• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা আমাদের সুস্থ করে যাক

  মাহবুব নাহিদ

৩০ মার্চ ২০২০, ১৬:৩৯
করোনা
করোনা আমাদের সুস্থ করে যাক

করোনা ভাইরাস মহামারী ঘোষণা হবার পরও অনেকে আমরা সতর্ক হইনি। আমরা নিজেদের শুধরাইনি, অনেকেই তারপরেও গায়ে বাতাস লাগিয়েছি। তার ফলাফল পেতে বসেছে সবাই। আজকের ইতালির অবস্থা বোঝা যায় গাফেলতির ফল কতটা খারাপ হতে পারে। 

করোনা ইতিমধ্যেই চালকের আসনে বসে গেছে। বিশ্ব এখন করোনার দখলে। সকল অর্থনীতি, রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি সব থমকে গেছে। আশা রাখি করোনা একদিন চলে যাবে। কিন্তু করোনা আমাদের যেসন শিক্ষা দিয় যাচ্ছে তা কি আমরা মনে রাখবো নাকি আনন্দে আবার সব ভুলে যাবো?

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি মাছের বাজার থেকে ছড়িয়ে যায় এই ভয়াল করোনা ভাইরাস। সাধারণত চীনের মানুষেরা সকল ধরনের প্রাণী খেয়ে থাকে। খাওয়ার ব্যাপারে ওদের কোনো বাছবিচার নেই। এই করোনা যদি চলে যায় তাহলে চীন কি এসব খাওয়া ছেড়ে দিবে? ছাড়বে কিনা জানি না, তবে চীনের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ঠিকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শোনা যায় সেই বাজারে আবার শুরু হয়ে গেছে সেসব যন্তু বিক্রি। অর্থাৎ আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি।


 করোনা ভাইরাস আক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে সংখ্যালঘু বা জাতিগত নির্যাতন বন্ধ হয়ে আছে। আবার যদি এই অচলাবস্থা ঠিক হয়ে যায় তখন কি নতুন করে আক্রমন শুরু হবে নাকি এখানেই সমাপ্তি?

আমাদের দেশে, আমরা সাধারণত নিজেদের অনেক যোগ্য বা অনেক কিছু পারি বলে দাবী করি। কিন্তু করোনা দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের অনেক জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্যোগ থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে আমাদের সজাগ হতে হবে।
আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশ নোংরা করি, দুষিত করি। সেগুলো আমাদের নিজেদের জন্যই আবার ক্ষতিকর, কিন্তু আমরা কখনো ভাবি না যে পরিবেশেরও একটা ফিডব্যাক আছে। করোনা হয়তো তারই কোনো ফিডব্যাক। আমরা এখন ময়লা যেখানে সেখানে ফেলছি না। খুব সাবধান হয়ে গেছি আমরা। এই সাবধানতা কি শুধু করোনার দিনগুলতেই থাকবে? নাকি করোনা শেষ হয়ে গেলে আবার দেদারসে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা শুরু করবো?  বৈশ্বিক তাপমাত্রা যে হারে বাড়তে শুরু করেছিলো সেটা আসলেই উদ্বেগজনক।   এখন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কারণ পৃথিবীতে এখন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হচ্ছে না। পৃথিবী এখন প্রাণখুলে নির্মল বাতাস নিতে পারছে।

আমরা আমাদের চারপাশকে অন্যান্য প্রাণীদের জন্য ভয়ানক করে রেখেছি। প্রাণীরা এখন মানুষকে ভয় পায়। মানুষ কাউকে ভয় পায় না।  আমরা এখন প্রকৃতিকে শান্ত রেখেছি বলে অন্যান্য প্রাণীরা নির্বিগ্নে ঘুরতে পারছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ডলফিনের খেলা দেখা গেছে ত্রিশ বছর পর। এই ঘটনা কিসের ইঙ্গিত করে? অন্যান্য প্রাণীরা লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দারুণ একটা হয়ে গেছে পৃথিবী।
নিয়মিত হাত ধোয়া, খাবারের আগে পরে হাত ধোয়া, কোনো কিছু ধরার আগে পরে হাত ধোয়া তো আমাদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সাধারণত আমরা এগুলো কাজ করে থাকি না। অধিকাংশ মানুষই এসব জিনিস মানতো না। টয়লেট ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করেনা এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু করোনা বুঝিয়ে দিয়েছে নিয়মিত হাত ধোয়া কতটা গুরত্বপূর্ণ! যেই স্যানিটাইজার আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহারের  জিনিস হবার কথা, সেই স্যানিটাইজার আমরা অনেকে চিনলামই এখন। সাধারণত আমরা বাহিরে গেলে, গণপরিবহনে উঠলে নানান জায়গায় হাত যায়। এরপর অবশ্যই আমাদের পরিষ্কার হওয়া উচিত। করোনা না থাকুক এসব জায়গায় অন্য অনেক ধরনের জার্ম থাকতে পারে যা আমাদের অনেক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। করোনা শেষ মানে আমাদের হাত ধোয়া যেন শেষ না হয়ে যায়। এটা যেন আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়ে যায়।

হাঁচি কাশি দেয়ার সময় মুখের সামনে টিস্যু দিতে হবে, সেই টিস্যু আবার ডাস্টবিনে ফেলতে হবে সেটা কেন আমাদের করোনার দ্বারা শিখতে হবে!! এগুলো আমাদের সাধারণ ব্যবহারের অন্তর্ভূক্ত হবার কথা। আমরা এসব জিনিস ছোটবেলা থেকে অভিভাবকদের কাছে শুনতে থাকি, বইয়ে পড়তে থাকি। এগুলো আমাদের কেন করোনার কাছ থেকে শিখতে হবে?

প্রত্যেক ধর্মেই কিছু না কিছু নির্দিষ্ট কাজ বা আমল আছে। আমরা সাধারণত সেগুলো মাথায় আনার চেষ্টা করি না। কিন্তু করোনার কারণে বিপদগ্রস্ত হয়ে আমরা সৃষ্টিকর্তার দারস্থ হচ্ছি। এতে দোষের কিছুই নেই। এটা বরং অনেক ভালো একটা বিষয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, রোজ নিয়ম করেই তো তাকে আমাদের ডাকার কথা। শুধু বিপদে পড়েই কেন ডাকছি!

আমাদের দেশে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ আছে। যা আমরা অনেকেই জানি, অনেকেই জানি না, অনেকে জানতেই চাই না। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আমরা টের পাচ্ছি যে অনেকের খাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা বলে, পেট তো আর লকডাউন হয় না! এগুলো আমাদের অনুভব করার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা। তাই এর থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। আমরা তো অপচয় করছি! অপচয় না করে যাদের প্রয়োজন তাদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার অভ্যাস করে ফেলতে পারি এখন!            
আমরা যারা সাধারণত ঘরের বাহিরে থাকি তারা অনেকেই মনে করে যে যারা ঘরে থাকে বিশেষ করে মহিলারা, তাদের কোনো কাজ নেই। আর যারা ঘরে থাকে তারা মনে হয় অনেক শান্তিতে থাকে। আমরা এখন হারে হারে টের পাচ্ছি যে এমন বন্দী জীবন বেশিক্ষণ ভালো লাগে না। তাই অবশ্যই আমরা এভাবে আর কাউকে অপমান করবো না! কাজ নেই বলে খোটা দিবো না। এই সময়ে আমরা সংসারের কাজ দেখে হয়তো নিজেও একটু হাত  লাগিয়েছি। এই অভ্যাসটা লেগে থাকুক।

করোনা ভাইরাস সাধারণত আমাদের ফুসফুসে সমস্যার সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ফুসফুসে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে তাদের করোনায় ঝুঁকির পরিমান বেশি। এক্ষেত্রে যারা ধুমপান করেন তাদের জন্য অনেক বড় হুমকির কারণ। অর্থাৎ এখন আমরা ধুমপান ছেড়ে দেয়ার শিক্ষাটাও এখান থেকে নিতে পারি।   

আশা রাখি, করোনা ভাইরাস দ্রুত চলে যাবে কিন্তু আমাদের দিয়ে যাওয়া শিক্ষাগুলো মনে থাকবে।                                 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড