• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সর্বদাই কেঁচো খুঁড়লে কেন সাপ বের হয়?

  মাহবুব নাহিদ

১৮ জুলাই ২০২০, ১৪:৩১
মাহবুব নাহিদ 
মাহবুব নাহিদ 

আমাদের দেশে অপরাধমূলক কার্যক্রম অহরহ চলতে থাকে। তবে বেশিরভাগ অপরাধই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অগোচরে হয়। হাজারটা অপরাধ হলে হয়তো একটা ধরা পড়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যখনই কেউ একটা অপরাধ নিয়ে ধরা পড়ে তখন তারই আরো শত শত অপরাধ চোখের সামনে আসে। তার মানে অপরাধ কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি এর আগে। একটা বিল্ডিং এ একটা খুন হলে দেখা যায় যে খুন করেছে তার একশো কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি আছে। বের হয়ে যায় যে সেই বিল্ডিংটা নিয়ম মেনে বানানো হয়নি, জমিটা ছিল অবৈধ দখলের, পানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল বাকি কয়েক বছরের। একটা বস্তিতে আগুন লাগলে দেখা যায় সেই বস্তির জমিটাই অবৈধ দখলের, সব ক্ষেত্রে হয় তা বলছি না কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন হয়। একজন একটা মোবাইল চুরির অপরাধে ধরা পড়লে দেখা যায় ডায়মন্ড চোর। তাহলে এরা এসব অপরাধ করেছে কোথায়? স্ব স্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন তাহলে করেছে টা কি? একটা বিমান দুর্ঘটনা হলো, এখন শোনা যাবে বিমান বহু বছরের পুরানো এই সমস্যা সেই সমস্যা ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে এগুলো আগে কেনো চোখে পড়বে না? লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর কেনো আমরা জানবো যে তার রুট পারমিট ছিলো না? কর্তৃপক্ষের তাহলে কাজ কি? জনগনের টাকায় দায়িত্ব পালন করে তো তারা জনগনকে হত্যার কল্পেই কাজ করছে পরোক্ষভাবে। কারন রুট পারমিট না থাকা যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়লে সেখানে মানুষ মারা গেলে কর্তৃপক্ষের উপরই তো দ্বায় বর্তায়।

কোনো এক ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ঝামেলায় পড়ে কিংবা একটা নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের জন্য ধরা হয়, তখন দেখা যায় আরো হাজারটা সমস্যা তার মাঝে ধরা পড়ে। একটা বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার পর দেখা যায় সেই বিল্ডিং রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বানানো। একই প্রতিষ্ঠান নানান ধরণের অপকর্ম করতে থাকে। কিন্তু যখন একটা ধরা পড়ে তখন অন্য সবকিছু জানা যায়।

এখন কথা হচ্ছে, এই অপরাধগুলো কেন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে? আগে থেকে এদেরকে কেন ধরা যায় না? যারা অপরাধ নিয়ে, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে তারা কি এসব জানে না? তাদের কাছে কেন এসবের খোঁজখবর থাকে না? তাহলে তো তাদেরও কাজে অবহেলা প্রমাণ পায়। আর সবসময়ই দেখা যায় যে, কোনো একটা অপরাধ সংগঠিত হলে তার আয়োজন করে তার বিচার চাইতে হয়। নাহলে কিছুদিন পর এমনিতেই সব ধামাচাপা পড়ে যায়। অপরাধের বিচারহীনতা আমাদের দেশে অপরাধ বাড়িয়ে দিয়েছে। আর যারা অপরাধ করে তারা অপরাধ করতে করতে এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে যে অনেকেই ধরে নেয় যে বিচার নেই, তাই নির্ভয়ে অপকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে। হয়তো অনেক বড় কোনো ছায়ায় নিচে অবস্থান করে তারা এই অপকর্ম চালায়। কিন্তু দেখা যায় যখন বিপদে পড়ে তখন কেউই পাশে থাকে না।

অপরাধ বা অপকর্ম করা যায় কিন্তু মানুষের মৌলিক চাহিদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তো কারো নেই। বিশেষ করে এই মহামারীর সময়ে যে সমস্ত অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে তা আসলেই হতাশাজনক। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে শুরু করে চিকিৎসাসহ নানান ধরণের ইস্যু নিয়ে দুর্নীতি দেখে পুরো জাতি আসলেই হতবাক। কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন করতে পারে তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এদের অনেকেই আবার সমাজে ভালো মানুষের মুখোশ পরিধান করে বসে আছে। সমাজের কাছে এরা গণ্যমান্য ব্যক্তি। কিন্তু এরাই দেশের স্বার্থবিরোধী, জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে।

মূল কথা হচ্ছে, কেঁচোগুলো পরিপূর্ণ সাপ হয়ে ওঠার পূর্বে তা দমন করতে হবে। আমাদের চারিপাশে এরা দানা বেঁধে ওঠার আগেই রুখে দিতে হবে। এই রুখে দাঁড়ানোর দায়িত্ব শুধুই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর না। রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে।

(মতামত বিভাগে আলোচিত সকল মন্তব্য লেখকের একান্ত ব্যাক্তিগত অভিমত)

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড