• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আসুন লাভের পরিমাণ কমিয়ে ঝামেলাকে বরণ করি 

  রহমাত মৃথা

০১ জুলাই ২০২০, ০২:০১
অধিকার
রহমান মৃধা

আমি নিয়মিত লিখি দূরপরবাস থেকে। অনেকে আমাকে বলেছে “কেন এসব ঝামেলার মধ্যে জড়াও? কী দরকার এসব করার, তুমি থাকো বিদেশে, এছাড়া কোনো পরিবর্তন বা লাভ কোনটাই হবে না। শুধ শুধু তোমার সময় যাবে আর মন খারাপ হবে।”

আমি ব্যক্তিগতভাবে ঝামেলা আর লাভ এই দুইটি শব্দকে যেমন ঘৃণা করি তেমন ভালোবাসি। আমি ভিজুয়ালাইজ করতে পছন্দ করি। ভ্রমণে অনেক ভালোমন্দ দেখা যায় এবং তাকে বেশ সহজভাবেই ছবি তুলে তা প্রকাশ করা যায়। লেখার মাধ্যমেও আমরা সেইভাবে অনেক কিছুর বর্ণনা দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি।

আসুন আজ সবাই মিলে ঝামেলা এবং লাভের জগত সম্পর্কে কিছু জেনে নেই।

আমরা সবাই জানি বা লক্ষ্য করেছি যে পিপড়া, মৌমাছি এরা এদের কাজে সবসময় পরিশ্রমী। একই ধরনের কাজ বারবার করে এবং বেঁচে থাকা অবধি সেটাই করে। যার কারণে তাদের কাজের দক্ষতা আমাদের চোখে পড়ে। আমরা তাদের কাজের প্রশংসা করে থাকি।

আমরা মানুষ জাতি, একটু ভিন্ন ধরণের অন্যান্য জীব জন্তুর তুলনায়। জন্মের শুরুতেই আমরা আমাদের দায়ভার থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বহুকেন্দ্রিক। এ কারণে আমরা একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করি না, যেটা সহজেই লক্ষণীয় পশুপক্ষির ক্ষেত্রে। যার কারণে আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। প্রকৃতি নিজেই পরিবর্তিত হয়ে আমাদের সে আশা পূর্ণ করে থাকে। যেমন গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ এসে নানারূপে ও নানাগুণে আমাদের মুগ্ধ করে। তারপর নানা ধরণের ফলমূল থেকে শুরু করে খাবারে রয়েছে ভ্যারাইটি যা আমাদের খুদা মিটায় এবং তৃপ্তি দেয়।

আমাদের চেহারায় মিল অমিল দুটিই রয়েছে। এ কারণে একজনকে পছন্দ না করলে অন্য আরেক জনকে পছন্দ করতে পারি। মতামতের ক্ষেত্রেও দেখা যায় আমরা ভিন্ন মত বা ভিন্ন ধর্ম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করি। এমনকি স্রষ্টার সৃষ্টির উপরও মাতব্বরি করার চেষ্টা করি। যেমন যারা কালো তাদেরকে আমরা অপছন্দ করি বা বর্ণ বৈষম্যে দ্বিমত পোষণ করি।

আমাদের চাওয়া-পাওয়া এবং আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। বলা যেতে পারে আমাদের ডিমান্ড অনেক বেশি, যার কারণে যখন পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে সবকিছু না মেলে তখনই আমরা না এই মেলার অভাবটিকে ফিল করি আর সেটা হচ্ছে সমস্যা। এখন সেই সমস্যার সমাধান যদি না হয় তখনই আমরা ঝামেলায় পড়ি।

আমাদের চাওয়া-পাওয়া এবং আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ এতো বেশি যে আমরা শেষে লোভী হতে শুরু করি আর তখনই যা কিছু চিন্তা করি, বলি, পেতে এবং দিতে চাই সেখানে শুধু লাভ খুঁজি।

আমরা লাভ খুঁজতে পাকা, তবে ঝামেলায় জড়াতে খুব কাঁচা, তাই লাভের সাথে ঝামেলায়ও জড়িয়ে পড়ি। তবে সবার ক্ষেত্রে যে এটা সত্য তা বললে ভুল হবে। আদিম যুগে মানুষ সমস্যায় পড়েছে ঠিকই কিন্তু একেক করে তার সমাধানও করেছে। যেমন আগুন থেকে শুরু করে বেগুন ভাজি করতে শিখেছে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনেক নতুন ধরণের “টাচ এন্ড টেস্ট প্রযুক্তি পাচ্ছি” এবং তা সম্ভব হচ্ছে সীমিত কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য। এই সীমিত সংখ্যক মানুষ যেমন বড় বড় বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক বা গুণী মানুষ যারা পৃথিবীর উন্নয়নের পেছনে অবদান রেখে গেছেন, এখন যদি তাদেরকে ফলো করে পিপড়া এবং মৌমাছির মতো একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে শিখি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি ঝামেলা এবং লাভ অর্থবহ হবে। ভালো কাজের ফলাফল সব সময় অর্থবহ হয়ে থাকে এবং তা সবসময় ‘Creat good value for human and humanity’.

কীভাবে এটা পাওয়া সম্ভব সেটাই এখন একটি বড় প্রশ্ন। এখন সবারই নেতা হবার শখ হয়েছে। শখ হবার কারণ প্রচুর ক্ষমতা সাথে দুর্নীতি অনীতির মাধ্যমে প্রাচুর্যের পাহাড় গড়া। তবে একজন ভালো নেতার ডেফিনিশন কিন্তু অন্যরকম। যেমন একজন মহান নেতা নিজে নেতা না হয়ে অন্যকে নেতা হিসাবে মেনে নেয় এবং মেনে নেবার মতো দক্ষতা অর্জন করাটাও কিন্তু একজন বড় নেতার কাজ।

ব্যক্তিগতভাবে আমরা সবাই কিন্তু নেতা আমাদের নিজ নিজ জায়গায় । কিন্তু একটি কর্মক্ষেত্র, সমাজ বা দেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত সহজ নয়। কারণ যদি আমার কাজ-কর্ম অন্যদের মনঃ-পূত না হয়, আমাকে কেউ যদি নেতা হিসেবে মেনে নিতে রাজি না হয়, তবে জোর করে তো সে পদটা আমি নিতে পারিনা।আমি হয়তো মনে করতে পারি আমার যোগ্যতা বা চিন্তা-ভাবনা অন্যের চেয়ে ভালো তা সত্ত্বেও যখন কেউ তা মেনে নিচ্ছে না তখন আমাকে ভাবতে হবে, “আমার উদ্দেশ্য যদি কোন কাজ সম্পন্ন করা হয় এবং তা যদি আমার পরিবর্তে অন্য কেউ করতে পারে তবে ক্ষতি কী?

সবকিছুর জন্যই যদি আমি ক্রেডিট পেতে উঠেপড়ে লাগি, তাহলে তো আমি একজন ভালো নেতা নই, আমি একজন লোভী যে সারাক্ষণ লাভ খোঁজে।”

এ ধরণের মন-মানসিকতা যাদের মধ্যে বিরাজ করছে তারা ঝামেলা পছন্দ করে না। ঝামেলার থেকে দূরে থাকতে চায়। অতএব যারা ঝামেলা ছাড়া এবং লাভের মাধ্যমে জীবন পেতে চায় তারা পৃথিবীর সমস্যা। এদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে বিধায় পৃথিবীর সমস্যা বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি।

এখন বিষয়টি জানার পরও কি আমরা যেমন আছি তেমন থাকবো, নাকি পরিবর্তিত হবো, এটাই এখন প্রশ্ন? এ প্রশ্নের উত্তর শুধু সৃজনশীল ব্যক্তিই দিতে পারবেন। আমাদের বিবেককে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হই, তাহলে জয় আমাদের হবেই এবং আমরা শুধু লাভ নয় মানবতাবোধ ফিরে পাবো, পাবো ফিরে আমাদের মনুষ্যত্বকেও।

মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা একান্ত লেখকের মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি মালার কোনো সম্পর্ক নেই।
চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড