• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ট্রাম্প ও বালসানারো : মুদ্রার একই পিঠ

  মাহবুব নাহিদ

০৫ জুন ২০২০, ২৩:১৪
মাহবুব নাহিদ 
মাহবুব নাহিদ 

পৃথিবীতে একজন মানুষের চেহারার সাথে  অন্যজন মানুষের চেহারার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। মানুষের মতো মানুষ আছে বলে আমরা জানলেও একদম হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। শারিরীক গঠন কিংবা কাঠামোর মিল না পাওয়া গেলেও মানসিক অবস্থার মিল খুঁজে পাওয়া কিন্তু কঠিন নয়। একেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে মানসিক মিলের কারণে। যেখানে মনের মিল আছে সেখানে ভালো কিছু আছে। অর্থাৎ মনের মিল আছে এমন মানুষ একসাথে থাকলে যেকোনো কাজ করা যায়। কিন্তু মনের মিল থাকলে যে শুধু ভালো কিছুই হবে তাও কিন্তু নয়। মনের মিল ডেকে আনতে পারে ঘোর বিপদ। কথায় বলে, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। দুইজন চোর এক হয়ে গেলে চুরি হয়ে যায় অনেক সহজ। 

বিশ্ব রাজনীতিতে তেমন একটি মিল দেখা যায় যা কিনা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর। এই মিলের কারণে বিশ্বের অনেক কিছুই হুমকির মাঝে। সেই মিল হচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ায় বালসানারো। এই দুই বিশ্বনেতাই চরম উগ্রপন্থী। এরা তাদের ক্ষমতার শুরু থেকেই মানুষের বিপক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। দমন, নিপীড়ন সহ নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ, বিশ্বের কাছে এরা হয়ে উঠেছে ক্ষতিকর।

প্রথমত পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে এদের দুইজনের কার্যক্রম অনেকটা একই রকম। এই ক্ষেত্রে অবশ্য ট্রাম্পের চেয়েও বেশি মারাত্মক বালসানারো। পৃথিবীর বৃহত্তম বনভূমি আমাজানের বেশিরভাগ অংশই ব্রাজিলে। এই আমাজান ঘিরে রয়েছে বালসানারোর অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড। তার বার্গার অর্থনীতির কারণে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাজান। কয়েক মাস আগেই আমাজানে দাবানলের ঘটনা ঘটে। পুরো বিশ্ব চিন্তিত হয়ে পড়ে পৃথিবীর ফুসফুসে লেগে যাওয়া এই আগুন নিয়ে। কিন্তু ঠিক যেন মুদ্রার অপর পিঠ স্বয়ং দেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি এসব চিন্তা ভাবনার ধারও ধারেননি। তিনি ব্যস্ত বার্গার অর্থনীতি নিয়ে। ব্রাজিল গরুর মাংসের ব্যবসায় প্রসিদ্ধ। ক্যাটেক রেঞ্চ বানানোর জন্যই গাছ কাটা হয়। বেশি বেশি গাছ কাটাকে সমর্থন করেন বালসানারো। পরিবেশবিদরা এই দাবানলের কারণ হিসেবে বালসানারোর বার্গার অর্থনীতিকেই দ্বায়ী করেন। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করেন না তিনি।

 বালসানারোর মতো ট্রাম্পও পরিবেশ নিয়ে আগ্রাসী। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন করে আমেরিকা ও চিন। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই বিষয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তিনি কয়লার অর্থনীতি বন্ধ করার কথা বললেও তা পালে হাওয়া পায়নি। বৈশ্বিক জলবায়ু দিনদিন হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার দিকে কোনো হেলদোল না থাকলেও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। এছাড়াও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল ওঠানো থেকে শুরু করে অধিবাসীদের তাড়িয়ে দেওয়া সহ নানান ধরনের ধর্মীয় অত্যাচারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের রুঢ় মানসিকতার প্রমাণ দেয়। 

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যখন বিশ্বব্যাপী বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে এই ভাইরাস মোকাবেলার জন্য তখন এই দুই নেতাই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেদের জড়িয়ে রাখছেন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে করোনায় জর্জরিত দেশসমূহের মধ্যে তাদের অবস্থানই প্রথম ও দ্বিতীয়। তবুও তাদের ব্যবসায়িক মনোভাব থেমে নেই।   

ট্রাম্প প্রথম থেকেই মূল্য দেননি এই ভাইরাসকে। এমন পুচকে ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকে কিছুই করতে পারবে না এমন কথাও শোনা গেছে। করোনা ভাইরাসের আক্রমণের মধ্যেও ব্যবসা নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন ব্যবসায়ী ট্রাম্প। বারবার তিনি লকডাউন খুলে দেওয়ার জন্য তোরজোড় চালিয়েছন। সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন চিনকে দোষারোপ করতে। এমনকি তার দেশের সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তার উত্তরও চিনের কাছে চাইতে বলেন তিনি। এছাড়াও তিনি ব্যস্ত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে ঝামেলা করতে। একদা তো সম্পর্কই ছিন্ন করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহার করিয়েছেন হাইড্রোক্লোরোকুইন।    

করোনার মাঝেও দেশকে উত্তাল করেছেন ট্রাম্প। কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে দেশ। আর অতি সহজেই ট্রাম্প পুলিশের পাশাপাশি জনগনকে দমন নিপীড়ন করার জন্য নামিয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনী।

করোনা নিয়ে ব্যতিক্রমী অবস্থায় ছিলেন বালসানারোও। তার দাবী সিনিয়র সিটিজেনরা মারা গেলেও নাকি তার কোনো সমস্যা নেই। সেই জন্য বারবার তিনি লকডাউন না দেওয়ার পক্ষে কথা বলেন। এদের এই হীনমন্যতামূলক আচরণের খেসারত হয়তো দিতে হচ্ছে তাদের দেশকে। কারণ তাদের অবস্থাই এখন বেশি খারাপ। 

ট্রাম্প ও বালসানারো যেন একটি মুদ্রার একই পিঠ। এরা দুইজনই পৃথিবীর জন্য সুখকর নয়। 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড