• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাংবাদিকতার একূল ওকূল

  মাহবুব নাহিদ

৩১ মার্চ ২০২০, ১৩:৫৭
সাংবাদিকতা
সাংবাদিকতার একূল ওকূল

সংবাদ প্রকাশের মহান দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন সাংবাদিকেরা। সংবাদ না হলে মানুষের সকাল পরিপূর্ণ হয় না। অনেকের তো সকালের চায়ের সাথে প্রয়োজন হয় সংবাদপত্র। এখন অনলাইনের কারণে সংবাদ হয়ে গেছে সারাদিনের রসদ। সারাদিনই এখন মানুষ সংবাদ পেতে থাকে। সবাই এখন ঝাঁপিয়ে পড়ছে অনলাইনের দিকে। মানুষ যেমন অনলাইনে খবর পেতে চায়, সংবাদ মাধ্যমগুলোও তেমনি অনলাইনেই প্রকাশ করতে পছন্দ করে।

আমাদেরকে সংবাদ পৌঁছানোর মহান দায়িত্ব যারা পালন করে তাদের জীবনযাপন আসলে কেমন! আমরা ভেবে দেখেছি যে একজন সংবাদকর্মী কীভাবে বাঁচে! কীভাবে যাপিত হয় তাদের জীবন। চরম অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতায় কাজ করতে হয় তাদের। কখনো কখনো নিতে হয় জীবনের ঝুঁকিও। 

সাংবাদিকদের জীবনে দুইটি দিক আছে। একটা দিক হচ্ছে ভালো আরেকটা দিক হচ্ছে মন্দ। অবশ্য সকল পেশায়ই এখন এমন অবস্থা। ভালো খারাপ মিলিয়েই মানুষের জীবন। কিন্তু সাংবাদিকদের জীবনে অনিশ্চয়তার ভারই বেশি। 

একজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হরতাল মানে না, অবরোধ মানে না, মানে না কোনো দাঙ্গা হাঙ্গামা। আসলে এসব মানতে গেলে তার কাজই যে হবে না। মারামারির মধ্যে গিয়ে খবর আনতে হয়, ছবি আনতে হয়। আর এখন তো মানুষ ভিডিও দেখতে চায়। ভিডিও না দেখলে সেই ঘটনার আসল মজাই তো থাকে না। এসব জায়গায় গিয়ে সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃত এবং অনিচ্ছাকৃত দুইভাবেই আঘাতের শিকার হতে হয়।
অনেক মারামারি বা হানাহানি চলার মধ্যে তাদের উপর হঠাৎ কোনো আঘাত আসে। আবার মাঝেমধ্যে দেখা যায় এসব খবর সংগ্রহ করার দরুন তাদের হামলার শিকার হতে হয়। অনেক সময় কেড়ে নেয়া হয় তাদের হাতের মোবাইল কিংবা ক্যামেরাও।                   
এবার আসা যাক অন্য প্রসঙ্গে, অনেক সময় দেখা যায় কিছু খবর চলে যায় সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিপক্ষে। যেই খবর প্রকাশ পেলে হয়তো কারো চাকরি যেতে পারে, কোনো সংগঠন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। 
এমতাবস্থায় সাংবাদিকদের উপর হুমকি আসে। আবার বিভিন্ন প্রলোভনও আসে। একদম কেউ যে প্রলোভনে গা ভাসায় না তা নয়, তবে হুমকি ধামকির সংখ্যা কম নয়। এক্ষেত্রে সংবাদ প্রকাশ করে দিলে দেখা যায় সেই সাংবাদিকের সমস্যা হয়ে যায়। কিছুদিন আগেই তো দেখা গেলো সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিক আরিফুলের উপর কি বর্বর আচরণ করলো কুড়িগ্রামের ডিসি। সাংবাদিকদের সাথে এমনটা হরহামেশাই ঘটে থাকে। সাগর রুনীর মতো অনেককে তো হারিয়ে যেতে হয় না ফেরার দেশে।

আরেকটা দিক রয়েছে তা হচ্ছে চাকরির অনিশ্চয়তা। অনেক সময় তো দেখা যায় সংবাদ মাধ্যম নিজেই বন্ধ হয়ে গেছে। তখন চাকরি হারায় অনেক মানুষ। বন্ধ অনেক কারণে হতে পারে। কখনো নিজেদের কারণে বন্ধ কখনো ওই একইভাবে সংবাদ প্রকাশের খেসারত হিসেবে বন্ধ হয়৷ তাই চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই কাজ করতে হয় সাংবাদিকদের। 

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের কাজের নতুন দুইটা রুপ দেখা যায় তা হচ্ছে হেডলাইন সাংবাদিকতা আর হলুদ সাংবাদিকতা। হলুদ সাংবাদিকতা সম্পর্কে অবশ্য অনেকেই অবগত, এ শব্দ আমাদের কাছে নতুন নয়। হলুদ সাংবাদিকতা হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে কারো সংবাদ প্রকাশ করা। কাউকে হেয় করার জন্য, ক্ষতি করার জন্য সংবাদ প্রকাশ করাই হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। অনেক সময় দেখা যায় সংবাদ প্রকাশ করা হবে এমন ভয় দেখিয়ে সুবিধা নেয়া হয় মানুষের কাছ থেকে। আবার বিনা কারনে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে একজনকে ফাঁসিয়ে দেয়ার জন্যও করা হয়ে থাকে সংবাদ প্রকাশ।
এখন ভুড়িভুড়ি ব্যাঙের ছাতার মতো অনলাইন নিউজ পোর্টাল হওয়ায় এসব অসাধু মানুষদের কাজ করতে সুবিধা হয়েছে। তারা চাইলেই যেকোনো কিছু করতে পারে, যেকোনো সংবাদ প্রকাশ করতে পারে। 

হেডলাইন হচ্ছে আরেক বিড়ম্বনার নাম। হেডলাইন দেখিয়ে মানুষকে খবর পড়তে ডেকে আনার একটা কৌশল অবলম্বন করে থাকে অনেকেই। হেডলাইনে এমন কোনো কথা লেখা থাকে যাতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে সেই সংবাদের উপরে। হয়তো হেডলাইনে রয়েছে কেউ মারা গেছে। কিন্তু খবরের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় যে সিনেমার গল্প!

এভাবে সস্তায় জনপ্রিয়তা নেয়ার জন্য কাজ করে অনেকেই। অনেকেই কাজ করে সকল চটকদার ইস্যু নিয়ে। সাধারণত পজেটিভ সংবাদ শোনার মানুষের সংখ্যা বেশি নয়। সবাই এখন মজার মজার সংবাদ পেতে চায়। কোন নায়িকা কি করছে, কার সাথে ঘুরছে, কার ছুটির দিন কেমন কাটছে, কার কয়টা রিলেশন, কার ছাড়াছাড়ি হচ্ছে এসব খবরে ভরে যাচ্ছে আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো। কারণ মানুষ এগুলো শুনতে চায়, জানতে চায়।

ভালো মন্দ মিলিয়েই সাংবাদিকদের জীবনযাত্রা। তবে দায়িত্ব তাদের মহান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার এমন সুযোগ সবার থাকে না। সবাই ছুটিতে চলে যায় সাংবাদিকদের ছুটি হয় না। মানুষের খবর পাওয়া বন্ধ হয় না। তাই সাংবাদিকদের যেন জীবন অনিরাপদ না হয়, খেয়াল রাখুক সকলে!    


 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড