• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করুণাময় শিক্ষার্থীদের লড়াই করার শক্তি দিক

  কিঙ্কর আহসান

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:১৮
কিঙ্কর আহসান
বামে- কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান, ডানে- হীরক রাজার মতো পতনের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাকার্ড (ছবি: সংগৃহীত)

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্যের বাসার সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন ২৪ শিক্ষার্থী। ১৩ জানুয়ারি আন্দোলন শুরু হবার পর থেকে আজ অব্দি এ নিয়ে একটা লাইনও লিখিনি। আমি জরুরি মানুষ নই। সাধারণ, সামান্য এক লেখক। মানুষের লেখায়, কথায় কিছু আসবে যাবেনা বলেই মনে হয়। তাই নীরব থেকে অন্য কাজে মন দেবার চেষ্টা করেছি।

দেখছি বেশিরভাগ মানুষই ব্যস্ত পরীমনির গায়ে হলুদ, সাকরাইনে ভুলভাল ইংরেজি বলা নিয়ে ট্রল করা আর আইসস্ক্রিম নাচের সাথে তাল মেলানোতে৷ তাদের দোষ দেইনা। দিনের পর দিন শিক্ষাখাতের নানান সংকটের সমাধান না পেয়ে প্রতিবাদ করাটাকে সময়ের অপচয় বলেই ধরে নিয়েছেন অনেকে।

তার চেয়ে পাগলামি করে, অসুস্থ বিনোদনের দিকে নজর দিয়ে একটু হলেও শান্তি পাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হচ্ছে। এই আন্দোলনের খবরে অনেকেই বিরক্ত তাই। ফেসবুকে তাদের নিয়ে আলাপ কমই দেখি। আমিও আন্দোলনের খবর দিয়ে বিরক্ত করতে চাইনা কাউকে।

শুধু বলি, অনশনকারীদের মধ্যে এখন ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর আগে আন্দোলনে হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। আমি কম বোঝা মানুষ। কঠিন রাজনীতি, নিয়ম কানুন এইসব মাথায় ঢোকেনা। আমি লিখছি এই কারণে যে শিক্ষার্থীদের জন্য মায়া হচ্ছে।

তাদের অসহায় মুখগুলো দেখে কষ্ট হচ্ছে খুব। কেউ যেন নেই তাদের পাশে। দুর্বল বলেই আমরা যেন তাদের এড়িয়ে যাচ্ছি।

আচ্ছা এই দেশের সকল শিক্ষার্থীরা কী সামিল হতে পারেনা তাদের লড়াইতে?

আমরা সবাই যখন প্রতিবাদের ভাষার ওপর বিশ্বাস হারিয়েছি তখনও সিলেটে এই শিক্ষার্থীরা হাল না ছেড়ে লড়াই করে যাচ্ছে। জীবন তুচ্ছ করে, ভয় ভীতি ভুলে নিজেদের জন্য, আগামীর শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করতে চাচ্ছে।

গত দুই বছরে অনলাইন ক্লাস, মহামারি, পরীক্ষা পেছানো এইসব নিয়ে সবার অবস্থা নাজেহাল। শিক্ষার্থীরা জীবন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারছেনা। পড়াশোনা বাদ দিয়ে টিকটকে ভিডিও বানানোটা বরং কাজের মনে হচ্ছে। প্রতিবাদ করতেই হবে এমন কোন কথা নেই। তবে ভালো কিছু হলে, কেউ অন্ধকার সময়ের পরিবর্তন চাইলে সাপোর্ট করাটা জরুরি।

লিখতেই হবে, শেয়ার করতে হবে, পথে নামতে হবে এভাবে না হলেও বরং আসুন প্রার্থনা করি যারা ভালো কিছু করে, করতে চায় তাদের জন্য। শুনলাম, গণ-অনশনে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আমি এক অসহায় মানুষ প্রার্থনা করছি শুধু। করুণাময়, এই শিক্ষার্থীদের লড়াই করবার শক্তি দিক। দ্রুত এই সংকটের সমাধান দিক। আলোর দেখা মিলবেই।

লেখক: কথাসাহিত্যিক

ওডি/আজীম

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড