• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দেশের বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে লাগাতে হবে

  রহমান মৃধা

০১ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৮
অধিকার
ছবিতে সবার মাঝে বসা বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত সুইডেনের বিখ্যাত কেটিএইচ রয়াল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজির বায়ো মেডিক্যাল বিভাগের প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান জাতিকে ধ্বংস করতে সবাই উঠে পড়ে লেগেছিল। কারণ ছিল একটিই, সবাই হিটলারকে ঘৃণা করতো। বলা যেতে পারে শুধু একজন মানুষের আচরণে পুরো একটি দেশের মানুষকে ঘৃণা করা যা আজ ভাবতেও অবাক লাগে। আবার কথিত আছে ঠিক সেই সময় একটি বিরল ঘটনা ঘটেছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির একটি গ্রাম ছাড়া সব জায়গাতেই বোম্বিং করা হয়েছিল। কী কারণে সেই গ্রামে বোম্বিং করা হয়নি? আমেরিকার তৎকালীন যে জেনারেল যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন, তার শ্বশুরবাড়ি ছিল সেই গ্রামে। যুদ্ধের সময়ও আত্মীয়তাসূত্রে রেহাই পেয়েছিল গ্রামটি। রিলেশনশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সর্বকালে এবং সবার জন্য। এর থেকে এটাই শিক্ষণীয় তাহলো বিল্ডিং ট্রাস্ট বিল্ডিং গ্রোথ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর জার্মান জাতি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে জিরো থেকে আজ হিরো হয়েছে। কী রহস্য রয়েছে এর পেছনে তা কি আমরা জানি? জার্মানি এমন একটি দেশ যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে কোন টিউশন ফি লাগে না। এ সত্ত্বেও বেশির ভাগ জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে চাহিদাভিত্তিক (demand based) বা ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রোডাকশন বা ইন্ডাস্ট্রির মতো জায়গায় কাজ শুরু করে। এতে করে জার্মানির ইন্ডাস্ট্রিগুলো যেমন গ্লোবাল মার্কেটের শীর্ষে ঠিক তেমনি জার্মান জাতি নিঃসন্দেহে ওয়ার্ল্ড ক্লাস কোয়ালিটি লাইফ লিড করছে।

আমার বর্ণনায় এটাই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তা হলো- কী শিক্ষা, কেন শিক্ষা এবং কোন উদ্দেশ্যে শিক্ষা তা যদি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা না হয়। তবে সে শিক্ষার কোন মানে নেই। মানে নেই বিধায় প্রশিক্ষণের রদবদল করে সত্ত্বর চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ (demand based) চালু করতে হবে।

বোঝার সুবিধার্থে একটি জ্বলন্ত উদাহরণ তুলে ধরি। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। এর ফলে মূল্যবান এসব যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরে শেষে অকেজো হয়ে পড়ে থাকার পর ওয়েস্টে চলে যাচ্ছে। হয়তো বা যন্ত্রপাতি কেনার সময় একটি নির্দিষ্ট গ্যারান্টি কাগজে কলমে পাওয়া যায় কিন্তু দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার হয় না। সেক্ষেত্রে সার্ভিসের গ্যারান্টি বিনা ব্যবহারেই শেষ হয়ে যায়। যার কারণে অর্থের অপচয় ছাড়া তেমন আশানুপাত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দেশের পড়া শেষ করেই নূতন সুযোগ সুবিধার জন্য বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা হচ্ছে, সে পরিমাণ ফিডব্যাক দেশের মানুষ কী পাচ্ছে? এমতাবস্থায় কী করণীয় রয়েছে বর্তমান সমস্যার সমাধান পেতে?

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে দরকার দক্ষ চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ান, যারা হাসপাতালের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণসহ সঠিকভাবে তার ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। এখন প্রশ্ন কীভাবে পেতে পারি আমরা দক্ষ টেকনিশিয়ান? শিক্ষা প্রশিক্ষণে জার্মান শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে। যেখানে ভোকেশনাল শিক্ষা প্রশিক্ষণের সাথে সাথে অন দি জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। যাতে করে দ্রুতগতিতে দেশের হাসপাতালগুলো দক্ষ টেকনিশিয়ান পেতে পারে।

একই সাথে দেশে প্রশিক্ষণরত বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মনিটরিং এবং তার ব্যবহার কীভাবে মানসম্মত এবং নিরাপদ করা সম্ভব সে বিষয়ে জানা এবং শেখার আগ্রহ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে দক্ষ এক্সপার্টদের সঙ্গে বর্তমান পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সমন্বয় ঘটাতে হবে। এটা সম্ভব যেকোনো যন্ত্রপাতি কেনার সময় সেই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে তারা যেন ভোকেশনাল প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্য একটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে।

যেমন একটি ভেন্টিলেটর কেনা হলো জাপান থেকে। এক্ষেত্রে ভেন্টিলেটরটির ইন্সটলেশন থেকে শুরু করে ভ্যালিডেশন, কোয়ালিফিকেশন, ক্লিনিং প্রসিডিউর, সেফটি রিজনসহ সব ধরনের ডকুমেন্ট যাকে বলা হয় জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিস)-এর সমন্বয় ঘটাতে হবে। এর ফলে হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স এবং যন্ত্রের সঙ্গে দক্ষ টেকনিশিয়ানও আমরা পেতে পারি।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের আওতায় আনা এবং এর জন্য যা করণীয় তার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের সাথে সাথে দক্ষ এবং যোগ্য বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের হাসপাতালের ইকুইপমেন্টের মনিটরিং এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা। দি সুনার ইজ দি বেটার।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড