• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

কৃষি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আবশ্যকীয় অংশীদার নারী

  ইফরান আল রাফি ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৮:৩১

প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে চালিকা শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কৃষি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কৃষি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য যার মধ্যে কৃষি ক্ষেত্র অন্যতম।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আদিকালে নারীর হাতেই কৃষির সূচনা ঘটে কিন্তু কালের পরিক্রমায় কৃষি কাজের কৃতিত্ব চলে যায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। বিগত দিনগুলোর তুলনায় বর্তমানে গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় সাংসারিক কাজের পাশাপাশি কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে নারী। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষিকে যেমন উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই তেমনি ভাবে নারীর অবদান অস্বীকার করারও কোন সুযোগ নেই।

ফসল বপন থেকে শুরু করে সংগ্রহ পর্যন্ত পুরুষের পাশাপাশি সমহারে রয়েছে নারীর অবদান। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হল বীজ বাছাই, সংরক্ষণ, অঙ্কুরোদগম বীজ শোধন, বীজতলায় বীজ বপন, চারা তোলা, চারা রোপণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ সর্বত্রই নারীর অবদান। এছাড়াও গবাদি পশুর দুধ দোহন, প্রসবকালীন যত্ন, গোয়ালঘর পরিষ্কার, হাঁস মুরগীর ডিম ফুটানো এবং অন্যান্য পরিচর্যাতেও নারীরা সরাসরি যুক্ত।

বর্তমানে কৃষি ভিত্তিক গ্রামীণ কুটির শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশের নারীরা দুমুঠো অন্ন পরিবারের সদস্যদের মুখে তুলে দেওয়ার জন্য জ্বালানি সংগ্রহ থেকে শুরু করে যাবতীয় সেবা দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এবং আমরণ আকুল থাকেন।

শহরের নারীদের কথায় আসা যাক। বর্তমানে শহরের বহুতল ভবনে শোভা পাচ্ছে ছাদ কৃষি যা পরিচর্যায় গুরু দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। যা পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। কৃষি গবেষণায় নারীর অবদান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বারি (BARI), বিনা (BINA), বিআরআরআই (BRRI), বিজেআরআই (BJRI), বিএফআরআই (BFRI), বিএলআরআই (BLRI) সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নারী কৃষি বিজ্ঞানীরা উন্নত জাতের ফসল, মৎস্য, গবাদিপশুর জাত উদ্ভাবনে নিরলস গবেষণা করে যাচ্ছে।

এক জরিপে দেখা যায়, মোট কৃষির ৪৫.৬ শতাংশে বিনামূল্যে শ্রম দেন নারীরা এবং ৫৪.৪ শতাংশে টাকার বিনিময়ে শ্রম কেনা হয়। অনেক সময় নারীদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এখনও দেশের কোনো কোনো জায়গায় গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় কৃষি নারী শ্রমিকদের মজুরি ধার্য করা হয় কয়েক সের চাল বা গমের বিনিময়ে যা কাম্য নয়। নারী শ্রমিকদের মজুরি পুরুষ শ্রমিকদের সমতুল্য করলে নারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।

নারী শ্রম শক্তির ৬৮ শতাংশ কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সাথে জড়িত। কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে কৃষি কাজে সবচেয়ে বেশী নারী নিয়োজিত রয়েছে। আশার কথা এই যে, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদানের লক্ষে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, কুটির শিল্প স্থাপনে ঋণ প্রদান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষকদের পাশাপাশি কৃষাণীদেরকেও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন উল্লেখযোগ্য। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে কৃষি নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়া দরকার যা দেশের জিডিপিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি বলা যায়, নারী কৃষি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আবশ্যকীয় অংশীদার।

লেখক: শিক্ষার্থী (কৃষি অনুষদ), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড