• মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

আমেরিকা : ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিতর্কিত দেয়াল

  অধিকার ডেস্ক    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৯

ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত এক প্রেসিডেন্টের নাম। তাকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত আলোচনা-সমালোচনা শুধুমাত্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলে নয় বরং তার অদ্ভুত এবং উদ্ভট ব্যক্তিত্বের কারণেই বলা চলে যা আমেরিকার অন্যান্য সাবেক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়নি। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন তথা নানান কনফ্লিক্টেড কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্ব সমাজে হাসির পাত্র ও সমালোচিত হয়েছে।

২০১৭ এর শেষার্ধ হতে ২০১৮ সালের পুরুটা সময়ই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার নারী কেলেঙ্কারী নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার করেছে সেই সাথে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ, ট্রাম্প ও ট্রাম্পের প্রশাসনের সমালোচনার নিমিত্তে মাইকেল উলফের "ফায়ার এন্ড ফিউরি" বই, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সাথে তার শিশুসুলভ আচরণ, আমেরিকা ও চীনের বানিজ্য যুদ্ধ এবং ইরান ও আমেরিকার বৈরী সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে ট্রাম্প ছিল বিশ্বরাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ট্রাম্পের কখনো সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, আবার পরমুহূর্তেই দেখা গেছে তাকে বিভিন্নরকম সমালোচনায় বিদ্ধ হতে। একসময়কার আমেরিকার মিত্র ইউরোপের কিছু দেশ ও মেক্সিকানদের সাথেও সম্পর্কের উত্থান-পতন দৃশ্যত হয়েছে। ২০১৮ সালের পুরোটা সময় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ লেগে ছিল এবং তা এখনও ভয়াবহরূপে বিদ্যমান। ফলে এতে কোনো পক্ষেরই সুবিধা কিংবা লাভ হয়নি। বরং বিশ্বের এই বড় দুই পরাশক্তির বাণিজ্য যুদ্ধে পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাম্পের কিছুটা সফলতা যদি বলি তাহলে সেটা হবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং তার ফলাফল এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক বলা যেতে পারে। যদিও শুরুর দিকে যুদ্ধের ধামামা বেজে ওঠেছিল। দুই দেশের জন্যই এটি বড় একটি কূটনৈতিক অগ্রগতি। আগামী ফেব্রুয়ারীতে পুনরায় ট্রাম্প-উনের বৈঠক শুভ কিছু হবে বলে আশা করছি।

বিভিন্ন সময় আমেরিকা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হতে হয়েছে। যার প্রতিবাদ তার দল রিপাবলিকান নেতারাই করেছে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী ইশতেহার রিপাবলিকান তথা গোটা আমেরিকাকে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যেগুলার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্প তথা আমেরিকানদের বিশ্ব রাজনীতিতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে ছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে বাহির হয়ে আসা, ওবামা কেয়ার বাতিল করে দেয়া, জেরুজালেমকে ইসরায়েল এর রাজধানী করা, অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের জিরো টলারেন্স নীতি, কিছু ইসলামী দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ। এই সকল নীতির ও প্রস্তাবের কারণে কালের পরিক্রমায় ট্রাম্প হয়েছে হাসির পাত্র এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বিশ্বের একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্রেটদের দ্বন্দ্ব এবং দেয়াল নির্মাণে কংগ্রেসে ডেমোক্রেটিক পার্টি ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দে রাজী না হওয়ায় অচলাবস্থা তথা শাটডাউন (কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম বন্ধ) শুরু হয়। টানা ৩৫ দিন অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে এক আইনে স্বাক্ষর করেন। এর আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাট ডাউনের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে তা এতদিন ধরে নয়।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় শাট ডাউন ছিল প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় (২১দিন)। তবে সেই রেকর্ড এইবার ট্রাম্পের আমলে ভেঙ্গে গেছে। শাট ডাউনের ফলে প্রথম দিকে জনগণের ক্ষোভের আঁচ না পেলেও ধীরে ধীরে দীর্ঘ উত্তাপ ছড়িয়ে পরে, কারণ ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটদের মুখোমুখি অবস্থান এবং ফেডারেল সরকারের এক চতুর্থাংশ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সৃষ্ট এ অচলাবস্থায় দেশের আট লাখের বেশি কর্মী বেতন পায়নি।

দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণ নিজ নিজ জায়গায় কংগ্রেস ডেমোক্রেট ও ট্রাম্পের এককাট্টা অবস্থান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ট্রাম্প কেন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করার জন্য এতো উদগ্রীব এবং এর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দ করতে অসুবিধা কোথায় কিংবা কংগ্রেস ডেমোক্রেটরাও কেনো তাদের জায়গায় অনড়? এসকল প্রশ্ন শুধুই কনক্রিটের দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তারচেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক ও নির্বাচন কেন্দ্রিক।

২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার্থে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করবে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় যদিও বলেছিল দেয়াল নির্মাণে যতো টাকা ব্যয় হবে তা বহন করবে মেক্সিকো সরকার নিজেই (built wall, mexico will pay for wall)। কিন্তু বরাবরের মতই মেক্সিকো কোন টাকা দিবে না বলে অস্বীকার করে আসছে।

পরে উপায় না পেয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করার জন্য ডেমোক্রেট শিবিরের কংগ্রেস স্পিকার ডেমোক্রেট ন্যান্সি পেলোসিকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু পেলোসি ট্রাম্পকে দেয়াল নির্মাণে কোনো টাকাই ব্যয় করবে না বলে স্রেফ জানিয়ে দিয়েছে।

তবে দেয়াল নির্মাণ ব্যতিরেকে সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য ১৩০ কোটি ডলার দিতে আগ্রহী ছিল কংগ্রেস। তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ডেমোক্রেটরা মনে করছে আমেরিকাকে নিরাপদ ও সুরক্ষার জন্য আরও অনেক জাতীয় খাত রয়েছে সেখানটাতে ট্রাম্পের মনোযোগ দেওয়া উচিত।

কিছুদিন আগে অচলাবস্থা চলাকালে ট্রাম্প জাতির উদ্দেশ্য বক্তৃতা দেয় মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ প্রসঙ্গে যদিও ডেমোক্রেট তথা আপামর জনগণের ভীতি ছিল "জরুরী অবস্থা" ঘোষণা করে কিনা ট্রাম্প!!

কিন্তু ট্রাম্প তার পুরো বক্তব্যেই স্পষ্ট করে বুঝাতে চেয়েছিল সীমান্তে পুরোদমে নিরাপত্তা না থাকায় আমেরিকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, হিউম্যান ট্রাফিকিং, ড্রাগস সহ অনেক অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করছে মেক্সিকো সীমান্তের মধ্য দিয়ে যা কিনা আমেরিকার জন্য ভয়াবহ ও হুমকিস্বরূপ।

ট্রাম্প ইচ্ছে করলেও প্রেসিডেন্সিয়াল পাওয়ার দিয়ে এই অর্থ বরাদ্দ করতে সক্ষম নয়, এর জন্য তাকে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। গত নভেম্বরে আমেরিকার বহুল প্রতিক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস তথা হাউস (আইনসভার নিম্নকক্ষ) এ রিপাবলিকানরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে যদিও সিনেটে (উচ্চকক্ষ) এখনও তা বহাল রয়েছে।

ফলে ট্রাম্প রাষ্ট্রীয় এবং বিভিন্ন খাতে বিল পাস করার জন্য পূর্বের ন্যায় ক্ষমতা প্র্যাক্টিস করতে পারছে না এবং কংগ্রেসে ডেমোক্রেট তথা প্রতিনিধি পরিষদ ন্যান্সি পেলোসির শরণাপন্ন হতে হয়। যার ফলে কার্যত দোদুল্যমান অবস্থা ছিল আমেরিকার স্বাভাবিক রাজনীতি এবং এই পরিস্থিতির বলি হতে হয়েছে আমেরিকার ফেডারেল সরকারের এক চতুর্থাংশ তথা আট লাখ কর্মকর্তাদের।

কাজেই বুঝা যাচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে এবং আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানসহ আরও অন্যান্যদের জনসমর্থন ও একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও হাসিল করাই ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্যে। অপরদিকে বিপক্ষ শিবির উদারনৈতিক ডেমোক্রেটরাও প্রমাণ করে দিল রাজনৈতিক অবস্থানে তারা কতোটা শক্তিশালী এবং বদ্ধপরিকর। যার ফলে ডেমোক্রেটদের প্রতি অনেকটা নতি স্বীকার করেই ট্রাম্প দীর্ঘ ৩৫ দিনের অচলাবস্থার নিরসন ঘটালো।

এর পেছনে দুটি কারণকে মোটাদাগে উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রথমত, জানুয়ারির ২৯ তারিখে কংগ্রেসে ট্রাম্প "স্ট্যাট অব দ্য ইউনিয়ন স্পিচ" দেওয়ার কথা ছিল যেটা আমেরিকার ইতিহাসে প্রত্যেক বছর বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে তার বক্তব্য পেশ করেন। যেহেতু কংগ্রেস ডেমোক্রেটদের দখলে ফলে ট্রাম্পের স্পিচ দেওয়ার শর্তে ডেমোক্রেটারা অচলাবস্থা নিরসন করার হুমকি দেন তাকে।

দ্বিতীয়ত, ডেমোক্রেটদের ধারাবাহিকভাবে চাপ ও ন্যান্সি পেলোসির অনড় অবস্থান। ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে রিপাবলিকানদের একাংশও শেষ মূহুর্তে এসে চাপ দিচ্ছিল কারণ ইতিমধ্যে বেতন বঞ্চিত আট লাখ কর্মকর্তা ট্রাম্পকেই দায়ী করছে এর জন্য।

তবে এখনই স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে না ট্রাম্পের মিশন ও দেয়াল বিতর্ক। যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে ট্রাম্প অচলাবস্থার ইতি টানলেন, তাতে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের জন্য তিন সপ্তাহের ব্যয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে দেয়ালের জন্য এক পয়সাও বরাদ্দ নেই। ফলে ট্রাম্প নতুন করে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে দেয়াল নির্মাণের টাকা পেতে। তা নাহলে পুনরায় অচলাবস্থা তৈরী করার হুমকি দিয়েছে।

ট্রাম্প একের পর এক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিজ দেশ ও বহিঃর্বিশ্বে বিতর্কিত ও সমালোচিত হচ্ছে যদিও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি এবং কৌশল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগামী কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটের রাজনীতিতে এগিয়ে রাখত। বরং এখন তা কিছুটা ভেস্তে গেলো এবং আমেরিকায় দীর্ঘ শাটডাউনের ফলে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল সেই দোষের ভার ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরই উল্টো বর্তাইয়াছে।

ফলে কার্যত ট্রাম্প তার রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বিষয়টি দেখিয়ে কিংবা কিসের স্বপ্ন দেখিয়ে আমেরিকাকে মহান করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও ভোটের রাজনীতিতে ডেমোক্রেটদের কোণঠাসা করবে! সেই দৃশ্যপটের সমীকরণ ট্রাম্প এখনও বিশ্ব দরবারে সমাধান করতে পারেনি বলে মনে হচ্ছে! অন্যদিকে ইতোমধ্যে ডেমোক্রেটরা তাদের রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান ট্রাম্প তথা বিশ্ব দরবারে কিছুটা হলেও প্রমাণ করতে পেরেছে যা কিনা আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে ট্রাম্পের জন্য কিছুটা ভয় ও সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কাজেই মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি কোনদিকে গড়াবে সেই প্রশ্নের উত্তর এখনই মিলছে না। নাকি শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয় ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি!

লেখক : মোঃ শাহ জালাল, শিক্ষার্থী, ৩য় বর্ষ ২য় সেমিষ্টার, ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড