• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

নিউজিল্যান্ডের ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটতো তবে... 

  অধিকার ডেস্ক    ১৬ মার্চ ২০১৯, ১০:১৯

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন মারা গেছেন
ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন মারা গেছেন; (ছবি : সংগৃহীত)

শান্তিময় দেশের তালিকাতে দুইয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে কালো দিন জন্ম নিয়েছে শুক্রবার (১৫ মার্চ)। ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে জুম্মা নামাজের সময় সন্ত্রাসীদের বন্দুক হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও এই ঘটনার শিকার হতে পারতো। ৪/৫ মিনিট আগে মসজিদে (আল নূর) পৌঁছালেই কেউই প্রানে বেঁচে ফিরতে পারতো না। অল্পের জন্য বেঁচে গেছে টাইগাররা।

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পাদপীঠ, শান্তির দেশ, নিরাপত্তার দেশ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এ ধরনের ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নজিরবিহীন। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী বন্দুক হামলার ঘটনাকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

ডিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আল নূর মসজিদে হামলা; (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশে কোনো বিদেশি দল খেলতে এলে যে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, বিদেশে গেলে বাংলাদেশ দল কেন একই নিরাপত্তা পাবে না? কেন এমন হয়? আবার এই একই ঘটনা (নিউজিল্যান্ড সন্ত্রাসী হামলা) যদি বাংলাদেশের মাটিতে ঘটতো তবে ফলাফল কী ঘটতো।

পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতো না। (কয়েক বছর আগে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে দেশটিতে যে আন্তর্জাতিক খেলা বন্ধ হয়েছে, এখনো সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না) বাহিরের কোনো দেশের ক্রিকেটাররা আসতে চাইতেন না! জঙ্গি দেশ বলেও হয়ত আখ্যা দেওয়া হতো! বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করতো ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞার দাবীও তুলতো অনেক কট্টরপন্থীরা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে এই ঘটনা হওয়ার পর কোনও ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গী হামলা; (ছবি : সংগৃহীত)

সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গী হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টিম অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিল। শুধু তাই নয় নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশে আসেনি কানাডার হকি দলও। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন হুমকির মুখে পড়েছিলে সে সময়। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখার জন্য আইসিসির কমিটিকেও বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল কয়েক দফায়। এবার পুরো বিশ্ব একই চিত্র দেখল নিউজিল্যান্ডে। এখন দেখার বিষয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ সন্ত্রাসী এই হামলার খবর আসার পর থেকেই উৎকণ্ঠায় ছিল গোটা বাংলাদেশ। কারণ এই শহরেই শনিবার (১৬ মার্চ) কিউইদের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামার কথা ছিল টাইগারদের।