• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘কেমন চাই আমাদের আগামীর পাবিপ্রবি’

  নাজমুল ইসলাম আবির, পাবিপ্রবি প্রতিনিধি ০১ জুন ২০১৯, ১০:৪৬

পাবিপ্রবি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (ছবি : সংগৃহীত)

২০০৮ সালের ৫ জুন যাত্রা শুরু করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (পাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রাক্কালে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ‘কেমন চাই আমাদের আগামীর পাবিপ্রবি’ শিরোনামের ধারাবাহিক পর্বে।

প্রথম পর্বে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দৈনিক অধিকারের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নাজমুল ইসলামের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরলেন পাবিপ্রবির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুন্নবী রাতুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের সাজিদুর রহমান সিয়াম ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস কবিতা।

রাশেদুন্নবী রাতুল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ :

একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এমন একটি জায়গা যেখানে প্রতিনিয়ত হাজার স্বপ্ন ঘুরে বেড়ায় আর প্রতিটি স্বপ্নের পেছনে জড়িয়ে থাকে পরিবারের বাকি কয়েকটি সদস্যের স্বপ্ন। আর সবগুলো স্বপ্ন এক করে স্বপ্ন দেখে একটি দেশ, একটি জাতি। পাবিপ্রবির এগার বছর পূর্তিতে আমার নিজের কিছু মতামত রয়েছে সামনের দিনগুলোতে যেমনটা দেখতে চাই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে।

প্রথমত সময়ের থেকে মূল্যবান কিছু নেই, তবে পাবিপ্রবির ক্ষেত্রে এই ধ্রুব সত্য নামে জানা থাকলেও কাজে খুব একটা প্রকাশ পায় না। আগামীতে আমরা সেশনজট মুক্ত একটা একটা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পাবিপ্রবিকে দেখতে চাই।

নতুন গৃহীত সকল নিয়ম নীতিমালাগুলো যেন শিক্ষার্থী বান্ধব হয়, সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা যেন করা হয় পাবিপ্রবিতে, অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার জন্য ছাত্রসংসদ প্রয়োজন যার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা সহজ হবে।

সকলের অংশগ্রহণমূলক, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিতামূলক পাবিপ্রবিকে দেখতে চাই আগামীতে যাতে পরিকল্পিত দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বর্তমান এবং ভবিষ্যত সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করা যায়।

শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে নতুন নতুন আবিষ্কার বা গবেষণাপত্র প্রকাশ করার প্রতি সকলকে উৎসাহিত করতে হবে। সর্বোপরি পাবিপ্রবিকে দেশ এবং বিশ্বের সামনে একটি আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে আমাদের পাবিপ্রবির অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে, প্রতিযোগিতাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদান ও সহযোগিতা করতে হবে।

শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে, এ ব্যাপারে সার্বিক সহায়তা ও উৎসাহ দিতে হবে যা শিক্ষার্থীদের মানসিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, মাদক থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। মূলধারার সংস্কৃতির চর্চার দিকে বেশি জোর দিতে হবে।

দেশের ভেতরে এবং বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের মাধ্যমে মান বাড়বে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের তথা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক, অভিভাবক ও সন্তানের সম্পর্ক, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করতে হবে যার মাধ্যমে দেশজ মূল্যবোধ গড়ে উঠবে সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই পাবিপ্রবিকে। আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে পাবিপ্রবিকে অগ্রণী হিসেবে দেখতে চাই।

সাজিদুর রহমান সিয়াম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ :

আমার পরিচয়ের মাধ্যম আমার প্রাণের পাবিপ্রবিকে আগামীতে এমন একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই যেটা অন্যান্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুকরণীয় হবে। এ জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নটা সবার আগে প্রয়োজন তাই খুব দ্রুত ২য় ধাপের বাজেটের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। অবকাঠামো উন্নয়ন এর সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক এবং এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম গতিশীল করতে হবে এটাই প্রত্যাশা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় ভালো করার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। সর্বপরি ছাত্র, শিক্ষক,কর্মচারী সকলের মধ্য একটা সুসম্পর্ক এবং একত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে এই প্রত্যাশা করি।

জান্নাতুল ফেরদৌস কবিতা, ইংরেজি বিভাগ :

বাল্যকালকে ছাপিয়ে ধীরে ধীরে কৈশোরের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের ভালোবাসার পাবিপ্রবি। ইতোমধ্যেই সে বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণ করেছে নিজের কর্তৃত্ব, দেখিয়েছে তার গৌরব আর নিজেকে সর্বসম্মুখে মেলে ধরেছে কৈশোরের প্রাণবন্ত, উচ্ছলতা, আর দৃঢ়পায়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা পাবিপ্রবিকে নিয়ে বেশ কিছু স্বপ্ন এঁকে বসে আছি। পৌঢ় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় নবজাতক হিসেবে পাবিপ্রবির সাধারণ সমস্যাগুলো সমাধানের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হওয়ার স্বপ্ন দেখি আমরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা, ভবনসমূহ, এবং সর্বোপরি জনসম্পদের বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কল্যাণকর বিষয়ে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের শতভাগ নিশ্চিতকরণের স্বপ্ন দেখি আমরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ, অন্যবদ্য আবিষ্কারসহ পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা যেভাবে নিজেদের সারাদেশের দৃষ্টি কেড়েছে, সেই গতিকে পরিপূর্ণতা দান করে পাবিপ্রবি অদূর ভবিষ্যতে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের সম্মান অর্জন করবে এই স্বপ্নে প্রতি মুহূর্তে আমরা আচ্ছাদিত, বিমোহিত, বিভোর!

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"পাবিপ্রবি".*')) AND id<>66520 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড