• মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চিন্তা, ভাবনা, কল্পনা আর স্বপ্ন

  রহমান মৃধা

০৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৩৫
চিন্তা, ভাবনা, কল্পনা আর স্বপ্ন
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

আমি বাংলাদেশের রহমান মৃধা, কবি সুকুমার রায়ের মতো (সুকুমার রায়ের নিজের পরিচয় বাঙালি শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর সন্তান এবং তার পুত্র খ্যাতিমান ভারতীয় চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তার লেখা কবিতার বই আবোল তাবোল) আমিও ছোটবেলা থেকেই ভাবতে শিখেছি। আমার মাথায়ও শত শত প্রশ্ন এসেছে ছোটবেলায় কিন্তু বড়দের প্রশ্ন করলে বেশিরভাগ সময় জবাব ছিল একটা- ছোট মুখে বড় কথা, যাও চুপচাপ বই নিয়ে পড়তে বস?

এখনো ভাবি সেসব কথা, জবাব দেওয়ার মতো শত শত মানুষ আশপাশে থাকা সত্ত্বেও কেউ একটু সহানুভূতি দেখায়নি তখন! যাই হোক পরে বয়স হলে কেতাব খুলে, বিশ্ব ঘুরে, দেখে, শুনে এবং জেনে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মিলেছে, আবার অনেক প্রশ্ন এখনো প্রশ্ন হয়ে জীবন চলার পথে ঘুরপাক খাচ্ছে।

আমরা জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতিচারণ করি। অজানাকে জানার জন্য উদগ্রীব হই। আমরা চিন্তা করি, ভাবি, কল্পনা করি এবং স্বপ্ন দেখি। ঘুমের ঘোরে যেভাবে স্বপ্ন দেখি জেগে জেগে কিন্তু একইভাবে স্বপ্ন দেখি না। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখাকে নিয়ন্ত্রণাধীনে আনা সম্ভব। তবে ঘুমের ঘোরের স্বপ্নকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন করা সম্ভব সেটাই এখন ভাবনা! দেহের সব কিছু যখন কম বেশি নীরব, নিস্তব্ধ ঠিক তখনো মস্তিষ্কের কোনো বিরতি নেই, যার ফলে দেহের ইনঅ্যাক্টিভ কন্ডিশনে আমরা যে স্বপ্নগুলো দেখি তার সবকিছু কিন্তু মনে করতে পারি না। যে স্বপ্নগুলো জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় তা কখনো মধুময়, কখনো বিরহ আবার কখনো বা ভয়ঙ্কর হয়ে থাকে।

আমি মনোবিজ্ঞানী নই, তবে যেহেতু আমার মনের মধ্যখানে ঘটে চলেছে শত শত ঘটনা প্রবাহ, সেক্ষেত্রে আমি মনে করি ক্ষণিকের তরে মনোবিজ্ঞানী হলে ক্ষতি কী? স্বপ্নের উপর আমি বেশ চিন্তা ভাবনা এবং কল্পনা করি। অনেক দিনের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে জানতে পেরেছি কিছু কিছু স্বপ্ন যা ঘুমের ঘোরে দেখি তার প্রতিফলন পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।

তাহলে আসুন কিছু অপ্রিয় সত্য ঘটনা তুলে ধরি। মনে কি পড়ে হঠাৎ যেদিন স্বপ্নে বিপরীত বা সমলিঙ্গের সঙ্গে সহবাস হয়েছিল সেদিনের কথা? বাস্তবে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও কল্পনায় হয়তো চিন্তা করেছি কিন্তু ঘুমের ঘোরে ঘটে যাওয়া স্বপ্নের প্রতিফলন আর কিছু না হোক মনে করিয়ে দিয়েছে শরীরে যৌবনের ঢেউ এসেছে, যা খুবই ন্যাচারাল অথচ, এবিষয়ে আলোচনা করা সমাজে নিষিদ্ধ! নিষিদ্ধ হোক আর না হোক কিছু যায় আসে না। কারণ যৌবনের সেই প্রথম অভিজ্ঞতা স্বপ্নেই অর্জন, পৃথিবীর সকল মানুষের না হলেও বাংলাদেশের মানুষের এ বিষয়ে নিশ্চিত।

আরও পড়ুন : শুধু শপথের বাণী পড়লে হবে না, ঘটাতে হবে প্রতিফলন

আমার জীবনে আরেকটি স্বপ্ন বার বার সত্যি হয়ে হাজির হয় যা আর কারো ক্ষেত্রে হয় বা হয়েছে কি-না জানিনে, তবে জানতে ইচ্ছে করে। অনেক সময় আমরা স্বপ্নে দেখি, লটারিতে অনেক টাকা জিতেছি, কিন্তু বাস্তবে হয়তো সেটা ঘটেনি। তবে আমি হয়তো প্রত্যাশা করছি একটি ভালো চাকরি হবে, আমার ছেলে-মেয়ে যেহেতু খেলাধুলা করে সেক্ষেত্রে হয়তো ভাবছি বড় একটি খেলায় জিতবে। এমন একটি সময় ঘুমের ঘোরে হঠাৎ বেশ আলাঝালা স্বপ্ন দেখি, যা সত্যিই মন খারাপ হবার মতো, পরে দেখা গেলো আমার সেই প্রত্যাশিত চাকরিটা হয়নি বা ছেলে-মেয়ে খেলায় পরাজিত হয়েছে।

বহুবার বহু বছর ধরে এ ধরনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমি জড়িত রয়েছি। আমার জীবনে অনেক ভালো ঘটনাও কিন্তু ঘটে চলছে কিন্তু ঘুমের ঘোরে খারাপ স্বপ্নের মতো ভালো স্বপ্ন দেখি বলে মনে পড়ে না বা ভালো স্বপ্ন দেখলেও পরে ঘুম ভাঙ্গলে মনের মতো সেই চাওয়া পাওয়ার ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে বলে তাও মনে পড়ে না। অথচ খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন কেন যেন বাস্তব ঘটনার পূর্বাভাস হয়ে আমাকে আগেভাগেই ইঙ্গিত দেয়।

এখন স্বপ্নের এই ইঙ্গিতই কি তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পূর্বাভাস? হয়তো যেটা ভাগ্যে লেখা হয়েছে তার সঙ্গে মিল না থাকার কারণে দুঃস্বপ্ন দেখা। ঘুমের ঘোরে কল্পনার রমণীর সঙ্গে সহবাস হলেই যে বাস্তবেও সেটা সত্যি হয়েছে বা হবে তা নয়, তবে সে স্বপ্ন অভিজ্ঞতা দিয়েছে, স্মরণ করে দিয়েছে যৌবনকে।

আমার প্রশ্ন তাহলে বিরহ বা পরাজয়ের যে বাণী স্বপ্নে জানিয়ে যায় এবং বাস্তবের সঙ্গে যদি বার বার সে স্বপ্নের মিল খুঁজে পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ?

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

ছোটবেলার মতো এখনো মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার। তাই অনেক সময় নিজেই নিজেকে বলি, মিথ্যা বাজে বকিসনে আর খবরদার।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড