• রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কেন কোড-৬-এ বেতন স্কেল পাচ্ছেন না মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপকরা 

  আবু আফিফ

৩০ এপ্রিল ২০২১, ২০:০০
মাদ্রাসা
মাদ্রাসা (ছবি : সংগৃহীত)

প্রায় ৫ মাসে আগে ২৩/১১/২০২০ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছে বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) এর নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা যা ১৯শে জুলাই ২০১৮ইং এর সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালা।

নীতিমালার ১০ পৃষ্ঠায় ১১.৪ এর বিধি এমপিও ভূক্ত প্রভাষকগণ এমপিও ভুক্তির ৮ বছর পূর্তিতে ৫০% হিসাবে অনুচ্ছেদ ১৩ মোতাবেক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। যা আগের নীতিমালায় ছিল ৫:২ অনুপাতে।

যেখানে ৭ জন এমপিও ভূক্ত প্রভাষক আছেন সেখানে ২ জন সহকারী অধ্যপক হতেন। বর্তমান ৫০% অনুসারে সেখানে ১.৫ জন প্রভাষক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বেতন কোড-৬ এর সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। এই ১.৫জন সিনিয়র প্রভাষক বর্তমানে বাড়ী ভাড়া, মেডিকেল ভাতা বাদে ৭ কোডে ২৯,০০০ টাকা স্কেলে ইনক্রিমেন্টসহ ৩৩.৫৮০ টাকা বেতন তুলছেন।

৬ গ্রেডে সহকারী অধ্যাপকে ৩৫,৫০০ টাকা বেতন স্কেল। টাকার পার্থক্য ১,৯২০ টাকা মাত্র। নতুন যারা সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন তাদের জন্য প্রতি মাসে ১,৯২০ টাকা বেশি দিতে হবে সরকারের। যা দেওয়ার জন্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথা সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রায় ৫ মাস আগে।

কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রম চললেও আমাদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রেরিত ফাইল ঠুনকো অজুহাতে বার বার রিজেক্ট করে দেওয়া হচ্ছে। যা সিনিয়র প্রভাষকদের উপর মাদ্রাসা অধিদপ্তরের এক প্রকার জুলুম। মাদ্রাসা অধিদপ্তর এক প্রকার স্বেচ্ছাচারিতা অবলম্বন করছে। যা খুবই দুঃখ ও হতাশা জনক। পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকদের মনে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের প্রতি যেমন ঘৃণা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি অধিদপ্তরেরও প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে, সরকারেরও ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

টাকার যেমন প্রয়োজন তেমনি গ্রেড-৬ বেশি প্রয়োজন। কারন গ্রেড ৬ সহকারী অধ্যাপক পদের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে হয়। ৫০% অনুসারে কিছু মাদ্রাসার প্রভাষকগন সহকারী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে কোড ও বেতন পাচ্ছেন।

আমাদের হাতে সে সব প্রতিষ্ঠানে এমপিও কপি রয়েছে প্রমান হিসাবে। প্রতিষ্ঠানের এমপিও কোড যথাক্রমে ৩২০২১১২২০১ ও ৩২০২১২২২০১ ফরিদপুর ভাঙ্গা। তারা কি অবৈধ ভাবে পাচ্ছেন। অবৈধ হয়ে থাকলে শাস্তি মূলক কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর বৈধ হয়ে থাকলে কেন দেশের অন্যান্য প্রভাষকদের কেন পদোন্নতির ফাইল ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কেন সেই একই নীতিমালা অনুযায়ী কোড ৬ এ সহকারী অধ্যাপক পদে বেতন স্কেল দেওয়া হচ্ছে না? কেন এই বৈষম্য মূলক আচরণ করা হচ্ছে? সহকারী অধ্যাপক পদটি পদোন্নতি জনিত পদ, কোড ও বেতন স্কেল। কোন নব্যসৃষ্টি করা পদ নয়, যে এর জন্য আলাদা বাজেট লাগবে।

কোন বছরে কতজন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদ পাবেন এটিও আগে থেকে যেমন জানার সুয়োগ নেই তেমনি এর জন্য নতুন বাজেট ও অডারের প্রয়োজন নেই। সিনিয়র আরবী প্রভাষকদের অধ্যক্ষ/উপাধক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আবার সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ফাইল ও রিজেক্ট করা হচ্ছে বার বার যা সিনিয়র প্রভাষকদের উপর জুলুমের উপর জুলুম। নীতিমালা কার্যকারিতার ব্যাপারে ১৫ পৃষ্ঠার ২৭ এর বর্ণিত নির্দেশিকার কোথায় উল্লেখ্য নেই যে, ইহা পরবর্তী অর্থ বছর থেকে কার্যকর হবে এবং ইহাও উল্লেখ্য নাই যে, পরবর্তী নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যক্রম গ্রহণের আদেশ দেওয়া হবে। বরং ১৬ পৃষ্ঠার ২৭ এর “চ”তে উল্লেখ্য আছে।

এ নীতিমালা অবলম্বে কার্যকর হবে। স্কুল, কলেজের নীতিমালা জারির পর থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়। অথচ মাদ্রাসার নীতিমালার জারির ২ বছর অধিক সময় পরেও নীতিমালার অনেক বিষয় কার্যকর হতে দেখা গেছে। যা মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রতি অবহেলার শামিল।

৫০% অনুসারে সিনিয়র প্রভাকদের সহকারী অধ্যাপক পদে কোড ও এমপিও না দেওয়া কারনে সারা দেশের সিনিয়র প্রভাষকদের চাকুরী জীবনে নিন্মে বর্ণিত ক্ষতি হচ্ছেঃ-

১। সহকারী অধ্যাপক পদের অভিজ্ঞতা অর্জনকে পিছিয়ে দিয়ে চাকুরী জীবনের অভিজ্ঞতাকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

২। অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের জন্য সহকারী অধ্যাপকের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।

৩। অনেক সম্মানিত সিনিয়র প্রভাষক তাদের দীর্ঘ চাকুরী জীবনে বহু প্রতীক্ষিত সহকারী অধ্যাপক পদের সম্মান ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েই অবসরে যেতে হচ্ছে!

অতএব, মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের নিকট সবিনয় আরজ, চলতি এপ্রিল থেকেই আমাদের সিনিয়র প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে কোড ৬ এ বেতন স্কেল প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মর্জি হয়।

লেখক : আবু আফিফ প্রভাষক, শাহ জুই কামিল মাদ্রাসা, পাংশা,রাজবাড়ী।

নোট: অধিকারে প্রকাশিত কলাম/মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। অধিকার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য অধিকার কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড