• বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মা শুধু দিবসের জন্য না

  মাহবুব নাহিদ

১০ মে ২০২০, ২২:১৬
মাহবুব নাহিদ
মাহবুব নাহিদ

মা দিবস? মায়ের আবার দিবস হয় নাকি? জীবনের প্রত্যেকটি দিন মায়ের জন্য। প্রত্যেকটা দিন মা'কে ভালোবাসার জন্য। মা'কে ভালোবাসতে আবার উপলক্ষ লাগে নাকি! মোটেও লাগে না, মা'কে প্রতিদিন ভালোবাসা যায়। তবে একটা দিনকে স্পেশাল করে পালন করা কিন্তু দোষেরও নয়। দিবসের মাধ্যমে ভালোবাসা অবশ্যই পুনর্জীবিত হয়। ভালোবাসা নতুন ফ্রেমে বাঁধার জন্য দিবস ব্যাপারটা মন্দ নয়। 

অনেকেই ফেসবুকে মা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো পছন্দ করে না। কিন্তু আমি এখানেও দোষের কিছু দেখি না। ফেসবুক তো মনের ভাব প্রকাশের জন্যই ব্যবহার করি আমরা। ফেসবুকে কেন মা'কে ভালোবাসি এই কথাটা বলতে পারব না? এতে দোষের কিছুই নেই, তবে দোষের একটা ব্যাপার আছে। যদি এমন হয় যে, ফেসবুকে অনেক কিছু বলি কিন্তু বাস্তবে মায়ের সাথে সম্পর্কই ভালো না। তাহলে ব্যাপারটা পুরোটাই দোষের। 

মহানবী (সঃ) মায়ের কথা গুরুত্ব দিতে গিয়ে তিনবার বলেছেন, চতুর্থবার বলেছেন বাবার কথা। মা এমন এক সত্ত্বা যে কিনা আমাকে আমার চেয়ে বেশি চেনে। সাধারণত আমরা বুক ফুলিয়ে বলে থাকি যে আমার চেয়ে নিজেকে কেউ ভালো চেনে না কিন্তু বাস্তবটা আমরা জানি না। মা আমার চেয়ে আমাকে বেশি জানে। 
দশ মাস যাকে গর্ভে ধরেছে  তার অন্তরের ব্যাথা যেন তারও আগে জানতে পারে মায়েরা। একটা সন্তান জন্ম দেওয়ার কষ্ট শুধু মায়েরাই জানতে পারে। পৃথিবীর কারো এই কষ্ট বোঝার ক্ষমতা নেই। এই কষ্টের ভাগ আর কেউ নিতেও পারবে না। আমাকে সবকিছু দিতে পারবে কিন্তু মা ছাড়া এই ত্যাগ আর কেউ করতে পারবে না। বাচ্চারা মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়। যারা খায় তারা অনেক শান্তিতে থাকে। কিন্তু যারা খেতে পারে না বা পায় না তাদের যতটা কষ্ট তার চেয়ে অধিক কষ্ট হয় মায়ের।   

মা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। আমরা যখন হতাশ হয়ে পড়ি, কোনো কিছুরে কুল কিনারা খুঁজে পাই না তখন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াই। আমরা মানসিক চিকিৎসা করার জন্য বিভিন্ন জনের কাছে যাই। আমরা নিজেদের কাউন্সিলিং করানোর জন্য সাইকিয়াট্রিস্ট খুঁজে বেড়াই। আমরা ভিডিও দেখি, বড় বড় লেখকদের বই পড়ি। কিন্তু আমরা আমাদের ঘরেই যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মোটিভেশন লুকিয়ে আছে তা জানি না। মা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। আমার প্লেটে কতটুকু ভাত দরকার তা আমার চেয়ে আমার মা বেশি জানে।  মাছের কোন পিছটা আমার খেতে ভালো লাগে তা আমি জানি না। আমার মা জানে কোনটা পিছটা আমাকে তুলে দিতে হবে। আমার কখন খেতে হবে আমার মা জানে। আমার কখন পড়তে বসতে হবে তাও আমার মা জানে। তাহলে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়ালেও আমি সেই মোটিভেশন খুঁজে পাব না যেটা মায়ের কাছে আছে।

আমার মা অনেক বেশি শিক্ষিত হতে নাও পারে। আমার মা হয়তো কোনো পড়ালেখা নাও জানতে পারে। কিন্তু আমার মাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষক। যে শিক্ষাটা মা আমাকে দিতে পারবে সেটা হচ্ছে একজন মানুষের জীবনের ভিত্তি। বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন ঠিক না হলে বিল্ডিং যেমন মজবুত হয় না। তেমনি আমরা যদি মায়ের কাছ থেকে শিক্ষাটা না নিতে পারি তাহলে জীবন সফল হবে না।     

কথায় বলে, মায়ের মন যা ভাবে তা শত্রুর মনেও ভাবে না। আমরা কোথাও যাওয়ার আগে, কোনো কাজ করার আগে যা যা খারাপ কিছু হতে পারে তা মায়ের মন ভেবে নেয়। আমাদের সবসময় মনে করে দেয় সেই বিষয়গুলো। মোট কথা, পৃথিবীতে আমার চেয়েও আমাকে বেশি জানে, আমার জন্য বেশি ভাবে, সে হচ্ছে মা।
কিন্তু এই মা হয়ে যাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা। মা বয়স্ক হয়ে গেলে আমরা ঘরে রাখতে চাই না। ছোটবেলায় মা আমাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখেছেন কিন্তু আমরা সেটা বয়স্ক অবস্থায় মা'কে আমরা করতে পারি না। বিয়ে করলে বউ হয়ে যাই আমাদের সবকিছু। তাই মা দিবস পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মায়েদের প্রতি সত্যিকারের  ভালোবাসা দিতে হবে। কারণ বৃদ্ধ বয়সে মা বাবাকে পরিচর্যা করা আমাদের কর্তব্য। 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড