• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অবশেষে দিল্লিতে এসে ভারত জয়

  মাহবুব নাহিদ

০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৩৮
টাইগাররা
উল্লাসে টাইগাররা (ছবি : সংগৃহীত)

আক্ষেপের গল্পটা আরও তিন বছর আগের। প্রতিপক্ষ একই ছিল, খেলা অনুষ্ঠিত হবার দেশও ছিল এক। সেই গল্পের চরিত্র একই। কিন্তু সেদিন যিনি ছিলেন খলনায়ক তিনিই আজ হয়ে গেলেন নায়ক। 

লোকটার নাম মুশফিকুর রহিম। তিন বছর আগে ভারতের সাথে ৩ বলে ২ রান নিতে পারেননি মুশফিক আর রিয়াদ। বিধাতার কী দারুণ পুরস্কার! তাদের হাতেই আজ তিনি রচিত করলেন ভারত বধের ইতিহাস, তাও আবার প্রথমবারের মতো।

ভারত বধের গল্পটা যখন আমাদের শুনতে হবে ঠিক তখনই আমাদের সামনে ছিল এক করুণ সত্য। বাংলাদেশের কোটি মানুষ মেনে নিতে না পারলেও মানতে তো হয়েছে যে সাকিব আল হাসান আগামী এক বছর ব্যাট-বল ধরছে না। তাই এই জয়টা যে সাকিবের জন্যই প্রাপ্য ছিল। খেলোয়াড়রা সাকিবকে উৎসর্গ করেছে জয়টা। সাথে বাংলাদেশের ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। সাকিব-তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ দল ভাবাই কঠিন। তাই ভারত যে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়া নেমেছে বলে হেরেছে তা বলার কোনোই অবকাশ নেই। মাঠে খেলায় এগারোজনই থাকে। সবাই আইপিলের সেরা সেরা খেলোয়াড়। 

কাল ম্যাচের প্রথম থেকেই মনে হচ্ছিল ম্যাচটা আজ বাংলাদেশের। বাংলাদেশ প্রথম দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ম্যাচে। বোলিং লাইনে বিভিন্ন পরিবর্তন এনে মাহমুদুল্লাহ বিরক্ত করে ফেলেছেন ভারতের ব্যাটিং লাইনকে। এখানে তার অধিনায়কত্বের প্রশংসা না করলে সেটা আসলেই অন্যায় হয়ে যাবে। তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন, মুস্তাফিজুরকে না বল করিয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সামনে আল আমিন ও শফিউলকে করাচ্ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল ঠিকই কিন্তু হিতে বিপরীত হলে তাকে অবশ্যই কথা শুনতে হতো।

ভারতের সাথে নবম টি টুয়েন্টিতে এসে আমরা প্রথম জয়লাভ করলাম। এর আগের সব ম্যাচই আমরা হেরেছি। যার মধ্যে কয়েকটি ম্যাচ খুব কাছাকাছি গিয়েও হেরেছি। তাই আক্ষেপটা অনেক পুরনো দিনের ছিল। মুশফিক ত্রাতা হয়ে জেতালেন দলকে। বেঙ্গালুরুর দুঃখ ভুলে দিল্লি জয় করলেন টাইগার বাহিনী।

সৌম্য রান করেছে এটা অনেক ভালো একটা দিক ছিল। ভাল করেছে নতুন খেলতে নামা নাঈমও। বোলিংয়ে সবাই ভালো করেছে আর বিশেষ করে আফিফের ক্যাচটা যেন বাংলাদেশের একটা বাড়তি পাওয়া। এটা আসলেই খুব ভালো লক্ষণ।

ভারত হয়তো বাংলাদেশকে একটু হালকাভাবেই নিয়েছিল। বড় প্লেয়ার না থাকায় আমরা হয়তো লড়াই করতে পারব না। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিলাম, আমাদের দিনে আমরাই সেরা।
মাঠ তোমার, দর্শক তোমার কিন্তু বুক চিতিয়ে লড়াই করার শক্তিটা বেশি আমার! জয়ের দেখা এখন আমরা পেয়ে গেছি। এই ধারা প্রবাহমান থাকবে। জেতার অভ্যাস যখন হয়েই গেছে জিততে আমরা আরও পারব। আর বিশ্ববাসীও এখন ভারতের সাথে বাংলাদেশের খেলাকে একটা দ্বৈরথ হিসেবেই দেখবে।
 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড