• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাদকের ভয়াল থাবা

  মাহবুব নাহিদ

১৮ মার্চ ২০২০, ২১:৪৪
মাদক
একটি পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য মাদকই যথেষ্ট (ছবি : সংগৃহীত)

সিগারেট থেকে শুরু, শেষ কালে হেরোইন। একটি জাতি ও পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য মাদকই যথেষ্ট। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ধূমপান কিংবা মাদকের হাতেখড়ি হয় বন্ধুদের মাধ্যমে। পারিবারিক খেয়ালের অভাব আর এলোমেলো জীবনযাপনও মাদকে জড়িত হবার কারণ।

দেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাদকের বিরূদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী অনেক সংগঠন অবস্থান নিচ্ছে। আসলে এর ফলাফল আসছে কি?  

একটি সিগারেটের ধোঁয়ায় ১৫ বিলিয়ন পদার্থের অনু থাকে যা সব মানুষের জন্য ক্ষতিকর। একটি সিগারেটের ফলে একজন ধূমপায়ীর ৫ দশমিক ৫ মিনিট আয়ু কমে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। হৃদরোগের মতো জটিল রোগ হয়। বিশ্বে প্রতি বছর ১০ লাখ লোক ধূমপানের কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। ফুসফুস ক্যানসারে যত মানুষ মারা যায় তাদের ৮৫ জন ধূমপায়ী। 

ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ ধূমপায়ীদের স্বাভাবিক অসুখ। প্রতি বছর ৫০ লাখ লোক অর্থাৎ ৬ দশমিক ৫ সেকেন্ডে ১ জন প্রাণ হারায়। এছাড়া হাড় ও দাঁতের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতিসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে। সিগারেটের পরে যুব সমাজ ধ্বংসের আরেক মাধ্যম ইয়াবা। এটি সেবনে কিডনি, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাময়িক যৌন উত্তেজনা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে যৌনক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এছাড়া ইয়াবার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়।

অপরদিকে মদ্যপানে লিভার সিরোসিস থেকে শুরু করে কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন অনেকে। ডব্লিউএইচও-এর রিপোর্ট বলছে, ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।
এক সময় প্রধান মাদক ছিল ফেনসিডিল। ইয়াবা আসার পর ফেনসিডিলের ব্যবহার কিছুটা কমেছে। এটি খাওয়ার কারণে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। ইয়াবার মতো ফেনসিডিলও যৌনক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এছাড়া শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাঁজা অন্যতম একটি মাদকের নাম। এটি রক্তবাহী ধমনি-শিরা ও মস্তিষ্কে ক্ষতি করে। এটি সেবনে টেস্টিকুলার ডিজঅর্ডারের ঝুঁকি থাকে। এ মাদক স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে একই সঙ্গে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয়।
মাদক কারবারিরা আড়ালে নয়, আমাদের সামনেই রয়েছে। চাইলেই তাদের এ সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে পারি। একই সঙ্গে মাদক প্রতিরোধে সমাজের সব মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

লেখক : মাহবুব নাহিদ

ওডি/এসএ 

মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্ত মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড