• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বৈশ্বিক জলবায়ু হুমকির মুখে

  মাহবুব নাহিদ

১০ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫১
পদ্মা সেতু
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট নিরসনের প্রক্রিয়ায়  বড় একটা ধাক্কা লাগলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অবশ্যই একটা বড় বিষয়।

ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী একটা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত পুরো বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্নভাবে ঘটতে পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব বর্তমানে আমাদের ভোগাচ্ছে। জৈবিক কোনো কারণে, পৃথিবীর বিকিরণের পরিবর্তনের জন্য কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হবার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু প্রাকৃতিক সমস্যাই দায়ী নয়। মানুষসৃষ্ট বিভিন্ন কারণেও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে থাকে। বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে দেখা যায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে মানবসৃষ্ট কারণগুলোও অনেক প্রভাব ফেলছে। ক্রমাগত বৃক্ষ নিধন, কার্বন নিঃসরণ, বর্জ্য পদার্থ পরিবেশে অপসারণ সহ নানা ধরণের কাজ আমরা করে থাকি যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কিন্তু বিশ্ব জলবায়ু রক্ষায় তাদের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। বর্তমানে যে হারে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে তাতে করে ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩-৩.৫ ডিগ্রী বৃদ্ধি পেতে পারে। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবে বিশ্বে মারা গেছে ৫ লাখের বেশি মানুষ। অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আবহাওয়া বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ১১ হাজার।সবকিছু একইভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ খরচ বেড়ে দাঁড়াবে তিনগুণ আর ২০৫০ সালে খরচ বেড়ে যাবে ৫ গুণ।

২০১৬ সালে প্যারিস চুক্তিতে সাক্ষর করে বিশ্বের ১৮৭ টি দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি কেউই। যদিও তিনি "কয়লার বিরুদ্ধে যুদ্ধ" ও "কর্মসংস্থান ধ্বংসকারী ব্যবস্থা বন্ধ" নামক দুটি বিষয়ের উপর জোর দেন। কিন্তু এসবের কিছুই পালে হাওয়া পায়নি।

আর সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নিয়েছে। যদিও গত গত জুলাই মাসেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু নিশ্চিত করলেন এই বৃহস্পতিবার। অবশ্য ট্রাম্পের মতো মানুষের কাছ থেকে এর চেয়ে ভাল আশাও করা যায় না।

ট্রাম্পের দেখাদেখি তারই অনুসারী ব্রাজিলের জায়ার বালসানারো নেমেছেন পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন ধ্বংসের মিশনে। তার বার্গার অর্থনীতি দিনদিন ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাজনকে। 

এদিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমালয় পর্বতের বরফ সহ গলতে শুরু করেছে বিভিন্ন জায়গার বরফ। এসব বরফ গলার ফলে বেড়ে যাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বন্যায় আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। 

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভালভাবেই টের পাচ্ছে বাংলাদেশও। একটি দেশে মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। আমাদের এখন রয়েছে ১০ ভাগের কিছু বেশি। পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় প্রথম দিকেই নাম বাংলাদেশের। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বর্ষাকালীন বন্যা আর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়। সিডর, আয়ালা, মহাসেন, রোয়ানু সহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় এসে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে আমাদের উপকূল। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে বাড়তে এখন বিপদসীমার মধ্যে আছি আমরা। বিজ্ঞানীদের আশংকা এই শতাব্দীর মধ্যেই সমুদ্রগর্ভে চলে যেতে পারে বাংলাদেশের উপকূলীয় এক-তৃতীয়াংশ ভূমি। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের কৃষিব্যবস্থা। 

পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে প্রায়ই ধ্বসে পড়ে পাহাড়।এই কারণে প্রাণ হারাচ্ছে বহু মানুষ। 

জলবায়ু পরিবর্তন শুধুমাত্র আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিশ্বব্যাপী গড়ে তুলত হবে ঐক্যমত। সবাই এক হয়ে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে যেসব সংগঠন কাজ করছে তাদের এক পতাকার তলে আনতে হবে। শুধুমাত্র ভাষণ দেয়া বা মিডিয়ায় আসার জন্য নয়, কাজ করতে হবে কার্যকরভাবে। 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড