• বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাজার নিয়ন্ত্রণে জরুরী পদক্ষেপ নিন 

  ইমরান হুসাইন

০৯ জুলাই ২০২১, ১৭:১৭
dfgdg
ছবি : দৈনিক অধিকার

করেনাভাইরাসের তাণ্ডবে সারা বিশ্বের দুই শতাধিক দেশের মতো বাংলাদেশও ব্যাপকভাবে করোনার এই ভয়াল থাবায় আক্রান্ত। যার প্রভাবে জনজীবন হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত। পাল্টে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের গতিধারা। করোনার এই ভয়াবহ অবস্থার কারণে দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। চারিদিকে এত মৃত্যু স্বাভাবিক ভাবেই আতংকিত করে তুলেছে মানুষকে। সমাজের মানুষ যখন আতঙ্কিত এবং বেশ হতাশাজনকভাবে সময় কাটাচ্ছে তার মধ্যেও মাথাচাড়া দিয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করছে নানাবিধ সমস্যাগুলো যার প্রভাব পড়ছে সমাজের খেটে খাওয়া ও মেহনতী মানুষদের উপর। একেরপর এক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের।

করোনাকালে সবারই আয় কমেছে। দেশে একের পর এক লকডাউনের প্রভাবে বর্তমানে সীমিত ও নিম্ন-আয়ের মানুষ একপ্রকার দিশাহারা। লকডাউনের প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই খেটে খাওয়া মানুষের আয় কমেছে। কেউ একেবারেই কাজ হারিয়েছে আবার কেউ স্বল্প পরিমান আয় করছে।এ অবস্থায় চরম বিপাকে দিন কাটাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষেররা । এর মধ্যে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো নৃত্য পন্যের বাজারের প্রত্যেক দ্রবের মূল্য বেড়েই চলেছে যা রীতিমতো দরিদ্র মানুষের জন্য হুমকি স্বরুপ।

সম্প্রতি গত শুক্রবার ২ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, সর্বাত্মক লকডাউনের অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দশটি পণ্য বাড়তি দরে বিক্রি হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—চিনি, পেঁয়াজ, আলু, মাছ, সবজি, দারুচিনি, হলুদ, শুকনা মরিচ, আদা ও গুঁড়ো দুধ বাড়তি দরের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে।

অন্যদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্য মূল্য তালিকায় দেখা যায়, এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলুর দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দুদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি আদা ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ, দারুচিনি ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, গুঁড়োদুধের মধ্যে ডানো ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ ও হলুদ ২২ দশমিক ২২ শতাংশ দাম বেড়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ১০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাজধানীর নয়াবাজার, রামপুরা, মিরপুর-১, মিরপুর-৬, খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৭২ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৭০ টাকা। দারুচিনি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকা, দেশি আদা কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা, শুকনা মরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫০-৫৫ টাকা, প্রতি কেজি আলু কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়ে ২২-২৫ টাকা ও আমদানি করা রসুন কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা, দেশি হলুদ ৮০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা ও ডানো কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৬৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজারেও একই অবস্থা বিরাজমান বরং কাচা বাজারের অর্থাৎ সবজির বাজারের থেকে দ্বিগুন দাম বেশি। আকারভেদে রুই মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতল ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, শিং ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।যা অতিরিক্ত বেশি।

দাম বাড়ার কারণে দোকানদারদের অজুহাত পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মালামাল আনতে হয়েছে। সাধারণত কোন দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায় তখনই যখন বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় দ্রব্য মূল্যের যোগান কম থাকে। এবং বাজারে সেই পণ্যের সংকট থাকে। লকডাউনের কারণে দেশের আর সব কিছু বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানগুলো নিয়ম মেনে খোলা থাকার নির্দেশনা রয়েছে।এবং সেই সাথে এসব নিত্য পন্যের যেনো ঘাটতি না থাকে কোথাও সেকারণে কাচামালের গাড়ি ও মুদি খানার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চলাচলের অবাধ সুযোগ দিয়েছে। সেই অনুযায়ী সংকট জনিত কারনে দেশের কোন পণ্যের এই দুই একদিনে হঠাৎ দাম বাড়া সম্ভব না। কারণ এই পন্যের সংকট নেই দেশে। কিন্তু তারপরও বিক্রেতারা লকডাউনের অযুহাত দেখাচ্ছে।

লকডাউনের অযুহাতে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় যেসব কালো হাতের ইশারায় দেশের এই সংকটময় সময়ে দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধি ঘটছে সেই সব কালো হাতকে অতিদ্রুত আইনের আওয়াই আনতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী এই হোতাদের স্বেচ্ছাচারিতা সমাজের নিন্ম আয়ের মানুষের কাছে এক হুমকি স্বরুপ হিসেবে দাড়িয়েছে। কারণ তারা দিন আনে দিন খায়। চলমান লকডাউনের কারণে তাদের আয় কমেছে। অপর দিকে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। বাজারে হঠাৎ হঠাৎ করেই যখন দ্রব্যের দাম বেড়ে যায় স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ গুলো।কারণ দ্রব্যের দাম বাড়লেও বাড়ে না তাদের আয় রোজকার। ফলে আগের সেই নির্দিষ্ট আয় থেকেই তাকে কেনাকাটা করতে হয়।যেকারণে চরম বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষদের। এরুপ পরিস্থিতিতেতে আবার যদি আয়ের পরিমান কমে আর দ্রব্যের দাম বাড়ে তাহলে আরো বিপাকে পড়তে হয়।

আমরা এর আগেও দেখেছি দেশে দ্রব্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্বেও কৃত্তিম সংকটের চিত্র। কখনও পেয়াজের দাম,কখনও আলু,কখনও আবার সবজি কখনও আবার আমন ধানের ভরা মৌসুমেও বেড়েছে চাউলের দাম। কিছু দিন পূর্বের ঘটনা এটা।আমন ধানের ভরা মৌসুনে চাউলের দাম কেজিতে ৭-৮ টা বৃদ্ধি দেখা যায় । ঠিক তেমনি পর্যাপ্ত পরিমান দ্রব্যের যোগান থাকা সত্ত্বেও যেনো গতবারের ন্যায় এবারও দ্রব্যের মূল্যের বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে না পড়তে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি সত্যি সত্যি পন্যের সংকটের কারণে অর্থাৎ পন্যের যোগানের ঘাটতির কারণে দ্রব্যের দাম বাড়ে তাহলে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে অতি সত্তর এবং সেই সাথে বাজার তদারকি করে দেখতে হবে যে পন্যের সংকট আছে কিনা যদি পন্যের সংকট না হয় এবং মনুষ্য সৃষ্ট কৃত্তিম সংকট হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।যেনো অন্যরা এই শাস্তি দেখে পরবর্তীতে এমন অপরাধ করার সুযোগ না পায়। দেশে চলমান এই মহামারীতে কঠোর লকডাউনে বাজারের এই পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষেরা যেনো আরো বিপাকে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ওডি/

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড