• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘ধর্মানুভূতি এমুনই হয়’

  জগলুল হায়দার

২২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৫২
বাইডেন
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ৫৯তম প্রেসিডেন্সিয়াল অভিষেকে শপথ নিলেন জো বাইডেন। সবাই জানেন আমেরিকা একটা সেকুলার রাষ্ট্রসংঘ। আমি অনেক বয়ানে আগেও বিশ্লেষণ কইরা বলছি যে পশ্চিমা সেকুলার রাষ্ট্রে খৃস্টীয় ফেইথ (আকিদা), খাস কইরা খৃস্টীয় ভ্যালুজ হইল সর্বোচ্য আবেগ ও অগ্রাধিকারের নাম। সেই আবেগ ও অগ্রাধিকার আমেরিকার ক্ষেত্রেও হুবহু একই। সেইটা যারা বুঝার (বোঝার) তারা নানাভাবেই বুঝেন। অবশ্য কতিপয় বাঙালি সেকুলার (যাদের কুপমন্ডুকতায় অনেকেই এখন তাদের ‘সেকুলাঙ্গার’ বইলাও ডাকেন) এইটা বুঝতে চায় না।

যাক তাদের কথা থাক, আমরা বরং বাইডেন ও আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল অভিষেকের কথায় ফিরি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান বেশ বিস্তৃত ও জাঁকজমকপূর্ণ। ক্যপিট্যাল হিলের কংগ্রেস ভবনের (কিছুদিন আগে যার প্রাণ বইলা পরিচিত ক্যাপিটাল হল তথা অধিবেশন হলে উচ্ছৃঙ্খল জনতার আক্রমণের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে) সামনে সর্বস্তরের লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সমগ্র অনুষ্ঠানটা সম্পন্ন হয়। আমেরিকাকে হতচকিত কইরা দেয়া সেই ঘটনা ও চলমান পেন্ডামিক পরিস্থিতিতে এই ৫৯তম প্রেসিডেন্সিয়াল অভিষেক অনুষ্ঠান কঠোর নিরাপত্তার লগে সীমিত আকারে সম্পন্ন হয়।

অভিষেক অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে থাকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের শপথ, প্রেসিডেন্টের অভিষেক ভাষণ, প্রার্থনা, কংগ্রেশনাল লাঞ্চ, অভিষেক প্যারেড, এমুনকি সাম্প্রতিককালে খ্যাতিমান একজন কবির স্বকণ্ঠ কবিতা আবৃতি, এইবার খ্যাতিমান শিল্পী জেনিফার লোপেজের কণ্ঠে গানও ছিল। এসব কিছুর মধ্যে অভিষেক অনুষ্ঠানের বার্ড আই বা পাখির চোখ হইল প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠান। আর এই শপথের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হইল পবিত্র বাইবেল। মূলত এই বাইবেল ছাড়া শপথ অনুষ্ঠান ভাবাই যায় না। ঐতিহ্যগতভাবে প্রধান বিচারপতি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেও কখনো কখনো তার অনুপস্থিতিতে অন্য বিচারপতির দ্বারা শপথ পরিচালিত হইলেও বলা যায় বাইবেল ছাড়া শপথ হয় না। আসলে ১৭৮৯ সালের প্রথম অভিষেক থিকাই আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল শপথ ও বাইবেল যেন দুজন দুজনার।

এইখানেই শেষ নয়। শপথ অনুষ্ঠানের এই বাইবেল নিয়া আছে আবার নানা আবেগ। সেই আবেগে সাম্প্রতিক অতীতেও বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট তাদের শপথে ঐতিহাসিক বাইবেল ব্যবহার করছেন। যেমন জিমি কার্টার কিম্বা সিনিয়র জর্জ বুশ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের অভিষেক (১৭৮৯) বাইবেল ব্যবহার করছেন। আবার বারাক ওবামা তার দুই টার্মে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিষেকে আব্রাহাম লিংকনের (১৮৬১) বাইবেল ব্যবহার করছেন। কিন্তু বাইবেল নিয়া এই ভক্তি আর ভালোবাসায় বাইডেন সম্ভবত সবাইকে ছাড়ায়া গেলেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার শপথ অনুষ্ঠানে জর্জ ওয়াশিংটন কিম্বা আব্রাহাম লিংকনের ঐতিহাসিক বাইবেলের মতো কুনো বাইবেল ব্যবহার করেন নাই। এর বদলে তিনি তার পারিবারিক বাইবেল ব্যবহার করছেন। তয় এই বাইবেলের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক মূল্য কম তো নয়ই বরং পারিবারিক ঐতিহ্যে এই পুরাতন বাইবেল পাইছে অন্যরকম মাত্রা। প্রেসিডেন্টের পারিবারিক সংগ্রহে থাকা বস্তুগতভাবে জীর্ণ এই বাইবেল তিন-তিনটা শতাব্দির সাক্ষ্যবাহি। এই বাইবেল ১৮৯৩ সাল থিকা তাদের পারিবারিক সংগ্রহে আছে। অর্থাৎ উনবিংশ, বিংশ ও একুশ শতকের সাক্ষি এই বাইবেল। যার সঙ্গে বংশ পরম্পরায় তাদের বিশ্বাস, ভক্তি, ভালোবাসা ও আবেগের বন্ধন। এইটা সেই বাইবেল যা তিনি ১৯৭৩ সালে সিনেটর হিসাবে শপথ নেয়ার সময় প্রথম ব্যবহার করছিলেন। ২০০৭ সালে তার প্রয়াত পুত্রও দেলওয়ার এর এটর্নি জেনারেল হিসাবে শপথ নেয়ার সময় ব্যবহার করছিলেন। আবার তিনি নিজে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেয়ার সময় এই বাইবেলই ব্যবহার করছিলেন।

একটা কিতাবের প্রতি কতোটা ভক্তি আর ভালোবাসা থাকলে মানুষ শতাব্দির পর শতাব্দি তা এইভাবে আগলায়া রাখতে পারে। আর পারে এইভাবেই পাবলিকলি তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। আসলে বিশ্বাস বা ধর্ম বইলা কথা। তাই তো সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বহুবার ‘বাইবেল বিরোধী’ অভিধায় অভিযুক্ত হওয়ার পরও তুলনামূলক অধিক সেকুলার জো বাইডেন তার বিশ্বাস ও ভক্তির জাগা থিকা এতোটুক সরেন নাই। সরেন নাই নিজের ধর্মবোধ থিকাও। আসলে সব দেশে সব সমাজে ধর্মানুভূতি তো এমুনই হয় কিম্বা এমুনই হওয়ার কথা।

[বয়ান চলতি কথনরীতিতে লেখা]

লেখক : ছড়াকার ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড