• বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পরীমণি, ত্বহা এবং আমরা ত্রিপক্ষীয় নেটিজেন

  গোলাম যাকারিয়া

২১ জুন ২০২১, ১৭:১০
পরীমণি, ত্বহা এবং আমরা ত্রিপক্ষীয় নেটিজেন
দৈনিক অধিকার পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক গোলাম মুহাম্মদ যাকারিয়া (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দিনকয়েক ধরে 'পরীমণি' নামক এক বাংলাদেশি সুন্দরী অভিনেত্রী ভাইরাল। তার দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধর্ষণ চেষ্টাকারী বলে একজন নামকরা ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। শুনেছি আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বরাবরের মতোই আমরা নেটিজেনরা ত্রিপক্ষ।

১. পরীমণির সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। ক্ষমতা ও টাকার জন্য পার পেয়ে যাবে প্রকৃত অপরাধীরা। উল্লেখ্য, প্রধান অভিযুক্তের সঙ্গে আইজির ফেসবুক কাভার ফটো আছে।

২. পরীমণির এত টাকা পায় কোথায়? ভাঙ্গাচুরা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নায়িকা ভ্যাকেশন কাটায় বিলাসবহুল দুবাই। বোট ক্লাবে এমনি এমনি গেছে?

৩. উপরোক্ত দুই পক্ষের ভাবনা যৌক্তিক ভেবে চুপ থেকে ঘটনার গতিবিধি লক্ষ্য করা। এই পক্ষকে আপনি দর্শকাসনও বলতে পারেন।

এতকিছু নিয়ে যখন দেশে এক হৈহৈ কাণ্ড, তখন ইসলামের 'বিস্ময়বালক' ত্বহা উধাও, ধামাচাপা পড়ে গেছে বলে একপক্ষ চেঁচামেচি শুরু করে। এদের কেউ কেউ আবার পরীমণির পক্ষে-বিপক্ষে সাওয়াল করেছেন কদিন। এখানেও বরাবরের মতোই মিডিয়া এবং সরকারের দোষ খোঁজায় ব্যতিব্যস্ত।

যেহেতু তাদের দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ সরকার অন্তরে ইসলামবিরোধী ভাব পোষণ করেই সরকার চালাচ্ছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে ইহা একটি হিন্দু রাষ্ট্র অথবা ভারতের অংশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেহেতু এই সরকারের আমলে কোনো ইসলামিক বেশভূষার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার সাথে সরকারের যোগসূত্র না ভাবতে পারলে আপনি কিছুতেই রাজনীতি সচেতন বলে দাবি করতে পারবেন না।

যাহোক, আমাদের সাংবাদিকদেরও দু-একজনকে ফেসবুক পোস্টে মিডিয়ার প্রতি হতাশা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেই আসল সংবাদ উৎসের তকমা দিয়ে দিচ্ছেন, যেহেতু মিডিয়া কাভার করছে না ঠিক মতো। এখানে আমার একটু বক্তব্য আছে। 'ত্বহা নিখোঁজ' এই সংবাদ আমি শুরু থেকেই বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে দেখছি এবং ফেসবুকে দেখার আগে আমি সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সনগুলোতেই দেখেছি।

তাকে চিনি না বা তার বক্তব্য শুনিনি কখনও তাই আগ্রহও হয়নি। সময় এবং প্রেক্ষাপট বিচারে কেউ নিখোঁজ হওয়া এ সাবকন্টিনেন্টে আহামরি কোনো ঘটনা নয় বলেই এখন জ্ঞান করতে হয়। কিন্তু লাগাতার ফেসবুকে মানুষের ত্বহা-প্রীতি আমাকে আগ্রহী করে তুলল। তার রেকর্ডেড দু-একটা বক্তব্য শুনলাম ইউটিউব মারফত। তিনি কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেননি কিংবা কেউ কেউ তাকে এদেশের আলোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আযহারীর সঙ্গে তুলনা শুরু করছিলেন।

তবে এ দিকে সংবাদমাধ্যমগুলোও কম যায় না। ধর্ষণের হাত থেকে বেঁচে ফিরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়া পরীমণির বাসার ভেতরের মদের সংগ্রহও সামনে নিয়ে আসলেন কতিপয় সাংবাদিক। অতঃপর পরীমণি সমর্থকরা চুপসে গেলেন। পক্ষ নাম্বার '২' এর মুখে অনেকটা রোমসেনাদের পরাজিত করার মতো আনন্দ। ত্বহাও ফজরের নামাজ শেষে শ্বশুরবাড়িতে গেলেন। আনন্দ পাওয়ার আগেই ধাক্কা খেতে হলো ত্বহা সমর্থক গোষ্ঠীর।

এই শ্বশুর বাড়ি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাপের বাড়ি। এত আলোচনার পর ফিরে আসা ভদ্রলোকের ব্যাপার-স্যাপার জানতে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলো। সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানালেন, স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছিলেন।

নেটিজেনরা দ্বিমত পোষণ করা শুরু করল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনগড়া বক্তব্য বলে জেগে উঠল এই দল। ত্বহার নিজের মুখ থেকে শুনতে পারলে তারা শান্তি পেত। তাদের ভাবনা মিথ্যে হয়ে গেল ভাবতেই আতকে উঠছে। কিন্তু পরীমণি 'সাহসী' নারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আমাদের মস্তিষ্কের আহার জুটিয়ে গেলেন। বড় একজন সম্পাদকের পত্রিকায় অবলীলায় প্রকাশিত হলো, তার পিরিয়ড এবং জ্বরের খবর। আবারও পক্ষ-বিপক্ষ-দর্শকে ভাগ হলো নেটবাসীরা।

পক্ষ দল বেশ জোড়াল সুরেই বলছে, পরীমণিকে স্বাগত এমন 'ট্যাবু' থেকে জাতিকে মুক্তির পথ দেখানোর জন্য। এই অসীম সাহসীপনার বীরত্বস্বরুপ কাল যে এ জন্য কোনো সংগঠনের থেকে পুরস্কার পাবে না, তারই বা নিশ্চয়তা কি? এদের পোস্ট পড়ে ট্যাবুর সংজ্ঞাই ভুলে যাচ্ছি।

তাদের বক্তব্য, এটা অতিশয় প্রাকৃতিক নিয়ম এবং এটা সম্পর্কে যথোপযুক্ত জ্ঞান দেওয়ার জন্য এটা প্রচার করতে হবে। যদি তাই হয়, তবে পর্ণ সাইট বন্ধ করার কোনো যুক্তি নেই। মানুষকে অবাধে পর্ণো ভিডিয়ো দেখিয়ে সেক্স সম্পর্কিত জ্ঞান দেওয়া জরুরি। যেহেতু এটি অতিশয় প্রাকৃতিক।

পরীমণির পিরিয়ড হইছে এটা নিউজ হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ওই সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাই ভালো বলতে পারবেন। আর যদি একটা জাতীয় গণমাধ্যম সে নিউজ করে ভাইরাল হতে চায়, নিঃসন্দেহে সেটা দুঃখজনক।

যাহোক, নেট দুনিয়ায় এ রকম প্রতিদিন কত যে ঘটনা আসে সে হিসাব রাখা দুষ্কর। চলতি আলোচনার মাঝপথেই নতুন টপিক জায়গা করে নিচ্ছে আর পুরনোরা আলোচনার ভাঁজে হারিয়ে যাচ্ছে। হয়তো আমার লেখা শেষ করতেই ইন্টারনেটের উন্মুক্ত দুয়ারে আবার ভাসবে নতুন টপিক, আবারও সবকিছু ছেড়ে আমরাও ঝাঁপিয়ে পড়ব নিজেদের পাণ্ডিত্য দেখাতে।

লেখক : গোলাম যাকারিয়া, সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক অধিকার।

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড