• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

আইনমনস্ক সমাজ চাই

  মোহাম্মদ জহিরুল হক ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৪৫

আইন
ছবি : প্রতীকী (ইনসেটে লেখক মোহাম্মদ জহিরুল হক)

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে যুগে যুগে অনেক নিয়ম নীতি সৃষ্টি করছে মানুষ। এই নিয়ম নীতিই আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনে এই আইন। আইন মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আইন মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে। তাই বলা যায় আইন মানে জীবন, জীবন মানে আইন।

আইন শিক্ষা মানুষকে চিন্তাশীল স্বভাবের করে, চিন্তার গভীরতা বাড়ায়, মননশীল ও মূল্যবোধ সম্পন্ন করে, সম্মানিত ও সমৃদ্ধশীল করে। আইন মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবনের অধিকারী করে। তাই ‘আইন পড়া জীবন একটি আলাদা জীবন’ বলেছিলেন সাবেক বিচারপতি মোস্তফা কামাল।

আইন হচ্ছে সচেতনতা, সাম্যতা, ন্যায় প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। আইন অসহায়ের সাহস, অন্যায়ের ফয়সালা। আইন সুন্দর, সম্মান ও ঐশ্বর্যময়। আইন করিতকর্মা, আইনের অজ্ঞতা কোনো অজুহাত নয়। তাই আইন সকলের জানতে হয়। যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ আইন শিক্ষা গ্রহণ করে তখন সমাজে আপনিই সচেতনতা বৃদ্ধি পায় ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। আইন বহুমাত্রিক। আইনের সঙ্গে সব বিষয় সম্পর্কিত।

বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম সবই সম্পর্কিত। তাই আইন মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি। একজন আইন বিশেষজ্ঞকে সবকিছু সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখতে হয় এবং কিছু বিষয় সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে হয়। তাই আইন পড়ুয়ারা সবকিছু সম্পর্কে ধারণা রাখে।

আইনের প্রবর্তক ও প্রয়োগকারী মানুষ হলেও আইন ভঙ্গ করে মানুষ নিজেই। মানুষ যখন সমাজের কল্যাণে আইনকে ব্যবহার না করে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে তখন আইনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম হচ্ছে নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ। মানুষ নিষিদ্ধ কাজ করতে গিয়ে আইন ভঙ্গ করে। তখন আইনের যথাযথ প্রয়োগ দরকার হয়। এভাবে আইন মানুষকে এই নিষিদ্ধ কাজ করতে বাধা দেয়। তাই আইনের প্রয়োগ যত ভালো হবে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

আইনের কঠোর প্রয়োগের চেয়ে আইনের নমনীয় প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। মানুষের অবচেতন মনে আইন মেনে চলার বিষয়টি প্রবেশ করতে হবে। আইন বলতে সাধারণ নিয়ম-নীতিকেও বুঝাতে হবে। ট্রাফিক আইনের মতো আইনগুলো মেনে চলা অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে শৃঙ্খলা চলে আসবে। শৃঙ্খলার অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করতে হবে যার বাইরে মানুষ যাবে না। গণশিক্ষা কার্যক্রমের মতো গণআইন শিক্ষা কার্যক্রম সরকারিভাবে পরিচালনা করতে হবে।

গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক পোগ্রাম আয়োজন করার পাশাপাশি জেলা উপজেলায় প্রতিষ্ঠানিক পোগ্রাম আয়োজন করতে হবে। আইন ভঙ্গের পর প্রতিকার দেওয়ার চেয়ে আগে থেকে প্রতিরোধ করা উত্তম। আইনকে বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখিয়ে, আইন মেনে চলাকে সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখাতে হবে। সর্বোপরি আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। আইনমনস্ক মানুষ তথা সমাজ তৈরি করতে হবে। আইনকে ভয়ের কারণ না বানিয়ে মানুষের সুরক্ষার ঢাল বানাতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড