• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা

  মোহাম্মদ মোতাহের বিল্লা

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:০৫
মোতাহের বিল্লা
মোহাম্মদ মোতাহের বিল্লা (ছবি : সংগৃহীত)

আজকের শিশু আগামী দিনের দেশের কর্ণধার। তাই সেই শিশুকে হতে হবে সুস্থ-সবল প্রাণবন্ত ও মেধাবী। সুস্থ-সবল শিশুই পারে সুস্থ জাতি উপহার দিতে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সকল শিশু সুস্থ-সবল হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। কিছু কিছু শিশু জন্ম গ্রহণের সময় বা জন্মগ্রহণের কিছুদিন পরই বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রায় ৩ শতাংশ শিশু সুস্থ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে না যা একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তার মধ্যে কিছু কিছু শিশু স্বাভাবিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যাদের যথাসময়ে সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা যায়। তাই এই ব্যাপারে পরিবার ও রাষ্ট্রের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের এই সকল শিশুদের সাথে মানবিক ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রদর্শন করতে হবে এবং সমস্যা কাটিয়ে তোলার জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে সহায়তা করতে হবে। তাদের মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে তারা আমাদের সন্তান এবং তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আমাদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের হাসিখুশি রাখা এবং যে বিষয়ে তাদের মেধা বিকাশের লক্ষণ দেখা যায় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনোক্রমেই এই সকল শিশুদের অবহেলা, অশ্রদ্ধা ও উদাসীনতা প্রদান অন্যায় আচরণ বলে বিবেচিত হবে - যা কাম্য নয়। সমস্যাগ্রস্ত এই সকল শিশুদের প্রতি আমাদের যত্নশীল হতে হবে। রাষ্ট্রকে শিশুদের পরিবার ও সমাজে সম্মানের সহিত বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রকে এই সকল শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অল্প খরচে এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থা করে চিকিৎসার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এই সকল শিশুদের প্রতি আমাদের অমানবিক মনোভাব দূর করতে হবে।

অটিজম : অটিজম কোনো রোগ নয়। অটিজম স্নায়ুজনিত বিশৃঙ্খলার কারণে শিশুর একটি অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অটিজম আক্রান্ত অধিকাংশ শিশু মেধা বিকাশের সুযোগ রয়েছে। সেজন্য তাদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে এবং যে বিষয়ে তার পারদর্শিতার লক্ষণ দেখা যায় সে ব্যাপারে মেধা বিকাশে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বে যারা আজ স্মরণীয় তাদের অনেকেই অটিজমে আক্রান্ত। কিন্তু পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সুদৃষ্টি থাকায় তারা আজ বিশ্ববরেণ্য। অরবার্ড আইনস্টাইন, নিউটন ও জনজন্টিরোডস তারা অটিস্টিক। কিন্তু পরিবারের সুদৃষ্টি ও তাদের পরিচর্যার কারণে তারা সেই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পেরেছে। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং অভিভাবকদের এই ব্যাপারে সাহায্য ও সচেতনতা পরামর্শ প্রদান করতে হবে।

চোখের সমস্যা : চোখের সমস্যা শিশুর সুস্বাস্থ্য জীবনের জন্য অন্যতম প্রধান বাধা। জন্মের পর বিদ্যালয়ে প্রবেশের পূর্বে প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু যথাসময়ে কার্যকরী চিকিৎসা নিলে তা সুস্থ করে তোলা যায়। এ সকল শিশুদের শৈশবে চিকিৎসা না করালে ভবিষ্যতে তা তাদের জীবনের অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই শিক্ষকদের ও অভিভাবকদের এই ব্যাপারে সচেতন ও সময়মত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করে চশমা ব্যবহারে এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

কানের সমস্যা : অনেক শিশু কানের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ফলে তারা সঠিক সময়ে কথা বলতে পারে না। পরিবারের সদস্যরা এই সকল সমস্যা দেখলে বা বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এই সমস্যা পর্যবেক্ষণ করলে দ্রুত অভিভাবককে অবহিত করে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। ফলে শিশুকে কানের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সুস্থ শিশু হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

ওজন ও উচ্চতা সমস্যা : আমাদের দেশে অনেক শিশু জন্মের সময় কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু শিশুর এই সমস্যা শৈশবে চিহ্নিত হলে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

কথায় জড়তা : কথায় জড়তা শিশুর একটি সমস্যা। শৈশবেই কথা বলার এই সমস্যা উপলব্ধি করতে পারলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। স্পিস থেরাপিসহ অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুদের এই সমস্যা সমাধান করা যায়। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের তাদের সহিত বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে এবং আনন্দ প্রদান করে তাদের কথা বলার সাবলীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে হবে।

অতএব শিশুরা একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিয়ে মানব সম্পদে পরিণত করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা সম্ভব। তাই রাষ্ট্রসহ সকলকে শিশুর কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক : মোহাম্মদ মোতাহের বিল্লা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মৌলভীবাজার সদর

ওডি/এসএইচএস

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড