• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা রোধে সচেতন হোন, প্লিজ!

১৯ মার্চ ২০২০, ১৪:১৭
করোনা ভাইরাস
ফাইল ছবি

করোনা ভাইরাস থেকে আমাদের প্রত্যেককে, প্রত্যেকের পরিবারকে রক্ষা করুন আল্লাহ। আক্রান্তদের শেফা দিন, এ ভাইরাসকে পৃথিবী থেকে তুলে নিন, রহমানের নিকট এই প্রার্থনা করে এই লেখা শুরু করছি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত দেশে ১৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। প্রত্যেকদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তরা হচ্ছেন বিদেশফেরত ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। উন্নত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এ বিষয়ে তাদের জনগণকে সচেতন করতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন, বিভিন্ন দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার। আমরা এখনও সচেতন হচ্ছি না। সিরিয়াস হচ্ছি না।

এই মুহূর্তে প্রত্যেকে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের জন্য সচেতন হওয়া উচিত। প্রয়োজন ব্যতীত বাসার বাহিরে বের হবেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বা খাবারের জন্য ছাড়া অন্য কিছুর জন্য এখন মার্কেটে ভিড় করবেন না। গতকালও ঢাকার নিউমার্কেটে প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করেছি। আপাতত প্রত্যেকে নিজের জন্য হলেও এসব বিষয়ে অপরকে সচেতন করুন।

যাদের অফিস এখনও বন্ধ হয়নি বা বন্ধ দেয়নি। বাধ্য হয়ে বের হচ্ছেন। তারা ব্যাগে বা পকেটে হেক্সিসলের মিনি বোতলটা রাখুন। দাম মাত্র ৪১ টাকা। ওষুধ দোকানে পাবেন, না হয় সুপার শপগুলোতে এটা এভেইলএবল দেখেছি। এটা পরিবহন থেকে নামার পর হাতে মেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত উভয় হাত ঘষতে থাকুন, এতে কার্যকরভাবে জীবাণুমুক্ত হয়। টাকা ধরার পর বা বাহিরের যে কোনো দ্রব্য ধরার পর এটা ব্যবহার করুন। কর্মস্থলে প্রবেশের মুহূর্তে এটা ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, নাকে-মুখে হাত দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই এটা ব্যবহার করে ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। নাক-মুখ-চোখের মাধ্যমে এ ভাইরাস সংক্রমণ হয় বেশি, তাই বিষয়টা মাথায় রাখবেন। এজন্য বাহিরে বের হলে মাস্ক পরে বের হোন। ভুলেও এসব করতে ভুল করবেন না।

এছাড়া যত্রতত্র থুতু ফেলবেন না, এ সময়টাতে অন্তত এটা পরিহার করি। চিকিৎসকরা জানিয়েছে মুখের থুতুর মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায় বেশি। এছাড়া বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে- নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ভাইরাস বাতাসে কয়েক ঘণ্টা এবং কোনো কিছুর ওপর কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি গুরুতর পর্যায়ে যায়নি, স্বাভাবিক আছে ভেবে অবহেলা করবেন না। আমরা গুজব ছড়াতে ভালো পারি, এটা জানা কথা। এ বিষয়ে গুজব বা মজা করা থেকে আসুন প্রত্যেকে বিরত থাকি, সিরিয়াস হই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, তা মেনে চলি।

আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনের ক্ষেত্রে আপনারা নিশ্চিত করুন যেন তারা অন্তত ১৪ দিন বাড়িতেই থাকেন। তারা বাইরে বেরিয়ে এলে আপনারা বাড়িতে থাকার কথা মনে করিয়ে দিন। কারণ বাংলাদেশে ভাইরাসে আক্রান্তরা বেশিরভাগ বিদেশফেরত।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে এই সময়টাতে সবাইকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অর্থাৎ বাড়িতে একা থাকতে হবে, কারও সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে না। একসঙ্গে কোথাও ৫০ জনের বেশি একত্রিত হওয়ায় নিষেধের কথা বলা হলেও দেশে বিষয়টা এখনো মানা হচ্ছে না। এসব কারণে আগামী দিনগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে এমন আশঙ্কা।

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত করোনা ভাইরাসের প্রধান লক্ষণ। এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া করোনার উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে বিশ্বে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ৯৬১ জনে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৫ হাজার ৬৭৩ জন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়াও বিশ্বের মোট ১৭৩টি দেশে মরণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া ঝুঁকিতে আছে আরও অনেক দেশ। এতে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। যাদের মধ্যে ইতালি, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

করোনা নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করুন। ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ওডি/এএস

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড