• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পরিবার এবং নিজ এলাকা থেকে ‘পরিবর্তন’ শুরু করতে হবে

  রহমান মৃধা

১৯ মার্চ ২০২০, ১৬:১০
রহমান মৃধা
সুইডেন প্রবাসী রহমান মৃধা

আমি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে আছি এবং বিশ্বের নানা দেশের মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করে অভ্যস্ত। ব্যক্তি জীবনেও আমি নতুন কিছু জানা ও শেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছি।

স্বাভাবিকভাবেই আমার চিন্তা চেতনা ভিন্ন ধরনের হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। তবে বাংলাদেশের পরিবেশে থেকে সুন্দর মন মানসিকতার মধ্য দিয়ে যারা গড়ে উঠছে তাদের কাজকর্ম দেখে আমি মুগ্ধ।

হাজার সমস্যায় ভরা একটি দেশ যেখানে দুর্নীতির কালো ছায়ায় ঘেরা অন্ধকার ঠিক সেখানেও রয়েছে খাঁটি সোনা যা বিশ্বাস করতে সময় লাগারই কথা। আমি দীর্ঘদিন প্রায় ৪০ বছর আমার জন্মস্থান থেকে বহুদূরে।

বর্তমান নতুন প্রজন্মদের আমি চোখে দেখিনি তবে তাদের অনেক কর্মের ফলাফল দেখেছি/ দেখছি যা আমাকে মুগ্ধ করছে প্রতিদিন। আমার জন্মস্থান গ্রামে স্বত্ত্বেও তার একটি অবদান রয়েছে, যেমন দেশ স্বাধীনে গ্রামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আমার পাশের গ্রাম নারান্দে, বেজড়া, পানিঘাটা। গ্রামের পাশেই বিশাল ইছামতীর বিল, স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ মানুষ কৃষক এবং কৃষিকাজই এদের প্রধান উৎস। তারপর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইছামতীর বিল যা পুরো দেশের খাবারের একটি বড় অংশের দায়ভার বহন করে চলছে।

অনেকেই আমার মতো দেশের বাইরে বসবাস করছে এবং যারা দেশে রয়েছে তারা নিজ এলাকার খোঁজ খবর নেওয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে আসছে। বর্তমান কৃষিকাজের সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ওপর বাবা-মার ভূমিকা সত্যি মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গত বলতে হয় আমার বাবা-মা আমাদের ভালো শিক্ষা দিতে যেভাবে চেষ্টা করেছেন তা দেখে শত শত পরিবার অনুপ্রাণিত হয়েছে। তারপর আমার বড় ভাইয়ের মেধা এবং কৃতিত্বও অনেক পরিবারকে রোল মডেল হিসেবে উৎসাহিত করেছে, যা সত্যি অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো।

নতুন এ প্রজন্ম গত কয়েক বছর ধরে একটি সংগঠন তৈরি করেছে NUDS (Nohata Union Development Society)। এদের উদ্দেশ্য এলাকার নানা ধরনের সমস্যার সমাধান করা। এ সংগঠনের সবাই ব্যক্তিজীবনে নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত। চাকরি করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্বত্ত্বেও সমস্যা সমাধানে তারা সব সময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এরা রাজনৈতিক কোনো প্রভাবশালী দলের সঙ্গে জড়িত নয়। নিজেদের দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় এরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এরা আমাকে খুঁজে বের করেনি, আমি নিজে এদের কাজে আমাকে যুক্ত করেছি। বেশিরভাগ সময় আমি এ সংগঠনের একটি ছেলে নাম শাহজাহান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। সত্যিকার্থে শাহজাহানকে যারা সারাক্ষণ সাহায্য করে তাদের মধ্যে রয়েছে যেমন হাবিবুল্লাহ, আছাদ্দুজ্জামান, ফারুকসহ আরও অনেক নাম নাজানা হৃদয়বান সোনার ছেলেরা।

এদের সততা, নিষ্ঠা দেখে আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি সোনার বাংলা গড়তে এসব সোনার ছেলেকে রোল মডেল হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সরকার বা বিরোধী দল অবশ্যই শিখতে পারে এদের থেকে অনেক কিছু। দেশকে যারা ভালোবাসে তাদের রাজনীতি করতে হবে বলে কথা নেই, বরং এরা দেশের পরিকাঠামো গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে চলছে। এরা ট্যাক্স পে করছে এবং অবসর সময়ে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করে চলছে।

এদের দেখে বাকিরা অনুপ্রাণিত হোক এটা আমি আশা করতে পারি, কারণ আমি নিজেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। NUDS-এর সাহায্য এ মুহূর্তে আমরা চেষ্টা করছি এলাকার একটি অসহায় পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে।

মো. ইমারত বিশ্বাস নামে পেশায় একজন ঘর-মিস্ত্রী কিছুদিন আগে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছন। ইমারত বিশ্বাস রেখে গেছেন বৃদ্ধ পিতা-মাতা, দুই সন্তান এবং স্ত্রী।

স্বামীর সার্বক্ষণিক পাশে থেকে চিকিৎসা কাজে সহযোগিতা করা এবং অর্থ জোগাড়ের দুশ্চিন্তায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইজডের শিকার হয়েছেন ইমারতের সহধর্মিণী।

ছেলে আশরাফুল ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে, বিনা চিকিৎসায় প্রায় প্রতিবন্ধিতার দিকে ধাবমান। মেয়ে পিনজিরা ১০ম শ্রেণি বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে, ভাবছে লেখাপড়া ছেড়ে সংসারের হাল ধরবে।

এমতাবস্থায় কী করতে পারি আমরা, কী করতে পারে NUDS-সংগঠন, কী করতে পারে সমাজ, কী করতে পারে সরকার, এটাই এখন প্রশ্ন? NUDS এনইউড্-এর সাহায্যে এখন যে বিষয়গুলো আমি দূর পরবাস থেকে আশা করছি তা হলো : কীভাবে পিনজিরার পরিবার এখন স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাহায্যে পেতে পারে যেমন, পিনজিরার দাদা-দাদির জন্য বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করা, উপজেলার ইউএনও সাহেব কি সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করতে পারবেন বসতবাড়ির জন্য? যতটুকু জানি লেখাপড়া দেশে ফ্রি। তারপরও পিনজিরা এবং তার ভাইয়ের যেন পড়াশোনার ব্যাঘাত না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারি অনুদান পেতে বিভিন্ন জায়গায় লেখালিখি করতে হবে তার জন্য কে সময় দিতে পারবে?

আমি চেষ্টা করছি সরকারকে বিষয়টি অবগতি করতে। যারা অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্বে সরকারের হয়ে জনগণের অর্থে বেতন ভুক্ত, যারা জনগণের দায়ভার নেয়ার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ আছে, তারা কী করছে? তাদের কিছু না করার পেছনে কারণ কী? এবং কীভাবে সরকারকে যুক্ত করা যায় এ কাজে? সর্বোপরি কীভাবে সরকার এবং প্রশাসনের সাহায্য পেতে পারি পিনজিরাদের জন্য।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড