• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিশ্বায়ন সত্ত্বেও গরিবই রয়ে গেলাম এখনো

  রহমান মৃধা

২৪ এপ্রিল ২০২২, ১৬:২৯
বিশ্বায়ন সত্ত্বেও গরিবই রয়ে গেলাম এখনো
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

‘মাল্টিপ্লিকেশন মেকস লাইফ মোর কমপ্লিকেটেড’ কথাটি পড়তেই নানাজনের মধ্যে নানা ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার কথা। তবে না হলেও ক্ষতি নেই, কারণ প্রতিনিয়ত নতুন পুরনো কত ঘটনা ঘটে চলেছে, সবকিছুর ওপর সবসময় গুরুত্ব দিতে গেলে বা রিফ্লেকশন করতে গেলে সহজ জীবন দেখা গেলো জটিল থেকে জটিলতর হতে শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো যে জিনিসটি, সেটা হলো জীবনকে সহজ করে মানিয়ে নেওয়া। ‌‌মস্ত বড় দুনিয়া খাও দাও ফুর্তি কর ব্যস হয়ে গেলো? কী দরকার আছে বাবা ঝামেলার মধ্যে ঢোকা!

টানা তিন বছর পর হঠাৎ দেশের বাইরে ঘুরতে এসে ভালো-মন্দের সম্মুখীন হয়েছি। মূলত আমার সমস্যা একান্ত ব্যক্তিগত। কেন সেগুলো শেয়ার করে আর দশজনের ঝামেলার বোঝা বাড়াবো? এমনটি ভাবনা এসেছে মনে প্রথমে। পরে ভাবলাম আমি যেহেতু শেয়ার করি জীবনে ঘটে যাওয়া ভালো মন্দ সবই, তো যে ঘটনাটি আমাকে বেশ তাড়া করে চলেছে কেন সেটা শেয়ার করা যাবে না!

বিশ্বায়নের ফলে প্রতিটি দেশের অর্থনীতির একটি মূল্য ধার্য করা হয়েছে। যার ফলে যদি বা যখনই কিছু করার ইচ্ছে মনে জাগে তখনই ধরে নিতে হবে ভালো কিছুর সঙ্গে ঝামেলাও শুরু হতে পারে, হয়ত দেখা গেলো মনের অজান্তে হুড় হুড় করে একের পর এক সমস্যা এসে হাজির হয়েছে। কথাটি শুনে প্রথমে হাস্যকর মনে হতে পারে কিন্তু পরে বুঝবেন ঠেলা কারে বলে, যাকে বাংলায় বলা হয় কত ধানে কত চাল।

আমার নিজের কথাই বলি, বিশ্বায়নের ফলে আমি নিজে এখনো গরিবই রয়ে গেলাম। কারণ আমার জন্মস্থান বাংলাদেশ। ইংরেজরা ইংল্যান্ডে কথায় কথায় বলে, ‘ওয়ানস এ ফরেনার অলওয়েজ এ ফরেনার।’ প্রায় চার যুগ দেশের বাইরে থাকা সত্ত্বেও দেশের মতো করেই ভাবি আজও। সে আবার কী? যেমন ধরুন আমার বেতন মাসে সুইডিশ টাকায় দেওয়া হয়। মাস শেষে বেতন এলে সে বেতন সঙ্গে সঙ্গে মনের অজান্তে মাল্টিপ্লিকেশন করে নিজেকে বড় একজন ধনী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে ফেলি।

আবার দেখা গেল যেমন এখন আমি সুইডেনের বাইরে স্পেন ঘুরছি। ডিনার করব, খাবারের মেনু দেখলাম, এক পিস মাছ সঙ্গে একটু আলু, দাম ত্রিশ ইউরো। সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে মাল্টিপ্লিকেশন করা শুরু হয়ে গেলো, প্রথমে সুইডিশ টাকা পরে আবার বাংলা টাকায় মাল্টিপ্লিকেশন করে দেখা গেল সামান্য এক টুকরা মাছ ও আলুর দাম কত জানেন?

সবকিছু মিলে দেখা গেলো মোট (৩০*১০*১০)+১০০০ = ৪০০০ টাকা জনপ্রতি। আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতে শুরু করলো, সাথে বিশ্লেষণ করা আরম্ভ করলাম। এ টাকা দিয়ে কমপক্ষে দেশে দশজনের জন্য সুন্দর একটি ডিনার হতো ইত্যাদি। এ ধরনের চিন্তা শুধু তাদের হবে যারা সত্যিকার দূর-পরবাসী বাংলাদেশি ও যারা কঠিন কাজ করে অর্থ রোজগার করে।

আরও পড়ুন : যদি বলি- ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই দেশকে রসাতলে দিচ্ছে!’

দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য এটা কোনো ব্যাপার নয়, কারণ তাদের টাকা যত সহজে আসে ঠিক তত সহজেই খরচ হয়। তবে সেটা শুধু তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে। ইদানীং বিশ্বে এদের সংখ্যা অনেক, যা বিশ্বের ধনী দেশগুলো না ঘুরলে চোখে পড়বে না।

যাই হোক, বার বার নানাভাবে বুঝাতে চেষ্টা করি যে কথাটি, তা হলো- দেশ যদি তার মূল্যায়ন সঠিকভাবে ঘটাতে না পারে, তবে দুর্নীতিগ্রস্তদের অর্থে দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা যাবে না। কারণ দুর্নীতির টাকা গুণ বা ভাগ যায় করা হোক না কেন সেটা দুর্নীতিগ্রস্ত। যেমন বাংলাদেশের টাকা ডলার, পাউন্ড বা ইউরোর কাছে তেমন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে না।

আমি মনে করি বিশ্বায়নে দেশের মূল্য তখনই হবে যখন দেশ ধনী দেশে পরিণত হবে। ধনী দেশের নাগরিকরা সব সময় কিন্তু ধনী নয় কিন্তু তাদের পাসপোর্ট তাদের সে সম্মান দিয়ে থাকে যা আমাদের ক্ষেত্রে এখনও সম্ভব হচ্ছে না। যদিও দেশ ভরা বড় লোক ও তাদের কাড়ি কাড়ি টাকা রয়েছে কিন্তু বিদেশে তাদের তেমন গ্রহণযোগ্য সম্মান আছে কি?

আমার এ কথাগুলোর অনুভূতি শুধু তারাই বুঝবে যারা বিদেশে কঠিন সংগ্রাম করে টিকে আছে। কারণ তাদের মনে ইচ্ছে জাগলেও আমার মতো তাদের বিবেকে বার বার একই প্রশ্ন জাগে কিছু কিনতে বা খেতে গেলে!

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

কেউই কখনো চেষ্টা করে না ঝামেলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে, তবে যখন মাল্টিপ্লিকেশনের বিষয়টি এসে হাজির হয় তখন সবার জীবনে কিছুটা হলেও কমপ্লিকেশন দেখা দেয়। যার ফলে হাজারও ইচ্ছে থাকলেও খাও দাও ফুর্তি কর সম্ভব হয়ে উঠে না, কারণ জীবন শুধু ফুলশয্যা নয়।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড