• শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এমনও বন্ধু আছে তাকে কি চেনেন?

  রহমান মৃধা

১৩ জুলাই ২০২১, ১৪:৫২
এমনও বন্ধু আছে তাকে কি চেনেন?
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

হ্যালো মাটস চিনতে পেরেছ আমাকে? বহু বছর আগে সেই যে কলেজে শেষ দেখা, তা কেমন আছো? মাটস চিনেও প্রথমে না চেনার ভান করে বলল কলেজে, কবে কখন? সুজান উত্তরে বলল কেন আমরা তো একই কলেজে পড়েছি দুই বছর। পরে ইন্টারমিডিয়েট শেষে তুমি চলে গলে স্টকহোমে আর আমি আমেরিকায়। ও এবার মনে পড়ছে, তা তুমি কেমন আছো, কী করছো, কোথায় থাকো এখন?

সুজান উত্তরে বলল তোমার কি খুব তাড়া এখন? মাটস বলল কেন? যদি সময় থাকে তাহলে চলো এক সঙ্গে ‘ফিকা’ করি। ‘ফিকা’ বলতে সুইডেনে কফি হাউজের আড্ডা খানাকে বোঝায়। মাটস সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল।

দশ বছর পার হয়ে গেছে। মাটস এবং সুজান এক সঙ্গে দুই বছর পড়েছে। মাটস দেখতে যেমন হ্যান্ডসাম তারপর লেখাপড়ায় তখন ভালো ছাত্র, অন্য দিকে সুজান তখনকার সময়ে কলেজের সব চেয়ে সুন্দরী রমণী। মনে মনে সুজানের প্রেমে পড়েছে মাটস কিন্তু সাহস হয়নি তা প্রকাশ করার। সুজানের পিছে অন্য সব ছেলেদের আকর্ষণ দেখে মাটস তখন ভেবেছে, বলে লাভ হবে না তাই দূর হতে সুজানকে দেখেছে আর মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থেকেছে।

আজ এত বছর পর দেখা সেই অতীতের প্রেমিকাকে, তার পর কফি খেতে অনুরোধ, কী আছে জীবনে ভাবছে মাটস, হঠাৎ ভুলে গেছে সে বিবাহিত। পুরনো প্রেম হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যে হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। সুজান মাটসের মনের কথা জানবে কী করে, মাটস তো কখনও কিছু বলেনি তাকে। মাটস মনে মনে ভালোবেসেছে এক সুন্দরী রমণীকে যে লেসবিয়ান এবং যার আকর্ষণ নারীর প্রতি। কফি অর্ডার দিয়ে দুজনে বসে মনের আনন্দে কথা বলছে, এ কথা সে কথা, হঠাৎ সুজান বলতে শুরু করে তার মনের কথা।

সুজান সরাসরি মাটসকে জিজ্ঞেস করল, মাটস তুমি কি তোমার স্পার্ম ডোনেট করবে আমাকে? আমার না মা হবার খুব সখ, তোমার মতো একজন সুদর্শন পুরুষের সন্তানের মা হতে চাই। মাটস সুজানের কথা শুনে অবাক, বলো কী আমি তো বিবাহিত, তারপর তোমার স্বামী যদি জানতে পারে সেই বা কী বলবে?

আরও পড়ুন : কোন ধরনের রাগ করা ভালো?

সুজান উত্তরে বলল, মাটস আমি লেসবিয়ান। মাটস আরো হতভম্ব সেজে গেল! সুজান একের পর এক তার মনের কথা বলে চলছে তার কলেজ বন্ধুকে। অন্য দিকে মাটস তার কল্পনায় সুজানকে নিয়ে ভালোবাসার মালা গেঁথে চলেছে। মাটস শুধু ভাবছে সুজান কি সত্যি সত্যি লেসবিয়ান! ফিকা শেষ করে দুজন দুজনার থেকে বিদায় নিতে সুজান মাটসকে জড়িয়ে ধরে একটু ইন্টিম হ্যাগ দিয়ে বলে গেল, না করো না প্লীজ।

মাটস বিষয়টি নিয়ে বেশ ভাবছে, আপটারঅল সে তো সুজানকে মনে মনে ভালো বেসেছে, মাটস মনে মনে এও ভাবছে আজ সুজান পৃথিবীতে এত লোক থাকতে তার স্পার্ম নিতে চেয়েছে এটাই যেন এক বিশাল বড় ব্যাপার। মাটস প্রথমে বিষয়টি দুই বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে। বন্ধুরা শুনে বেশ আপ্লুত হয়ে বলল, এক সঙ্গে পড়েছ, তুমি সুজানকে মনে মনে ভালোও বাসতে, আজ এতো বছর পর তোমার স্পার্ম নিতে চেয়েছে, তা সমস্যা কোথায়? দিয়ে দাও।

এ দিকে মাটস এবং তার স্ত্রীর সন্তান হবার কোনো লক্ষণ নেই ডাক্তার বলেছে, তাই তারা আফ্রিকার থেকে একটি পালিত পুত্র আনতে অ্যাপ্লাই করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে কথা শেষে মাটস বিষয়টি তার স্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করে। মাটসের স্ত্রী (নাম লেনা) বিষয়টি শুনেই মাটসকে প্রথমে সন্দেহ করে। মাটস বলে লেনাকে, সুজান আমার কলেজ ফ্রেন্ড,তারপর সে লেসবিয়ান, তুমি ভুল বুঝো না প্লিজ। লেনা এতক্ষণে রাজি হলো, তবে শর্ত দিলে যে সে এবং মাটস একসঙ্গে সুজান এবং তার সমকামীর সঙ্গে দেখা করবে।

আবারও কফি সোপে তাদের দেখা। সুন্দরী রমণী সুজানকে দেখে লেনার গা জ্বলতে শুরু করেছে। এ দিকে সুজানের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে মাটসের সঙ্গে তার বহু বছরের প্রেমের সম্পর্ক। এ কথা সেকথা বলতে বলতে সুজানের সমকামী এসে হাজির। শরীরের গঠন, চেহারা এবং বয়স দেখে মাটস বেশ চমকে গেছে, ভাবতেই পারছে না কীভাবে সুজান তার সঙ্গে সংসার করছে? তারপরও মাটস রাজি যে তার স্পার্ম সুজান নিবে।

আরও পড়ুন : সাইবার আক্রমণ

যদিও লেনা প্রথমে তেমন রাজি হচ্ছে না। কারণ তার ধারণা পরে যদি সুজানের সঙ্গে মাটসের ভাব হয়ে যায় এই ভেবে। হঠাৎ সুজান বলল বাচ্চা পেটে ধারণ করবে আমার সমকামী। এ খবর শোনার পর মাটস চুপসে গেল, সে মনে মনে ভাবছে এই কুৎসিত চেহারার মেয়েকে আমার স্পার্ম দিব না। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে মাটসের ধ্যানে শুধুই সুজান, অথচ হঠাৎ জানতে পারল ঘটনা ঘটবে তার সমকামীর সঙ্গে। বেশ ইতস্তত বোধ করতেই লেনা বেশ ফুর্তির সঙ্গেই রাজি হয়ে গেল এবং সুজানকে বলল যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজটি সম্পন্ন কর।

মাটস কথা দিয়েছে স্পার্ম ডোনেশনের, এখন কথা ভঙ্গ করার উপায় নাই। প্রসঙ্গত সুইডেনসহ ইউরোপের অনেক দেশেই স্পার্ম ডোনেশনের প্রথা রয়েছে। অনেকে রক্ত বিক্রি করার মতো স্পার্ম ডোনেশন করে। আবার অনেক সময় লিভিং ট্যুগেদার সম্পর্কে ভুল বাঝাবুঝি থেকে যদি হঠাৎ বাচ্চা হয়, সেক্ষেত্রে স্পার্ম পরীক্ষা করা হয়। আজ এসেছে মাটস তার স্পার্ম দিতে ক্লিনিকে। ঢুকতেই দেখে তার এক বন্ধু সেখানে। মাটস জিজ্ঞেস করে সে কেন সেখানে?

উত্তরে বন্ধু বলল, তার বান্ধবীর ধারণা তার স্পার্মে সমস্যা আছে তাই তাদের সন্তান হচ্ছে না। যাই হোক দুজনে দুটি ছোট গ্লাস এবং লেবেলিং নিয়ে যার যার রুমে ঢুকে স্পার্ম সংগ্রহ করে ল্যাবে দিতে গিয়ে দেখে নার্স সেখানে নেই। এ দিকে মাটসের বন্ধুর তাড়া। সে মাটসের কাছে তার স্পার্ম রেখে চলে গেল। মাটস এই ফাঁকে তার নিজের স্পার্মে বন্ধুর লেবেলিং এবং বন্ধুর স্পার্মে তার লেবেলিং লাগিয়ে সেখান থেকে পরে সে বাড়িতে চলে আসে।

মাস খানেক পরে সুজান ফোন করে মাটসকে জানায় তার সমকামী প্রেগন্যান্ট। একই সাথে মাটসের বন্ধু ল্যাব থেকে খবর পেয়েছে তার স্পার্মে জটিল সমস্যা ধরা পড়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। এ খবর শোনার পর মাটসের বন্ধুর খাওয়া দাওয়া ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সে বেশি দিন বাঁচবে না। ঘটনা শোনার পর মাটস আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

সবাই এখন ভাবছে ঘটনা কী? মাটস কত বড় দয়ালু এক সমকামী বন্ধুকে তার নিজের স্পার্ম দিয়েছে ভালোবাসার টানে। আজ মাটস তার বাল্যবন্ধুর অসুস্থতার খবর শুনে নিজেই মৃত্যুশয্যায়। সবার মুখে শুধু মাটসের গুণগান, বিপদে এমন বন্ধু এ যুগে পাওয়া বড় দায়, কিন্তু কেউ জানে না মাটসের গোপন রহস্য। লেখাটি পড়ার পর এমনও তো হতে পারে সবই আমার কল্পনা। অনেক কথা যাও যে ব'লে কোনো কথা না বলি। তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি। যাই হোক চলছে জীবন নিয়ে খেলা। কী হবে মাটসের, কী হবে মাটসের বন্ধুর এবং কী হবে যেদিন সুজান সত্যি ঘটনা জানবে!

লেখক : রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড