• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে পক্ষে-বিপক্ষে কারা?

  দায়িদ হাসান মিলন

০১ অক্টোবর ২০২০, ১১:০৫
আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে পক্ষে-বিপক্ষে কারা?
সীমান্তে যুদ্ধরত সেনা সদস্যরা (ছবি: প্রতীকী)

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) দাপট। এর মধ্যেই সংঘাতে জড়িয়েছে মধ্য এশিয়ার দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। দুটি দেশের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। আর মাঝেমধ্যেই তা সংঘাতে রূপ নেয়।

সর্বশেষ গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা এখনো চলছে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এই সংঘর্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দুই পক্ষ মিলিয়ে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। তাছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।

এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশ দুটির মধ্যে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে আজারবাইজানের ১৬ জন নিহত ও ৪ জন গুরুতর আহত হয়। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার ৫ জন নিহত ও ৩৬ জন গুরুতর আহত হয়। তারও আগে ২০১৬ সালের দেশ দুটির মধ্যে চার দিনব্যাপী একটি যুদ্ধ হয়, যা ‘ফোর ডে ওয়ার’ নামে পরিচিত।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয় মূলত ১৯৮০ এর দশকে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে (১৯৯১ সালে) এটি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও তার আগেই অন্তত ২০ হাজার মানুষ এই সংঘাতে প্রাণ হারায়। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আসলে আজারবাইজানের ভেতর অবস্থিত। যদিও আর্মেনিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

করোনার মধ্যে কেন সংঘাত শুরু হলো?

নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশ দুটিকে নিয়ে আলোচনা শুরু করে ‘দ্য অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই)’। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপর করোনা মহামারির কারণে আর্মেনিয়ার অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে বর্তমান নিকোল পাশিনইয়ান সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন : ধর্মই কি মূল কারণ আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধের নেপথ্যে?

অনেকে বলছেন, এই ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপ থেকে মুক্তি পেতে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাচ্ছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনইয়ান। এ কারণেই তিনি নাগোরনো কারাবাখকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার বাণিজ্য ছিল বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্তু তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটিও হুমকিতে পড়ে। যে কারণে আর্মেনিয়ার অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সংঘাতে শক্তিশালী দেশগুলোর অবস্থান কী?

আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে বিশ্ব কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, দেশটি ইতোমধ্যে ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া, দক্ষিণ-চীন সাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে তাদের।

আরও পড়ুন : আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে থামছেই না রক্তের হোলি

এই সংঘাতে রাশিয়ার অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজারবাইজানের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎস রাশিয়া। অন্যদিকে আর্মেনিয়ারও পৃষ্ঠপোষক মস্কো। কথিত আছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘নির্মাণ সামগ্রীর’ কথা বলে আর্মেনিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র পাঠিয়েছিল রাশিয়া।

অবশ্য এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এ কারণে দেশটির অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। পশ্চিমা অনেক বিশ্লেষকের মতে, শেষ পর্যন্ত আর্মেনিয়ার পক্ষই নেবে মস্কো। এর কারণ, চলতি বছরের আগস্টে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে তারা।

নাগোরনো-কারাবাখ ইস্যুতে প্রকাশ্যে আজারবাইজানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক। আজারবাইজানকে নিয়ে তুরস্কও মহড়া চালিয়েছিল আগস্টে। কোনও কোনও প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তুরস্ক এরই মধ্যে আজারবাইজানে সেনা পাঠিয়েছে। আঙ্কারা আজারবাইজানের পক্ষে থাকার অর্থ হলো- পুরো ন্যাটোকেই হয়তো আজারবাইজানের পক্ষে থাকতে হতে পারে, যেহেতু তুরস্ক ন্যাটোভুক্ত দেশ।

আরও পড়ুন : তুর্কি গোলায় আর্মেনিয়ার যুদ্ধবিমান ধ্বংসের রোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ

ইসরায়েল থেকেও আজারবাইজান অস্ত্র ক্রয় করে থাকে। ফলে এখানে জড়াতে পারে ইসরায়েলও। অন্যদিকে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে ইরান সমর্থিত অনেক শিয়া বিচ্ছিন্নতাবাদী রয়েছে। ফলে আর্মেনিয়ার স্বার্থ সামনে নিয়েই এগোতে পারে ইরান। যদিও এখন পর্যন্ত কোনোকিছুই নিশ্চিত নয়।

বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে যে সমস্যা চলছে তার সমাধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর হাতে খুব একটা নেই। এর সমাধান করতে হবে আঞ্চলিকভাবেই। সেখানকার দেশগুলো মিলেই এর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারে রাশিয়া, তুরস্ক এবং ইরান।

সূত্র : আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, ওয়েলপ্রাইস ডট কম

লেখক : দায়িদ হাসান মিলন লেখক, সাংবাদিক

মূল লেখাটি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড