারণে। নানা ঝামেলার মাঝে মনে পড়ে গেল আমাদের দেশের মরহুম আব্দুল জব্বারের গানের কিছু কথা, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, দু:খের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়!’

ইউক্রেন সমস্যা সবার চোখে পড়ছে, বিশ্বের অনেক দেশই উস্কানি দিচ্ছে যাতে করে একটা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশেও কিন্তু বেশ ঝামেলা চলছে, যা হয়তো বাহির থেকে তেমনটি ইউক্রেনের মতো চোখে পড়ছে না, তবে তিলে তিলে আমরা অন্ধকারের দিকে যেতে শুরু করেছি। অনেকেই হয়তো বলবে সে আবার কি? হ্যাঁ এটুকু লক্ষ্য করলেই বিষয়গুলো পরিষ্কার নজরে পড়বে যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, ডেঙ্গু সমস্যা, দুর্নীতি, অনীতি, শিক্ষার অধঃপতন, গুম, দিনে দুপুরে মানুষ খুন, খাদ্যে ভেজাল সমস্যা, সমস্যা আর সমস্যা।

এত সব সমস্যার মাঝেও অনেকে দেশে বসবাস করছে রাজকীয় পরিবেশে। এ ধরনের রাজকীয় পরিবেশ জানিনে বিশ্বের আর কোথাও আছে কি-না। যেমন প্রতিটি সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাসভবন এবং তাদের নানা ধরনের ভিআইপি সুযোগ সুবিধা যা গণতন্ত্রের পরিকাঠামোর অপজিট দিকে চলেছে। ভাবতেও গা শিওরে উঠে কী করে সম্ভব এত বিরাট আকারে পার্থক্য সৃষ্টি করা মানুষে মানুষে? Heathrow airport-এ কিছুদিন আগে দেখা গেছে বাংলাদেশের দুজন মন্ত্রীকে। ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দাঁড় করিয়ে রেখে কয়েকজন প্রতিবন্ধীকে আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং পরে মন্ত্রী মহোদয়দের। এমন একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখার পরও কি মন্ত্রীদের চোখ খুলেছে সেদিন?

এই সাথে আরেকটি ঘটনা তুলে ধরি; মাননীয় রাষ্ট্রপতি সেদিন স্মৃতিচারণ করলেন পুরনো দিনের। তিনি বললেন- সদ্য নিযুক্ত সংসদ সদস্য হয়েছেন অথচ তখন তার কপালে গাড়ি জোটেনি। তাই রিক্সায় করে সংসদে ঢুকতে বাঁধা পেয়েছিলেন। রিক্সাওয়ালা ঢুকতে পারবে না। উনি তখন তর্ক করেছিলেন গাড়ির ড্রাইভার ঢুকতে পারে তো রিক্সাওয়ালা পারবে না কেন? আমলারা তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংসদ সদস্যদের যাতে করে রিক্সায় আসা যাওয়া না করতে হয়। তাই তারা আজ পাজেরো গাড়িতে চলাচল করেন।

আরও পড়ুন : আজ আর কাল নেই

মাননীয় রাষ্ট্রপতির গল্পে মর্মাহত হয়েছি এই ভেবে তখন না হয় ক্ষমতার অভাবে পারেননি পরিবর্তন আনতে কিন্তু গল্প যখন বলছেন তখন তিনি দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি। বলতে চাচ্ছি এটাই, তা হলো জনগণের প্রতিনিধি হয়ে যদি কেউ ভালো কাজ করতে চায় তখন তাকে প্রথমই সেখান থেকে সরিয়ে বিলাসিতায় ডুবিয়ে দিয়ে ভুলিয়ে দেয়া হয় গরীব দুঃখীর কথা!

তারপর চলে শুধু শাসন, শোষণ আর ভাষণ। শাসন, শোষণ আর ভাষণ নয়, সময় এখন এই জগত থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় খুঁজে বের করা। যুদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কথা বলে পৃথিবীর পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, হবেও না। আমি মনে করি নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে, তার জন্য দরকার সচেতনতার। সচেতনতা তৈরি করতে ঘরের বাহির হতে হবে। প্রকৃতিকে চিনতে হবে, জানতে হবে। ভালো মন্দের পার্থক্যের যাচাই বাছাই করা শিখতে হবে, তবেই হবে সম্ভব পরিবর্তনের।

এখন ভালো থেকে শুধু মন্দের দিকে না ছুটে (যেমন দেশের লাখ লাখ মানুষকে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো। একটি উদাহরণ যেমন পুরনো মিটার তিন মাস আগে নষ্ট বলে খুলে নতুন একটি মিটার লাগিয়েছে, অথচ বিল নিচ্ছে সেই পুরনো নষ্ট খুলে নিয়ে যাওয়া মিটারের নামেই!) বরং মন্দ থেকে ভালোর দিকে অগ্রসর হতে হবে।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

আমার সফর প্রায় শেষের পথে। প্লেন এখনই ল্যান্ড করবে জুরিখে। নতুন সফর শুরু করতে সুইজারল্যান্ডের মধ্যদিয়ে ট্রেনে জার্মানিতে ঢুকবো। আবার আসবো ফিরে নতুন কিছু নিয়ে।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড