• শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অটিজমদের দরকার শুধু একটু প্রশংসা

  সাবিনা আক্তার মুন্নি

০২ এপ্রিল ২০২১, ১৬:০৬
মতামত
ছবি : সম্পাদিত

অটিজম শব্দটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। এই পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের যথাযথ গুরুত্ব দেই না। একজন সাধারণ শিশুর মতো অটিজমও একজন শিশু। শুধুমাত্র অটিজম তার ব্যক্তিত্বের অংশমাত্র, তার পুরো সত্ত্বাটাই অটিস্টিক নয়।

একটি সাধারণ শিশুর যেমন চিন্তা-ভাবনা, কল্পনা, পছন্দ-অপছন্দ, স্বপ্ন, ভয়-ভীতি রয়েছে তাদেরও থাকতে পারে। সাধারণ শিশুরা নিজেদের আবেগ ও অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অটিস্টিকরা অতোটা পেরে ওঠে না। তাই বলে তাদের অবজ্ঞা করবেন না। এভাবে একসময় তাদের প্রত্যাশা এতোটাই কমে যাবে যে, তারা আর কিছু করার আত্মবিশ্বাস পাবে না।

অটিজম সাধারণত বংশগত বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মনোবিকাশজনিত সমস্যা। আমাদের সমাজে অনেক ব্যক্তি বা পরিবার আছে যাদের অটিজমে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। এই শিশুরা আমাদের সমাজেরই একজন। কিন্তু অনেকেই অটিস্টিক শিশু দেখলে তাদের ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করে থাকেন, তাদের মা-বাবাকে কু-সংস্কারের বলি করা হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটা বেশি হয়ে থাকে।

অটিজম এমন একটি বিকাশজনিত সমস্যা, যা হলে আক্রান্ত ব্যক্তির মানুষ বা বিষয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকে না। এছাড়া সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, আবেগীয় বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয় না। এর মানে এই নয় যে, অটিস্টিক শিশু বোকা বা অমেধাবী। অটিস্টিক শিশু মাঝে মাঝে এমন কাজ করে, যেন একজন সাধারণ শিশুও করতে পারে না। তারা ছবি আঁকায়, গানে, গণিতে কিংবা কম্পিউটারে খুবই নিপুণ হয়ে থাকে। বিখ্যাত সংগীত শিল্পী লেডি হাক এবং ডারিল হান্না, কার্টুন ছবির আবিষ্কারক সাতসি তাহেরসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিও অটিজমে আক্রান্ত ছিলেন।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কোনো শিশু অটিজম নির্ণয় হলে অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে। পাশাপাশি পরিবারের সবার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিশুটির সাথে কথা বলার মাঝে, পড়ানোর সময়, সামাজিক বন্ধনে, খেলাধুলার মাঝে বিভিন্ন বিষয় শেখাতে হবে, হাসি-খুশিতে রাখতে হবে সবসময়। তারা অনেক কিছুই পারে আবার অনেক কিছুই পারে না। যা পারে তার জন্য উৎসাহ যোগাতে হবে। আর যা না পারে তার জন্য ধমক-ধামক দেওয়া যাবে না।

বেশি চাপের মধ্যে পড়লে মাঝে মাঝে তারা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদি তাদের ভালোভাবে বুঝতে পারি তাহলে এটা এড়ানো সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তাদের শর্তহীনভাবে ভালোবাসা। তারা এটা কেন পারে না, ওটা কেন অন্যদের মতো হয় না- এসব বলে আমরা তাদের আরও গহীন জটিলতায় ঠেলে দেই। আমাদের বুঝতে হবে তারা আমাদের সমস্ত স্বপ্ন আর প্রত্যাশা মেটানোর ক্ষমতা রাখে না।

আরও পড়ুন : ভালো মানুষ

অটিজমকে অক্ষমতা না ভেবে বিশেষ রকম সক্ষমতা ভাবতে হবে। তারা গুছিয়ে কথা বলতে পারে না কিন্তু কখনো মিথ্যা কথা বলে না। তারা হয়তো অন্যদের সাথে খেলতে পারে না, কিন্তু খেলার ছলে কখনো চুরি করে না। অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয় না। এগুলো তাদের জন্য অনেক ভালো গুণ।

তাদের বিশ্বাস করুন, একটু প্রশংসা করুন এবং শর্তহীনভাবে ভালোবাসুন। তারাও একদিন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ওডি/আইএইচএন

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড