• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চলে গেছে বুলবুল, চিহ্ন রেখে গেছে

  মাহবুব নাহিদ

১১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৬
বুলবুল
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া গাছ কাটছেন ক্ষতিগ্রস্তরা (ছবি : অধিকার)

কিছু কিছু দুর্যোগ থাকে যা মোকাবেলা করা যায় না। যাকে আটকে রাখা যায় না। এর ক্ষতি অনিবার্য, শুধু যতটুকু সম্ভব নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়া যায়। ঘূর্ণিঝড় এমনই একটি দুর্যোগ যা প্রতিহত করা যাবে না। এর থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকা যায় সেটাই স্বার্থকতা। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড়-প্রবণ দেশ হয়ে গেছে বলে বলা যায়। কারণ আমাদের দেশে ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় বা ঘূর্ণিবাত্যা হল ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচণ্ড ঘূর্ণি বাতাস সম্বলিত আবহাওয়ার একটি নিম্ন-চাপ প্রক্রিয়া যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। এই ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে।

ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে।

তবে ইদানীংকালে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা খুব বেশি দেখা যাচ্ছ। বিশেষজ্ঞরা বলছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ। পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ঘূর্ণিঝড় বেশি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে উপকূলীয় দেশ বা এলাকাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আমরা এবং আমাদের পাশের দেশ ভারত প্রায়ই এই দুর্যোগের কবলে। আমরা একই বছর বড় দুইটি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছি। গত কয়েক মাস আগেই ঘটে গেলো ঘূর্ণিঝড় ফণী। ফণীর পরে এখন আসলো বুলবুল। এই বুলবুল ঘূর্ণিঝড়টি অন্য ঘূর্ণিঝড়ের মতো একই ধরনের নয়। ঝড়ের ধরণ ও নানান কারণে এই ঘূর্ণিঝড় অন্যদের চেয়ে আলাদা। ব্যতিক্রমী চরিত্রের এমন ঘূর্ণিঝড় সর্বশেষ ১৯৬০ সালের পর দ্বিতীয়বার জন্ম নিলো।

মূলত বুলবুলের সৃষ্টি অন্য আরেকটি ঘূর্ণিঝড় থেকে। গত ২৪ অক্টোবর ফিলিপাইন সাগরে জন্ম নেয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মাতমো’ পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ চীন সাগরে এসে বড় ঝড়ের আকার ধারণ করে। এর আগে ফিলিপাইনে প্রচুর বৃষ্টি এবং বন্যা ঘটায় এটি। ঘূর্ণিঝড়ের চরিত্র অনুযায়ী ‘মাতমো’ এরপর পশ্চিম বরাবর এগোতে থাকে।

শনিবার ভোররাত থেকে আঘাত হেনেছে আমাদের বাংলাদেশে৷ মূলত কোনো একটা দুর্যোগের তিন ধরনের ব্যবস্থা থাকে-দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থা। আমরা হয়তো চেষ্টা করেছি সবাইকে এলার্ম করার, নিরাপদে সরিয়ে আনার। তবে সব জায়গায় তা সম্ভব হবেনা এটাই সত্যি৷ এক্ষেত্রে আমাদেরও গাফেলতি রয়েছে। আর সবচেয়ে দুঃখের বিষয় অনেকেই হাসি তামাশা করছে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে। নাম নিয়ে মজা করছে। অনেকেই ফেসবুকে এই আবহাওয়ায় খাওয়া দাওয়া করা নিয়ে উত্তেজনা দেখিয়েছে। দুর্যোগের সময় এসব যে কীভাবে মাথায় আসে তা আসলেই অবাক করার মতো বিষয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৎপরতা ইতিবাচক মনে হয়েছে। মিডিয়াগুলোও মানুষকে সচেতন করার জন্য ভালো কাজ করেছে। দুর্যোগকালীন তেমন কিছুই করার থাকে না। নিজেকে নিরাপদ রাখাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরবর্তী কাজ করা।

একটা দুর্যোগ শেষ হয়ে গেলে নানান ধরনের সমস্যা দেখা যায়। প্রথম সমস্যা হচ্ছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। কারণ অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। তাদের ভিটেমাটি পুনর্গঠন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে খাদ্য ও নিরাপদ পানি। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ত্রাণ যাতে করে সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর দেখা যাবে রোগবালাইয়ে বিষয়গুলো। নানান ধরনের রোগশোকে পড়বে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকার মানুষেরা। বিশেষ করে নানান ধরনের পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। তাই চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ঔষধের ব্যবস্থা রাখতে হবে। খাদ্য-সামগ্রী ও ঔষধ সরবরাহের ক্ষেত্রে শুধুই সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। এগিয়ে আসতে হবে পুরো দেশকে। 

বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে কৃষকেরা। কিছুদিন পরেই আমন ধান ওঠার সময়। ফসল প্রায় পাকার সময় এসে গেছে। এই মুহূর্তে এই ধরনের দুর্যোগ নিশ্চিত ফসলের ক্ষতি করবে। তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি ভাবতে হবে কৃষি মন্ত্রণালয়কে।

দুর্যোগ আসবে আবার চলেও যাবে। আমাদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে যে আমরা সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখবো। স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসবে পুরো দেশ।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড