• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নাড়ির টানে বাড়ির পানে!

  মাহবুব নাহিদ

১৭ মে ২০২০, ১৮:৩৫
মাহবুব নাহিদ 
মাহবুব নাহিদ 

বড্ড আবেগী এক জাতি আমরা। পৃথিবীর কোথাও ঈদের সময় এমন অবস্থা হয় কিনা আমার জানা নেই। হয়তো এই পৃথিবীতে বিরল এক অবস্থা। আর কেউ জানে না এই অবস্থার কথা, আর কেউ দেখেনি এই পরিস্থিতি। হ্যাঁ, এখনই সেই সময়। এখন তো টিকেট বিক্রির ধুম পড়ে যেতো। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা লঞ্চঘাটে তিল ধারনের ঠাই থাকতো না। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধু টিকেট কাটে না, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়িও যায়। এই সময়ে প্রত্যকে পত্রিকা কিংবা টিভিতে একটা কথা খুব দেখা যেতো "নাড়ির টানে বাড়ির পানে ফিরছে মানুষ" নাড়ির টান আসলেই বড্ড কঠিন এক টান। পরিবারের মায়া আর ভালোবাসা অনেক জোরালো। এই ভালোবাসা হয়তো পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের মানুষ বোঝেই না। তাইতো পৃথিবীতে বাংলাদেশই এই ঈদযাত্রায় বিরল এক জাতি।

হয়তো ২৪ ঘন্টা জার্নি করে যেতে হবে আবার ২৪ ঘন্টা জার্নি করে আসতে হবে। কিন্তু ওই একটি দিন একসাথে থাকার জন্য এই আয়োজন। ঈদের আনন্দটুকুকে একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্যই এই কষ্ট করে বাড়ি যাওয়া। পবিত্র একটা দিন প্রিয়জনের হাতে একটা উপহার তুলে দেওয়ার আনন্দ। দিনগুলোকে পরিবারের সাথে একাকার করে দেওয়া। মা কিংবা স্ত্রীর হাতের রান্না প্রাণভরে খাওয়া এসবের কিছু বাদ দিতে চাই না আমরা। প্রত্যেক বছর যখন কষ্ট করে যাই তখন মনে হয় আগামী বছর এই কষ্ট করে আর আসব না। কিন্তু এই সময়টা চলে আসলে বুকের ভিতরে একটা টান অনুভব করি আমরা। ঠিকই সেই নাড়ির টানে আমাদের ফিরে যেতে হয় বাড়ির পানে।


দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই বছর এসবের কিছুই হচ্ছে না। মানুষ বাড়ি ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না বা পারছে না। অনেকে অবশ্য বাড়িতে চলে গিয়েছে। কিন্তু একটা বিরাট অংশের মানুষ এবার স্ব স্ব কর্মস্থল বা স্ব স্থানে থাকতে হবে। যারা ছাত্রছাত্রী রয়েছে তারা আগেই বাড়িতে চলে গেছে। বাড়িতে গিয়ে তারা হয়তো পরিবারের সাথেই ঈদ করতে পারবে। যদিও এবার ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে। এবার ঈদে সেভাবে নামাজ পড়া যাবে না, কোলাকুলি করা যাবে না। বাহিরে ঘুরতে বের হওয়া যাবে না। এবার ঘরবন্দী হয়েই কাটাতে হবে ঈদ।    

   
যারা কর্মজীবী আছেন তাদের এবার কর্মস্থলেই ঈদ করতে হচ্ছে। অনেক পেশার মানুষ আছে যারা তো সাধারণত ঈদের ছুটিই খুব একটা পায় না। দেখা যায় এক ঈদে ছুটি পেলে আরেক ঈদে ছুটি পায় না এমন অবস্থা। এবার আমরা সবাই সেসব মানুষের কষ্ট বুঝতে পারব। ঈদে বাড়িতে না যাওয়ার তিনটি কারণ বর্তমান। প্রথম কারণ হচ্ছে, চাইলেও আমরা যেতে পারব না। কারণ পরিবহন মোটামুটি ঈদের সময় বন্ধই থাকবে। কিছু প্রাইভেট যানবাহনে চলাচল করা সম্ভব হবে হয়তো। তাও ঈদের তিনদিন আগে থেকে একদম জরুরী সেবা ব্যতীত সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই যানবাহন না চললে যাপ্যার তো প্রশ্নই আসে না৷ দ্বিতীয়ত, সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ঈদের ছুটিতে নিজের কর্মস্থলে থাকতে হবে সবাইকেম এমন ঘোষণা দিয়েছে পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। অর্থাৎ নিজের কর্মের প্রতি মর্যাদা দিয়ে হলেও স্ব স্ব স্থানে থাকতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তো স্থান ত্যাগ করলে শাস্তির ব্যবস্থাও করেছে। 
তৃতীয় যে বিষয়টা আছে, সেটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়টা কেউব্জোর করে আমাদের বুঝাতে পারবে না। এটা বুঝতে হবে আমাদের নিজেদেরই। আমরা খুব ভালো করেই জানি যে এতকিছুর ফাঁক গলেও আমরা চাইলেই বাড়িতে যেতে পারব। কিছু কষ্ট করতে হবে তবুও যাওয়া সম্ভব হবে অনেকের জন্য। কিন্তু আসলে যাওয়া উচিত হবে কিনা? আমি যে যাব, যাওয়ার সময় কারো থেকে করোনা ভাইরাস বহন করে নিয়ে যে আমি বাড়ি যাব  না তার নিশ্চয়তা কী? রাস্তাঘাটে প্রচুর ভিড় হিবে, এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একদমই অসম্ভব কাজ। আমাদের আশেপাশে বহু মানুষের সংস্পর্শে আমাদের আসতে হবে। অনেকের সাথে স্পর্শ হবে। তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে বা কেই ভাইরাস বহন করলে তা সহজেই আমার মাঝে চলে আসবে। এর ফলে যা হবে তা হচ্ছে, একদম ভয়ংকরভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। এখন কথা হচ্ছে, আমি ভাইরাস বহন করলাম কিন্তু আমার শরীর হয়তো ভালো কিংবা আমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তাই আমার কিছুই হলো না। কিন্তু আমার পরিবারের কেউ একজন বয়োবৃদ্ধ আছে, কেউ অসুস্থ  আছে, কারো ডায়বেটিস আছে, কারো শ্বাসকষ্ট আছে। এদের জন্য আমি ভয়ংকর হয়ে উঠব। তাই নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর কারণ যেন আমরা না হই। একটু আবেগের জন্য যেন বিরাট বড় কোনো ক্ষতি না হয়ে যায়। বেঁচে থাকলে, পৃথিবী সুস্থ হয়ে গেলে আমরা একসাথে আরো বহু ঈদ কাটাতে পারব। এবার একটু দূরে থাকি কারণ এবার দূরে থাকাই সবচেয়ে উত্তম।       

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড