• রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একজন মেজর হত্যা ও আমাদের সমাজব্যবস্থা

  আবু হানিফ

০৪ আগস্ট ২০২০, ২০:১৬
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (ছবি : সংগৃহীত)

বর্তমান সময়ে আলোচিত ঘটনা কক্সবাজার টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডে শামলাপুরস্থ পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যু।

একটু পেছনে ফিরে যেতে চাই...

সময়টা ২০১১ সালের ২৩ মার্চ। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সাতুরিয়ায় নিজের বাড়ির পাশে গুলিবিদ্ধ হন লিমন। বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে র‍্যাবের সদস্যরা তাকে ধরে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। জীবন বাঁচাতে সেখানে তার বাম পা ঊরুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। ঘটনার পর র‍্যাব লিমনসহ আটজনের নামে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা করে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসময় দু’টি মামলাই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। মাদক বিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালের ২৬শে মে একরামুল হক নিহত হন। তাকে বাসা থেকে র‍্যাব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু'জন কর্মকর্তা ডেকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে।

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান নিহত হয়েছেন। ৩১ শে জুলাই শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাহারছড়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশি চেকপোস্টে এই ঘটনা ঘটে। অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর টিশার্ট–ট্রাউজার পরিহিত ছিলেন। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ঝালকাঠির লিমন পা হারালেও বেঁচে যান। কিন্তু বাঁচতে পারেনি একরামুল কিংবা মেজর সিনহা। এগুলো তো উল্লেখ যোগ্য ঘটনা। এছাড়াও ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা তো চলছেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে মাদক দিয়ে ফাঁসানো কিংবা আটকের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো অনেক ঘটনায় গণমাধ্যমে দেখা যায়। কিন্তু এসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ সময় তদন্ত আলোর মুখ দেখে না। ফলে অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য। তাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। কিন্তু বদলি ছাড়া তেমন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না তাদের বিরুদ্ধে। ফলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।

২০১৮ সালে দেশে ৪৩৭টি বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। (ডেইলি স্টার)

২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ২০৪ জন নিহত হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই বাহিনীগুলো আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর একই কথা বলে আসছে।( বিবিসি বাংলা)

একটি স্বাধীন দেশে এ ধরনের হত্যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।

অপরাধী যেই হোক প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো উচিত। কিন্তু বিচারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা কোন ভাবেই সভ্য সমাজে চলতে পারে না। এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ কিংবা ক্ষোভ দেখা গেলেও বাস্তবে তেমন কোন আন্দোলন গড়ে উঠে না।ফলে এসবের তেমন কোন সমাধান হয়নি।

আইনের শাসন না থাকার কারণে এসব ঘটনা ঘটে। আমাদের উচিত এসব ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আমরা চাই বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হোক। এজন্য অবশ্যই সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

লেখক : যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্ত মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই।
চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড