• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চলুন পেশাটাকে সম্মান করে সেরাটা দেই এই ক্রান্তিকালে

  নাজমুল সাঈদ

০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪৩
নাজমুল সাঈদ
নাজমুল সাঈদ

সাংবাদিকতা। যেটাকে আমি মাঝে মধ্যে খাটি বাংলায় মাকাল ফলের মতো বলি, অর্থাৎ "উপরে চকচক ভিতরে সদর ঘাট"! সাংবাদিকতার বাইরের মানুষের কাছে শুনতে অবাক লাগতে পারে। এ পেশার বিজ্ঞজনরাও কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন। এটার পক্ষেও যুক্তি আছে তাদের কাছে। সাংবাদিকতা করেও অনেকে বেশ ভালো আছে, তাই হয়তো।

এগুলো সাময়িক ক্ষোভের কথা। কিন্তু সাংবাদিকতা এখনও আমার কাছে একটি মহান পেশা হিসেবেই বিবেচিত। আমার স্বপ্নের পেশাও বটে। মাধ্যমিকে যে নেশাটা ধরেছিল, সেটা এখনও আকড়ে আছি, বাকি জীবনটা থাকবে আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ডাক্তারসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সদস্যদের সাথে মাঠে আছে সংবাদকর্মীরাও। রাতদিন খেটে মাঠের সব শেষ খবর তুলে আনছেন তারা। আপনারা যারা ঘরে আছেন তাদের জন্যই। আগামীর দিনগুলোতেও তারা মাঠেই থাকবে। সংবাদের প্রয়োজনে সব জায়গায় যেতে প্রস্তত তারা। আমিও আছে তাদের দলে।

আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, এই দুর্যোগকালে সেরাটা দিতে হবে। ক্রান্তিকালে যদি নিজেকে গুটিয়ে রাখি নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবো আজীবন। সেই অপরাধী আমি হতে চাই না। জীবনের পরোয়া না করে আজও (বুধবার) ঢাকার বাইরে সব চেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম।

এখন বলতে পারেন আমার পরিবার নেই? তাদের কথা চিন্তা না করেই কেন ঝুঁকি নিচ্ছি। মাঠের সঠিক তথ্যটা তুলে ধরতে কাউকে না কাউকে তো ঝুঁকি নিতেই হবে। তাই না! সেটাই করেছি।

পরিবার আছে। প্রিয়জন আছে। দুঃচিন্তার ভাজও তাদের কপালে। ফোন দিলেই নানা আকুতি-মিনতি। ঘর থেকে যেন বের না হয়।! কিন্তু পারি না। পারবোও না। মহান পেশার দায়িত্ব অবহেলা করে পারবো না এই দুঃসময়ে ঘরের কোনে বসে থাকতে।

কিন্তু দেখেন, আমি বা আমরা যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। লাশটি গ্রামে পাঠানোর টাকাটাও নিজের পরিবারকেই ম্যানেজ করতে হবে। নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বীমা। একজন সংবাদকর্মী মারা গেলে কিভাবে তার পরিবার চলবে সেটাও অনিশ্চিত। এত ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে মাস শেষে বেতনটাও অনিশ্চত। তারপরেও সংবাদের গন্ধে বুঁদ হয়ে ছুটে চলছেন একেকজন সংবাদ যোদ্ধা। কথায় আছে, প্রবল ইচ্ছে থাকলে হিমালয়ও জয় করা যায়। সাংবাদিকদের বেলায় ঠিক এমনই। প্রবল ইচ্ছে আর সংবাদ সংগ্রহের নেশায় তাদের বড় শক্তি। করোনার কাছে মাথা নত করে-সংবাদ সংগ্রহ করবেন না, এমন নজির তৈরি হবে না কখনই।

কিন্তু আপনারা যারা করোনা আক্রান্তদের সেবায় সরাসরি নিয়োজিত। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণা দেয়া হয়েছে মোটা টাকার স্বাস্থ্য বীমার। তারপরেও কেন নানা অজুহাতে মহান ও মানবিক পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন! তবে এও সত্যি অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের পাশে আছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা করোনা আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত তাদের স্যালুট জানায়।

আরেকটি কথা, একটা বাহিনী থেকে গণমাধ্যমে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। তাদের করোনা আক্রান্ত সদস্যদের নিউজ যেন ফলাও করে প্রচার না করি। এতে তাদের অন্য সদস্যদের মনবল ভেঙ্গে যেতে পারে। এই বাহিনীর সদস্যরাও দিনরাত পরিশ্রম করছেন করোনা মোকাবিলায়। আমি মনে করি, এই বাহিনীর মনবল এত দুর্বল নয়। আর দুর্বল হবেই বা কেন? তাদের কোনো সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অসুস্থ হলে সব দায়িত্ব তো সরকারই নেবে। আর যদি মারা যান, তাদের পরিবার পাবেন মোটা অংকের অর্থ। অন্তত পরিবারকে কারো কাছে হাত পাততে হবে না।

তাই অজুহাত নয়। নিজের পেশাটাকে ভালোবেসে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেন। এই দেশ একদিন আপনাকে ঠিক সুদ সমেত ফিরিয়ে দেবে সকল ঋণ।

 

লেখক : সংবাদকর্মী, যমুনা টেলিভিশন

 

 

(মতামত বিভাগে প্রকাশিত মন্তব্য একান্তয় লেখকের নিজস্ব)  

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড