• শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিদেশে বাংলাদেশ বলতে আমার কর্ম ও পণ্যকে বোঝায়

  রহমান মৃধা

০৭ জুন ২০২১, ১৬:১৪
বিদেশে বাংলাদেশ বলতে আমার কর্ম ও পণ্যকে বোঝায়
ফাইজারের প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের সাবেক পরিচালক রহমান মৃধা (ছবি : সংগৃহীত)

আমার নানা সুইডেনের সবচেয়ে বৃদ্ধ বিদেশি যাকে সুইডিশ সরকার ভিসা দিয়েছিল বেড়াতে আসতে বাংলাদেশ থেকে। আমার ছোট মামা সুইডেন প্রবাসী থাকেন স্টকহোমে, নানা তার বাড়িতে উঠেছেন তখন। আমি নিজেও সে সময় স্টকহোমে, আমাদের ছেলে জনাথান মৃধার সবে জন্ম হয়েছে (১৯৯৫)।

আমার স্ত্রী মারিয়া সহ গেলাম নানার সঙ্গে দেখা করতে। মারিয়া নানাকে দেখেই বলল “তোমার আব্রাহাম লিংকনের চেহারার সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। তার মতো তুমিও কি সমাজসেবী? তা নারীদের জীবন পরিবর্তনে তোমার চিন্তাভাবনা কী? শিক্ষার মাধ্যমে কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটানো যায় এবং তারা কীভাবে দেশ ও সমাজের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে? তুমি কীভাবে নারীদের দেখো এবং চাওকি তারাও সমাজ গঠনে মাঠে নামুক?

নানার ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজির মাঝে আমি অনুবাদক হিসেবে কাজ করছি। জনাথান নানার কোলে শুয়ে দিব্বি ঘুমোচ্ছে। সব কথার উত্তর যথাযথভাবে শেষ হলো, তবে নারীদেরকে কীভাবে দেখেন নানা সেই উত্তরটা ছিল মারিয়ার কাছে পছন্দনীয় যা সে আজও ভুলেনি।

নানা বলেছিলেন সেদিন, নারী জাতি ফুলের মতো। তাদেরকে যত্ন করে না রাখলে তারা ঝরে যাবে। তাই আমি মনে করি তাদের সম্মান উঁচুতে রাখা দরকার। হ্যাঁ আমার নানা চেষ্টা করেছেন সেইভাবে স্বাধীনতার বিপ্লব ঘটাতে।

আমার নানা জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯২ সালে এবং মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯৯ সালে। দীর্ঘ ১০৭ বছরের জীবনে রেখে গেছেন একশো বিঘার বেশি কৃষি জমি এবং চিত্রা নদীর তীরে ত্রিশ বিঘার বেশি জমির উপর রয়েছে বিশাল বাড়ি যা আজও জমিদারি ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সেই জমিদারি দেখতে হলে যেতে হবে নড়াইল জেলার মধ্যপল্লি ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে।

আরও পড়ুন : পরিবর্তনের যুগে অভিভাবকদের করণীয়

ব্রিটিশ তাড়িয়ে পাকিস্তান, পাকিস্তান তাড়িয়ে বাংলাদেশ গঠনে দেশ ও জাতির জন্য সারাজীবন কাজ করেছেন। রাজনীতিতে কে বা কাকে মনোনীত করতে হবে এবং কখন, সে দায়িত্বটাই ছিল তার জন্য যেমন গুরুদায়িত্ব, একই সাথে মানুষের জন্য কাজ করা থেকে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করা ছিল তার জীবনের উদ্দেশ্য। সুইডেনে মাস খানেক থাকা অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়, সুইডেনে বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার খরচ নিজেদের বহন করতে হয়।

নানার সামান্য শারীরিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে সুইডেনের পুরো সময়ের সমস্ত খরচ সুইডিশ সরকার বহন করে। মাস খানেক পরে সুইডেনের পক্ষ থেকে নানাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব সনদটি প্রদান করা হয়, মূলত একটি কারণে সেটা হচ্ছে সুইডেনে প্রথম কোনো একশো বছর বয়সী এসেছে টুরিস্ট হিসেবে এবং তাও বাংলাদেশ থেকে।

সুইডিশ কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন, একশো বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে তুমি এসেছো বেড়াতে আমাদের দেশে এবং তোমার শখ আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন দেখা এবং গণতন্ত্রের যে বেস্ট প্রাকটিস সুইডেনে আছে সেটা দেখা। বিষয়টি আমাদের কাছে ভালো লেগেছে। যাই হোক নানাকে সুইডিশ সংসদ ভবন ঘুরে দেখানো এবং সুইডিশ সিস্টেম সম্পর্কে অবগত করানো ছিল আমাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ।

যখনই কোথাও কখনো কোনো সুইডিশের সঙ্গে নানাকে পরিচয় করেছি সবাই যে কথাটি বলত সেটা হলো, আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে নানার চেহারার মিল।

দুঃখের বিষয় আব্রাহাম লিংকনের জন্ম হয় ১৮০৯ সালে এবং মৃত্যু হয় ১৮৬৫ সালে। নানার জন্মের বেশ আগেই তাকে মেরে ফেলা হয়, নইলে লিংকনও হয়তো নানার মতো শত বছর বেঁচে বিশ্বে মানবজাতির জন্য আরো কল্যাণ বয়ে আনতেন। আব্রাহাম লিংকন বেঁচে নেই, রয়েছে বেঁচে তার নীতি ও আদর্শ। আমার নানা বেঁচে নেই কিন্তু বেঁচে রয়েছে তার কর্মের ফল সেটা হলো পরাধীন জাতিকে স্বাধীন করা।

আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে স্বাধীন হয়নি আমাদের বিবেক, আমাদের নৈতিকতা, আমাদের চরিত্রের। হঠাৎ এত বছর পর কেন এসব কথা? যে নানা এসেছিলেন সুইডেনের গণতন্ত্র দেখতে, মানুষের চরিত্র বুঝতে, যাকে সুইডিস সরকার সম্মানসূচক নাগরিকত্বের সনদ দিয়েছিল সেই দেশের মানুষকে কীভাবে বাংলাদেশ তার নিজ দেশের জাতীয় ফল ভেজালযুক্ত, কাঁচা এবং পচা কাঁঠাল, আম, সবজি এবং পচা মাছ পাঠাতে পারে? ভাবতেই গা শিউরে উঠে আমার। কবে হবে বাঙালির চরিত্রের পরিবর্তন?

এত সুন্দর ফলমূল থাকা সত্ত্বেও নৈতিকতার অবনতির কারণে তাকে বিশ্ববাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না এর চেয়ে কি লজ্জা এবং ঘৃণা থাকতে পারে? সরকার এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি পরিবর্তনের জন্য। বাংলাদেশের পরিচয় হোক তার সুকর্মে এমনটি অধিকার দাবি করতে পারি একজন সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে। আমি আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেতে নিজ জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেই দেশের নাগরিক হয়ে অনুরোধ করছি প্লিজ নৈতিকতার বিসর্জন না দিয়ে বরং দুর্নীতি এবং ভেজালমুক্ত পণ্য দ্রব্য বিদেশে পাঠান।

আরও পড়ুন : দেখা হয়েছিল পূর্ণিমা রাতে

মনে রাখা দরকার বিদেশে আমাদের কর্ম, আমাদের পণ্য, আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব, সব কিছুরই একটি পরিচয় ???????? বাংলাদেশ।

লেখক : রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে।

[email protected]

ওডি/কেএইচআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড