• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

সকালটা শুরু হোক এক নির্মল হাসির অভিব্যক্তিতে

  অধিকার ডেস্ক    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:০০

রীজেশ বড়ুয়া
রীজেশ বড়ুয়া

'হাসি'— সৃষ্টির এক ঐশ্বরিক দান। একটি নির্মল হাসির মাঝেই প্রকাশ পায় সৌন্দর্য্য, পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা। মানুষের সবচেয়ে সুন্দর দিকটাই হচ্ছে তার হাসি। তা সে কিন্তু যেমন তেমন হাসি হলে চলবে না, হোক নির্মল এক হাসি যা আমাদের অন্তরাত্মা থেকে আসে।

তা একটি সুন্দর সাধারণ নির্মল হাসির মূল্য কত জানেন? পৃথিবীর সকল ব্যাংকের টাকা এক করেও তা কিন্তু পাওয়া যাবে না। মানুষের সাথে অন্যসব প্রাণীদের পার্থক্যই হলো এই হাসি। পৃথিবীতে এই এক ভাষাই আছে যা সকল মানুষ, সকল জাতি বোঝে। যখনই আমরা কোনো সুখী মানুষের কথা কল্পনা করি তখনই আমাদের কল্পনার মাঝে হাস্যোজ্জ্বল এক ব্যক্তির অভিব্যক্তি দেখতে পাই। কেননা কেবল সুখী মানুষরাই হাসতে জানে। যারা হাসতে জানে তারাই সুখী।

তাহলে বোঝা যাচ্ছে হাসতে পারার সাথে সুখের একটা অন্তর্নিহিত সম্পর্ক আছে। আমরা অনেক সময় বলি যে মানুষটা খুব হাসিখুশি। তার মানে দাঁড়ায় যে মানুষটা হয়তো খুব সুখী কিংবা আনন্দিত যার ফলে তার মুখ হতে ক্রমাগত হাসির ছটা বের হচ্ছে। হাসতে পারাটা অনেক বড় একটা গুণ। এটাকে আয়ত্ব করতে পারাটাও কিন্তু একটা আর্ট। খেয়াল করে দেখবেন যে চেহারা যেমনই হোক না কেন হাসলে কিন্তু মানুষটাকে দেখতে ভাল লাগে। ঐ যে কথায় বলে না যে হাসিতে তার যেন মুক্তো ঝরে। হাসির সঙ্গে মুখ হতে যে শব্দ বের হয় তা শুনতেও ভালো লাগে।

অনেক কঠিন রোগের ওষুধও কিন্তু এই হাসি। মানুষ যখন হাসে তখন তার ভেতরে কোনো দুশ্চিন্তাই কাজ করে না বরং তার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। হাসির মাধ্যমে অনেক অসাধ্যও সাধন করা যায় সহজেই কিন্তু। অন্যের হৃদয়ে স্থান পাওয়া যায়; অন্যের হৃদয় হরণও করা যায় (আমি নিজেই তার জলজ্যান্ত উদাহরণ)। মানুষ যদি সাফল্যের স্বীকৃতি পেতে চায় তাহলে এই নির্মল হাসিই হল তার অন্যতম একটি উপায়।

হাসলে কোনো অন্যায়ের চিন্তা পর্যন্ত মাথায় আসে না। মানুষ তার রাগ সংবরণ করতে না পারলে, হতাশায় অবস্থানকালে কিংবা লোভের বশবর্তী হয়েই কিন্তু অন্যায়ে যুক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু একটা ব্যাপার এই নির্মল হাসিই কিন্তু মানুষের মনে নির্মল আনন্দ সঞ্চার করে যা তাকে সুখী মানুষে রূপান্তর করে, মনে স্বস্তি দেয় আর যার দরুন তার অন্যায়ের তীব্র ইচ্ছাও প্রশমিত হতে থাকে।

হাসলে কাউকে কষ্ট দেয়া তো দূরের কথা একটি সুন্দর হাসি দিয়েই কিন্তু মনের মানুষের যত রাগ, মান-অভিমান ভাঙ্গানো সম্ভব। সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর যদি দেখা যায় বাড়ির সবাই হাসিমুখে তাকিয়ে আছে তাহলে কি আর শরীরে ক্লান্তি অবসাদ থাকে? যে পরিবারের সবাই সারাদিন হাসিমুখে থাকে, সে পরিবারে কখনও অশান্তির ছোঁয়া পাওয়া যায় না।

পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে হাসি প্র্যাকটিস করানোর জন্য লাফিং ক্লাব আছে। কেননা বিক্রেতাদের জন্য হাসি হল পুঁজি। যে বিক্রেতার মুখে হাসি থাকে তার বিক্রির পরিমাণ হয় অনেক বেশি। আর ক্রেতারাও তার দোকানে ভীড় জমায় বেশি।

হাসতে তো ভাই টাকা খরচ হয় না। তাহলে হাসতে মানা কোথায়? হ্যাঁ আপনি বলতে পারেন যে তাহলে কি আমি কোনো কারণ ছাড়াই হাসব? অবশ্যই না, অকারণে হাসার কোনো দরকার নেই কিন্তু কারণটা তৈরী করে হাসাহাসি করা কি আদৌ অসম্ভব কিছু? আবার দেখবেন অতিরিক্ত হাসি কিন্তু অপরজনের মনে সন্দেহেরও সৃষ্টি করে।

একটি নির্মল হাসির মাধ্যমে শুধু আনন্দ কিংবা সুখ নয় ভালোবাসাও বোঝানো যায়। একটা সুন্দর ভালোবাসা মাখা মিষ্টি হাসি স্বামী-স্ত্রীর সারাদিনের ঝগড়া মেটাতে টনিকের কাজ করে। হাসি হল প্রকৃত সুখের শ্রেষ্ঠ আত্মপ্রকাশ। আপনি আপনার পরিবারকে কতটুকু সুখী করতে পারছেন তা নির্ভর করছে কিন্তু আপনি তাদেরকে কতটুকু হাসিখুশি রাখতে পারছেন। অন্যকে হাসালে নিজের ভেতরেও যে এক নির্মল আনন্দের সৃষ্টি হয় যা পরীক্ষিত সত্য আর তাই তাকে সবাই পছন্দ করে।

আমরা ছবি তোলার সময় ক্যামেরার সামনে হাসি মুখে দাঁড়াই কেন? এর কারণ আমরা এমন কোনো ছবি তুলতে চাইনা যা কারো ভালো না লাগে। তাই সবসময় মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখা এক বিশেষ গুণ আপনার যেন আপনাকে দেখে অন্যের মাঝেও সেই নির্মল আনন্দের সঞ্চার হয়।

সুন্দর নির্মল হাসি একটি মানুষের অমূল্য সম্পদ। 'যত হাসি তত কান্না'- এ কথাটিকে যদি সত্যবচন মনে করে আপনি আপনার চাঁদ বদনখানি গোমড়ামুখো করে রাখেন তবে আপনার কপালে কান্না ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। যে ব্যক্তি সুখী হতে ভয় পায় তার ভেতরে কখনোই সুখ আসে না।

শিশুদেরকে আমরা সবাই কমবেশি ভালবাসি ও আদর করি কেন জানেন ? শিশুরা প্রায় সব সময়ই তাদের নিষ্পাপ হাসি দিয়ে আমাদের মন ভরিয়ে রাখে। আর শিশুরা কেন এত হাসি খুশি থাকে? কারণ তারা বাড়তি চাপ নেয় না। জানেই না এই চাপ কি জিনিস? এ পৃথিবীর সকল জাগতিক চিন্তা বাদ দিলে হাসিখুশি থাকা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তবে আসুন এখন থেকে আমরা সকাল বেলা যখনই ঘুম থেকে উঠবো সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে খুব সুন্দর নির্মল একটি হাসি দিয়ে দিনটি শুরু করবো।

লেখক : রীজেশ বড়ুয়া।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড