• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

শিশুর কাঁধে বইয়ের বোঝা

  মো. রাকিবুল হাসান তামিম, ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি

২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৫১
বইয়ের বোঝা
ছবি : প্রতীকী (ইনসেটে লেখক মো. রাকিবুল হাসান তামিম)

নতুন বছরে নতুন শ্রেণিতে নতুন বই পেতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর চোখে মুখে থাকে আনন্দের ঝিলিক। নতুন বইয়ের পাতার গন্ধটা তার প্রেরণা হয়ে আস্থার জোগান দেয়। এক্ষেত্রে ছোট বাচ্চা বা প্রাইমারি স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের আনন্দ, উৎসাহ- উদ্দীপনা থাকে চোখে পড়ার মতো। বছরের প্রথম দিন বেশ ঘটা করে বই উৎসব পালনের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক বিনা মূল্যের পাঠ্যবই সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে সরকার বিনা মূল্যে নতুন বই তুলে দিলেও বাড়তি বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে অভিভাবকরা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্ধারিত বই ছাড়াও অভিভাবকদের হাতে বাড়তি বইয়ের তালিকা তুলে দিচ্ছে বেসরকারি স্কুলগুলো। যার কারণে এক প্রকার বাধ্য হয়েই বইয়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছে অভিভাবকরা। এতে স্বল্প আয়ের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অতিরিক্ত বই কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শিশুর চেয়ে স্কুলের ব্যাগের ওজন বেশি। শিশুর কাঁধে বই খাতার বোঝা কমাতে হবে। কেজি স্কুলে চার বছর লাগে ক্লাস ওয়ানে উঠতে। পৃথিবীর কোথাও এ সিস্টেম নেই। এ সিস্টেমের অবসান হওয়া প্রয়োজন।

সরকার বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করলেও অভিভাবকদের জোড় করে অতিরিক্ত বই কিনতে বাধ্য করছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে শিশুদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা। এতে করে মানসিকভাবে ব্যাপক চাপ এবং শারীরিকভাবেও ছোট ছোট বাচ্চারা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এখনকার শিশুদের স্কুলের বই-খাতার বিশাল ব্যাগ বহন করতে হয়। অনেক স্কুলে কেবল দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণিতেই থাকে ৮-১০টি করে বই। যদিও এনসিটিবি অনুমোদিত ও বিনা মূল্যে বিতরণ হওয়া বই ছাড়া শিশুদের কাঁধে অন্য কোনো সহায়ক বইয়ের বোঝা না চাপাতে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন।

অথচ এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষেধ করে সুনির্দিষ্ট একটি আইন প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

সরকারের বিভিন্ন মহলের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও কোনোভাবেই যেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা। এতে করে একদিকে যেমন শারীরিকভাবে সমস্যাগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি মানসিকভাবেও চাপের মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আখতারাবানু বললেন, ‘শিশুদের বই-খাতার চাপ কমিয়ে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে। শিশুর কাঁধে বইয়ের বোঝা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্তরায়। আর ছোট ছোট কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরাদের ওপর একদিকে ক্লাস, তারপর প্রাইভেট টিউটর, তারপর কোচিং কতকিছু যে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার কোনো ইয়াত্তা নেই।

অথচ এই বয়সে তার মুক্তমনে উড়ে যাবার কথা ছিল মুক্ত আকাশে, কিন্তু অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে হবে এমন ভাবনা থেকে কোমলমতি এ সকল শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রাণকে বদ্ধ করে দিচ্ছে।

আদালতের নির্দেশ কিংবা সরকারের নির্দেশনার জন্য বসে না থেকে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের বই-খাতার ভার লাঘবে উদ্যোগী হওয়া। বেসরকারি স্কুলের অ্যাসোসিয়েশনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে পারে। অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন ও সরব হওয়া দরকার। শিশুদের বাঁচাতে হলে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে, বোঝা কমাতে হবে। সেটা কীভাবে হবে তা খুঁজে বের করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তা বোঝাতে হবে। অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া দরকার। প্রত্যেকের যার যার অবস্থান থেকে অনুধাবন করা উচিত, শিশুর বইয়ের বোঝা আসলেই কমাতে হবে!’

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করতে চাই, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন তা পূরণে মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধে জাগ্রত প্রজন্ম চাই। নয়তো উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড