• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উদীয়মান তারকার দেশ বাংলাদেশ

  রহমান মৃধা

১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:২৯
উদীয়মান তারকার দেশ বাংলাদেশ
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

আমি সদ্য লিখেছি ‘আত্মবিশ্বাস ছাড়া প্রতিভার বিকাশ ঘটবে না’। এর আগেও লিখেছি অনুপ্রেরণা মূলক ঘটনা নানা বিষয়ের উপর। শুধু যে ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য লিখি তা নয়, বরং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিশ্ব নাগরিক হয়ে টিকে থাকতে হলে ইনোভেটিভ চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে সেই উদ্দেশ্যে লিখি।

আজ আমি আমার শেয়ার ভ্যালুর কনসেপ্ট থেকে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সেটা হলো মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার উপর দক্ষতা অর্জন করার পেছনে কি কি সুবিধা রয়েছে সেটা নিয়ে। বর্তমানে চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে টেকসই কর্মী হিসাবে টিকে থাকতে। যেমন- শেয়ার বাজার নির্ধারণ করছে কী চাহিদা কেন চাহিদা ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে একই ধারায় প্রশিক্ষণকে চলমান রাখলে সে শিক্ষা শুধু গুদাম জাত হয়ে পড়ে থাকবে।

কারণ শিক্ষার যদি ডিমান্ড না থাকে তবে সে শিক্ষা বিক্রি করা যাবেনা। ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফ্রেন্স এসব ভাষার দৌরত্ব বিশ্বে বেশি, কারণ অতীতে ব্রিটিশ, স্পেন, ফ্রান্স বিশ্বের বহু দেশ দখল করে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে মানুষ মাতৃভাষার পাশাপাশি এসব ভাষা শিখেছে। যার ফলে চাকরি পেতে সহজ হয়েছে।

এখন পরিবর্তনের যুগে লক্ষণীয় বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনৈতিক ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। গণচীন একটি চমৎকার উদাহরণ। চীন বিশ্ব বাণিজ্য প্রবেশ করার পর ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার অনেক দেশের গতি-প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, যেসব দেশের হাতে তেল ও ধাতুর মতো মূল্যবান সম্পদ আছে, তাদের সময়ও বদলে যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব মনে করেছিল, চীনের মতো বড় দেশ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের পথেও হাঁটবে। মানুষ স্বপ্ন পূরণের সক্ষমতা অর্জন করলে কথা বলার স্বাধীনতাও দাবি করবে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের সেই কৌশল কার্যকারী হয়নি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হওয়ার পর চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। এখন তারা অনিবার্যভাবে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হওয়ার পথে এগোচ্ছে।

১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ম্রিয়মাণ। প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের সস্তা পণ্য উৎপাদন করত তারা। তার যে গুরুত্ব ছিল না তা নয়, কিন্তু তা কোনোভাবেই বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে চীন উঠে আসতে শুরু করে। তার উত্থানের সঙ্গে বিশ্ব ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এ উত্থানের পেছনে চীনের জাতিগত ঐকমত্য প্রধান ভূমিকা পালন করেছে—চীনা শ্রমিক শ্রেণির আকাঙ্ক্ষা, উচ্চ প্রযুক্তির কারখানা, চীনা সরকারের সঙ্গে পশ্চিমা বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : হৃদয়ে বাংলাদেশ

চীন ধীরে ধীরে বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে। সস্তা শ্রম তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। চীনের এ প্রবেশ নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ঝাঁকুনি দেয়। এর প্রভাব এখনো সারা পৃথিবীতে অনুভূত হচ্ছে।

এখন চীনের জনগণ ছাড়া খুব কম লোকই রয়েছে বিশ্বে যারা চীন ভাষা শিখে। আমরা ইংরেজি শিখে চেষ্টা করি বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে। এখন কর্ম ক্ষেত্রের সকল স্তরে লক্ষণীয় চীন বিশ্বকে ডমিনেট করতে শুরু করেছে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে। সে ক্ষেত্রে আর দেরি নয়, চীন ভাষার চর্চা শুরু করার এখনই চমৎকার সময়।

শুধু ভারত বা আমেরিকাপন্থি হলে চলবে না। ভারত বড় দেশ, স্বাভাবিক ভাবেই ভারত বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি থেকে শুরু করে নানা ভাবে প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করে। এটা খুবই স্বাভাবিক।

সোভিয়েত ইউনিয়নের দাপটে ইউরোপের আশেপাশের ছোট ছোট দেশগুলো কোন এক সময় অস্থির ছিল, তখন তারা ন্যাটো জোট তৈরি করে। আমাদের উচিৎ হবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা, তাদের ভাষা শেখার পাশাপাশি তাদের কালচার জানা। এতে করে একটি ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক যেমন তৈরি হবে একই সাথে বাংলাদেশে কেউ হুট করে চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। ব্যবসা বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিনিয়োগের সাথে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হলে চীন ভাষা শেখা আমাদের আশু প্রয়োজন।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

বাংলাদেশ জনবহুল দেশ, হিউম্যান রিসোর্স ছাড়া তেমন কোন ভালো সুযোগ আমাদের এই মুহূর্তে নেই। সে ক্ষেত্রে ম্যান পাওয়ারকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার এই উদ্যোগে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করছি।

লেখক : সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড