• শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাষ্ট্রতন্ত্র নয় দরকার গণতন্ত্রের

  রহমান মৃধা

১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৫:১৫
রাষ্ট্রতন্ত্র নয় দরকার গণতন্ত্রের
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

গোটা বিশ্বে অসুস্থ এবং বিকৃত চিন্তাধারার মানুষ নামের দানবের আবির্ভাব দেখা দিয়েছে। এদের জাতি-ধর্ম-বর্ণ বলে কোনো কথা নেই, কারণ এরা অসুস্থ। কিছুদিন আগে নরওয়ের এক দানব তীর ছুঁড়ে কয়েক জনের জীবন নাশ করেছে। কয়েক বছর আগে এক ডেনিশ সুইডেনের রাস্তায় কোরআন শরীফ পুড়িয়ে মুসলিম যাহানের মানুষের মনে আগুন লাগিয়েছে।

আমেরিকার স্কুলে ঢুকে দেখা যায় মাঝে মাঝে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের গুলি করে মেরে কেও মজা পায়। মধ্যপ্রাচ্যে নিজের দেহে বোম বেধে শত শত মানুষের জীবন নাশ করে। গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনা যেমন কোরআনকে হিন্দুদের মন্দিরে রেখে দুটো ধর্মের মধ্যে বিরোধ ঘটানোর মত জঘন্য কাজ করেছে। এরা কারা? এরা মানুষ নয় এরা দানব। এদের কাজই সমাজে অপকর্ম করে অরাজকতা সৃষ্টি করা। এখন এ ধরণের দানবদের সাথে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতিবাজ, ধর্ষণকারী, ঘুষখোর এবং কালপ্রিটরা।

এদেরকে নজরদারি করার জন্য রয়েছে বিশ্বের সব দেশেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এখন তাদের মধ্যেও দানব তৈরি হয়েছে, যার ফলে পুলিশের এক ওসি নাম প্রদীপ কিছুদিন আগে দেশের একজন তরুণ অবসর প্রাপ্ত আর্মি অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

শুরু থেকে বলেছি, এরা বিশ্বের সর্বত্র বিরাজমান। আমি আমার লেখায় আমার বসতবাড়ি যে দেশে সেই দেশ (সুইডেন) এবং মাতৃভূমি বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো সাথে কী করণীয় এবং কী বর্জনীয় তাও উল্লেখ করব।

সুইডেনে বন্যা বিধ্বস্ত, আগুন লাগা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সিকিউরিটি গার্ড, পুলিশ, ফ্যায়ারমানসহ যোগ হয় মিলিটারি বা প্রতিরক্ষা বাহিনী। কী কারণে? দেশের বিপদে সবাই একত্রিত হয়ে বিপদের মোকাবিলা করতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশকে রক্ষা করতে। এমনটি বাংলাদেশেও হবার কথা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়েও থাকে। সবার মূল লক্ষ্য জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া।

সুইডেনে যেমন করোনা মহামারির সময় দেখা গেছে ডাক্তার, নার্স, এ্যাম্বুলেন্সসহ ট্রান্সপোর্টের দায়িত্বে যারা ছিল তারাসহ আরও অনেক দায়িত্ববান কর্মরত ব্যক্তি দেশের মানুষের জীবন রক্ষার্থে অনেকের জীবন বিসর্জন দিয়েছে, দেশের এবং দেশের জনগণের স্বার্থে। দুর্নীতির কোনো রিপোর্ট নজরে পড়েনি।

বাংলাদেশে একই কাজ করেছে সাথে প্রচণ্ড দুর্নীতি হয়েছে যা সুইডেনে হয়নি। তাহলে প্রশ্ন জনগণের ট্যাক্সে এদের মাসে মাসে বেতন দেওয়া হয় দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা থেকে শুরু করে তার পরিকাঠামো মজবুত করার জন্য। অথচ কিছু কিছু দানবেরা নিজেদের স্বার্থচিন্তা করে জনগণকে সর্বহারা করছে, এদেরকে ধরে ধরে কাঠগড়ায় ঝুলাতে হবে। কিন্তু সেটা সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে।

অনেকে দেশের বর্তমান ঘটনার নিন্দা করে বলছে যেমন হামলার সময় সরকারি দলের লোকজন কোথায় থাকে? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দলের তাণ্ডবে বিএনপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীই তো মাঠে দাঁড়াতে পারেন না। তাহলে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়, বাড়িঘরে হামলাকারীদের সরকার আটকাতে পারছে না কেন? এরা কী সরকারের থেকেও শক্তিশালী?

দেশি-বিদেশি চক্র কী এ হামলায় উসকানি দিচ্ছে? নাকি সরকার হামলা আটকাতে চায় না, বরং সুবিধা নিতে চাইছে? জনমনে এখন নানা ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। যারা এ কাজে সাহায্য করেছে মূলত এরা শতভাগ দায়ী অন্যায়কে সাহায্য করার জন্য। এই সমস্যার সমাধান না হলে বাংলাদেশ কখনও গণতন্ত্রের সঠিক পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারবে না।

আরও পড়ুন : বিশ্বে মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমে বেড়ে চলেছে

এবার আসা যাক দেশের সিস্টেমে এবং তার গড়-মিলের উপর। দেশ থেকে ব্রিটিশ বিতাড়িত হলেও শাসন বিতাড়িত হয়নি আজ অবধি। সেই ব্রিটিশ আমলে জনগণের পেটে লাথি মেরে দেশের সাব-ডিভিশন কর্মকর্তা এসডিও সব কিছু লুটপাট করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পরিচালিত করত। পাকিস্তানের সময় একই অবস্থা দেখেছি। এখনো দেশে সেই প্রথা বিরাজমান। পার্থক্য এখন ইউএনও, ডিসি, কমিশনার আরও কত কিছু যুক্ত হয়েছে।

জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি, কারণ কি! শাসন-শোষণ আর ভাষণ ছাড়া দেশ নতুন তেমন কিছু পায়নি। সবাই বলছে দেশের উন্নতি হয়েছে। কী উন্নতি হয়েছে বলেন? পুরো ঢাকা শহরের লাখো লাখো ঘর দুয়ার তৈরি হয়েছে। এখন হঠাৎ করে বলা হচ্ছে ঢাকা শহরের ৯৫ শতাংশ বাড়িতেই সেপটিক ট্যাংক নেই। আর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বাড়িতে নেই সোক ওয়েল। এগুলো নিশ্চিত করার জন্য বাড়ি মালিকদের উদ্যোগ গ্রহণে বাধ্য করতে হবে। কিন্তু একই সাথে এটাও বলার কথা ট্যাংকের পানি যাতে করে দূষিত না হয় তার দিকে নজর দিতে হবে। সেটা এখন কেও বলবে না দূষিত পানি পান করে যখন মানুষ মরবে তখন বলবে।

এ রকম শত শত ঘটনা ঘটে চলেছে দেশে যার কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই, নেই মজবুদ শহর পরিকল্পনা। যেমন নজরে পড়েছে সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ১২ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩১০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৮ টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের তথ্য মতে- সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব টাকা পাচার হয়েছে। কীভাবে বা কোন সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে সেটা জানা দরকার। দেশের ত্রুটি খুঁজে বের করা যত সহজ ভালো কাজ খুঁজে বের করা তত সহজ না কারণ সঠিকভাবে কোনো কাজই হচ্ছে না। এই না হবার পেছনে যে জিনিসের অভাব সেটা হলো সিস্টেম।

আমলাদের রাজ্যে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না, হতে পারে না। যে দেশে বাড়ির মালিক হয়েছে কাজের লোক আর কাজের লোক দখল করেছে ক্ষমতা, বন্ধ করা হয়েছে মালিকের বাঁক স্বাধীনতা সেদেশ কখনো সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে না। আমি আশ্চর্য হচ্ছি, দেশের ৯০% লোক অত্যাচারে জর্জরিত, দেওয়ালে পিঠ আটকে আছে তবুও সাহস করে ধাক্কা দিতে পারছে না। মাত্র ১০% লোক পুর দেশের বারোটা বাজিয়ে দেশকে ধ্বংস করছে।

কোথাও কেও নেই যে বা যারা এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত রাখে! ব্রিটিশ সিস্টেমের জলাঞ্জলি দিতে হবে, জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে এবং দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে, নইলে যেমন চলছে তেমন করে খাপ খেয়ে, সময় পার করে ওপারে চলে যেতে হবে।

সদ্য ঘটেছে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চলন্ত ট্রেনে এক নারীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ সময় ট্রেনে উপস্থিত অন্য যাত্রীরা কিছুই না করে শুধু চুপচাপ বসে ধর্ষণের ঘটনা দেখছিল। দেশটির ফিলাডেলফিয়ার শহরতলিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বরাতে খবরে বলা হয়, শুক্রবার ৩৫ বছর বয়সী এক নারী চলন্ত ট্রেনে ধর্ষিত হয়েছেন। যাত্রীরা সবাই দেখল এক নারী ধর্ষিত হচ্ছেন। ওই ট্রেনে ৯১১জন যাত্রী ছিলেন। কিন্তু ওই নারীর সহায়তার জন্য কেউ এগিয়ে আসলেন না, কেউ বাধা দিল না। কেউ ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলেন না। বাংলাদেশে প্রতিদিন এরকম শত শত ঘটনা চোখের সামনে ঘটছে কিন্তু কেও কিছু করছে না, করবে না কারণ মানবের নয় দানবের সমাজে আমাদের বসবাস এখন।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

এত কিছুর পরও কিছুই কি করার নেই আমাদের? মনে কি পড়ে? ... তোমার স্বাধীনতা গৌরব ও সৌরভে

এনেছে আমার প্রাণের সূর্যে রৌদ্রেরও সজীবতা

দিয়েছে সোনালি সুখী জীবনের দীপ্ত অঙ্গীকার

সারা বিশ্বের বিস্ময়, তুমি আমার অহংকার, একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার… তাহলে?

লেখক : রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড